রবিবার, মার্চ ৩১, ২০১৯

ঘাটাইলের কেন্দ্রে ভোটার নেই!


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ রোববার (৩১ মার্চ)। ভোট কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশগুলোতেই ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে।

সংবাদ কর্মীদের পাঠানো উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রগুলোর চিত্র থেকে জানা গেছে, সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধির কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে তেমনটা দেখা যায়নি। বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্রাম্মনশাসন কেন্দ্র, সরাবাড়ী কেন্দ্র, লক্ষ্মীন্দর কেন্দ্র, মোমিনপুর কেন্দ্র, মুরাইদ কেন্দ্র ইত্যাদিতে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম বা একেবারেরই নাই বললেই চলে। অপরদিকে ঘাটাইল পৌরসভার হাইস্কুল কেন্দ্র, রতনপুর কেন্দ্র, মুকুল একাডেমী কেন্দ্র, চান্দশি কেন্দ্র ইত্যাদিতে ভোটার উপস্থিতি একটু বেশী, তবে অনেক বেশী নয়। কোথাও কোথাও মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, কোন কোন কেন্দ্রে আবার মহিলাদের উপস্থিতি কম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপালনরত একজন জানান, আমাদের কেন্দ্রে দেড় ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র দুইটি। তবে আশা করা যাচ্ছে দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার তিন পদে প্রার্থী ১৯ জন। প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচার প্রচারনাও চালিয়েছেন যথারীতি। তবুও ভোটার উপস্থিতি কম থাকার কারণে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে কয়েকজন রাজনীতিক ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের।

ঘাটাইলে একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে এক লাখ ৫৮হাজার ৭৬৭ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১৯টি। উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সখীপু‌রে ভোট কেন্দ্রে নৌকার এজেন্টের মৃত্যু

টাঙ্গাই‌লের সখীপু‌রে ভোট কেন্দ্রে দা‌য়িত্ব পালনকা‌লে হৃদ‌রো‌গে আক্রান্ত হ‌য়ে ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম রাজা (৪০) মারা গেছেন। র‌বিবার সকাল সা‌ড়ে নয়টায় উপ‌জেলার বহেড়া‌তৈল ইউনিয়‌নের যোগির‌কোপা ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘ‌টে।


তি‌নি ওই ইউনিয়‌নের ২ নম্বর ওয়া‌র্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। তি‌নি নৌকা প্রতী‌কের এজেন্ট হি‌সে‌বে দা‌য়িত্ব পালন কর‌ছি‌লেন।

যো‌গিরকোপা পূর্বপাড়া এব‌তেদায়ী মাদ্রাসা কে‌ন্দ্রের প্রিজাই‌ডিং অফিসার পার্থ সারথী গোস্বামী ব‌লেন, ওই ইউপি সদস্য এজেন্ট দা‌য়িত্ব পালনকা‌লে সকাল সা‌ড়ে নয়টায় ভোট কেন্দ্রে জ্ঞান হা‌রি‌য়ে ফে‌লেন। অসুস্থ অবস্থায় তা‌কে সখীপুর উপ‌জেলা স্বাস্থ্য কম‌প্লে‌ক্সে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য কম‌প্লে‌ক্সে‌ নেয়ার পর জরু‌রি বিভা‌গের চি‌কিত্সকরা তা‌কে মৃত ঘোষণা ক‌রেন। ব‌হেড়া‌তৈল ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফের‌দৌস ঘটনার সত্যতা নি‌শ্চিত করেছেন।

শনিবার, মার্চ ৩০, ২০১৯

ঘাটাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ী ভাংচুর, প্রতিবাদে এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ তুহিন আব্দুল্লাহর ছেলে সৈয়দ এহসান আব্দুল্লাহর গাড়ীতে হামলার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩০ মার্চ) ভোরে উপজেলার ধলাপাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের অফিসের সামনে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মাহাসড়কে জাকারিয়া এ্যাপারেলসের সামনে বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে।

অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঘাটাইল থানা ওসি মাকছুদুল আলমের আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা অবরোধ তুলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

মিতালী গ্রুপের এমডি স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসান আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার উপজেলার লক্ষিন্দর, সাগরদিঘী ও রসুলপুর ইউনিয়নে তার নির্বচনী অফিস ভাংচুর করে ও ব্যানার পোস্টার ছিড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

তিনি অভিযোগ করেন, তার কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উড়োজাহাজে নির্বাচন না করার হুমকি দেয়। খবর পেয়ে তিনি আজ শনিবার ভোরে উক্ত এলাকা পরিাদর্শনের জন্য রওনা দেন। যাওয়ার পথে ধলাপাড়া এলাকায় পৌছলে দুর্বত্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার গাড়ি বহরে হামলা চালায় ও তার গাড়ি ভাংচুর করে।

প্রবাস জীবনে কষ্টের মাঝেও সুখ

প্রবাসীদের জীবন কেমন কাটে? এ প্রশ্নটা অনেকেরই। কারও কারও রয়েছে বিশেষ কৌতূহল। অন্তত যাঁরা প্রবাসী নন। কৌতূহলটা তাঁদেরই বেশি যাঁদের স্বজনেরা প্রবাসী। আমজনতার আগ্রহ যে নেই, তা নয়। তা ক্ষেত্রবিশেষে। তাঁদেরও কৌতূহল হয়, যখন কোনো প্রবাসী হয়ে ওঠে সেলিব্রেটি।

আমরা বাঙালি প্রবাসীরা কেমন আছি? ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বললে কীভাবে কাটছে আমাদের জীবন? দেশের অস্থিতিশীল গুমোট রাজনৈতিক পরিবেশের বাইরে থেকে আমরা কী খুব ভালো আছি? দেশ ও স্বজনদের দূরে রেখে আমাদের প্রবাসজীবন কী খুব স্বস্তিতে কাটছে? নাকি সোনার হরিণের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরাও ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। এই প্রশ্নগুলো করার পেছনে অন্য কোনো অযাচিত উদ্দেশ্য নেই। সুখ-দুঃখ আর কষ্টের অনুভূতিগুলো বলার প্রয়াসমাত্র। কারণ, কারও কাছে যাপিত জীবন বড্ড বেশি অহংকারী। কারও কাছে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রবাস মানেই কি নিঃসঙ্গতা? একাকিত্ব? নাকি প্রবাস মানেই হাড়ভাঙা পরিশ্রম। কেমন কাটে প্রবাসজীবন? কেউ বলে মলিন নয়তো ফ্যাকাশে। কেউ বলে পানসে। কারও কাছে রোমাঞ্চকর, অতিমাত্রায় স্বাধীনতা। কারও কাছে জীবনের সোনালি অধ্যায়ের যাত্রা শুরু কেউ ভাবছে, এই তো চলছি সোনার হরিণের পেছনে। আবার কেউ ফেলে দীর্ঘনিঃশ্বাস। যেন কোনো এক নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত। এই ভিন্ন ভিন্ন ভাবনাগুলো তাদের, যারা প্রবাসী। আর যাঁরা প্রবাসী নন, তাঁদের ধারণাটা কেমন প্রবাসীদের সম্পর্কে? এটা আমার পক্ষে বলা মুশকিল হলেও কিছুটা তো উপলব্ধি করতে পারি। তাই বলছি। যত দূর উপলব্ধি করেছি, প্রবাসী সম্পর্কে অপ্রবাসীদের ধারণা পুরোটাই অর্থকেন্দ্রিক। অর্থাৎ, প্রবাসী মানে অঢেল অর্থ উপার্জনের কারিগর। স্বজনেরা অন্তত ওই একটি বিষয়ে পরোপুরি সজাগ। প্রবাসী মানে, থাকবে অর্থিক সচ্ছলতা। এই ধারণাটা মোটেই ভুল নয়। কিংবা নতুন কিছু নয়। এটা তো ঠিক বাংলাদেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর চাবিকাঠি তো দীর্ঘকাল ধরেই প্রবাসীদের নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ ব্যাংক বছর ঘুরে গুনছে হাজার কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা! তাই বুঝতে কারও কষ্ট হয় না, প্রবাসী মানে হাড়ভাঙা পরিশ্রমী একদল খেটে খাওয়া মানুষ।

মালয়েশিয়া প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি থেকেই ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ এক রেমিটেন্স যোদ্ধা সেলিব্রেটিকে নিয়ে আজকের এই লেখা। পরিবারের সুখের আশায় গত দুই যুগেরও বেশি সময় মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৭০ বছর বয়সী বাংলাদেশি আবু বকর। প্রবাস জীবনের এই দীর্ঘ সময়ে একবারের জন্যও দেশে যেতে পারেননি তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে একদিনের জন্যও কাজ থেকে ছুটি নেননি এই প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা।



সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক হিউম্যান অব কুয়ালালামপুর নামের একটি পেজে এই বাংলাদেশির প্রবাস জীবনের সংগ্রামের কথা লিখা হয়। দেশটিতে কর্মরত প্রবীণ এই প্রবাসী বলেছেন, ২৭ বছর তার পঞ্চম সন্তানকে মাত্র ৬ মাস বয়সে রেখে মালয়েশিয়া এসেছিলেন। তারপর আর দেশে যাওয়া হয়নি। আমার পরিবারকে মিস করি এবং তারাও আমাকে মিস করে। তবে আমার এই ত্যাগ তাদের জন্য এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য।

প্রবীণ এই রেমিটেন্স যোদ্ধা জানিয়েছে, বর্তমানে তার মেয়েদের একজন বিচারক, একসন্তান প্রকৌশলী এবং অন্য একজন ডাক্তার। সন্তানদের এই সফলতাকে প্রবাস জীবনের বড় অর্জন হিসেবে দেখেন তিনি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সন্তানদের প্রতিও।

প্রবীণ এই প্রবাসী বলছিলেন, আমি মালয়েশিয়ায় অসার আগে শুনেছি এখানে প্রচুর কাজ। এমন কোনো কাজও যদি থাকে যা কেউ করতে চায় না, তা আমি করবো। আমি একবারের জন্যও অসুস্থতার ছুটি নেইনি, ইনশাআল্লাহ আমি এখনও শক্তিশালী।

তিনি আরও বলেছেন, তার প্রয়োজন খুব সামান্য। উপার্জনের বেশির ভাগ অংশই পরিবারের জন্য পাঠিয়ে দেন। সকালের নাস্তা করে কাজ করতে চলে যান, আবার ফিরে আসেন। পরিবারের সাথে প্রতিদিনি ফোনে কথা বলেন, বিশ্রাম নেন। পরের দিন আবার একই ভাবে দিন চলে যায় এই প্রবাসীর। দেশে ফিরে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ দেখিয়ে, এ বছরের ডিসেম্বর মাসে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পাওয়ার সাথে সাথে দুই নাতিকেও প্রথম দেখবেন।

রাত পোহালেই ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের উত্তাপের ভোট

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামিকাল (৩১ মার্চ) রোববার। নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা গ্রামগঞ্জে, অলিতে গলিতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যায় গোটা উপজেলা, প্রচারণা মাইকিংয়ের শব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে, তথাপিও অনেকটাই সহিংসতা মুক্ত প্রচারণা শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ঘাটাইলবাসী। অপেক্ষা এখন ভোট গ্রহণের, রাত পোহালেই ভোট।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা ছিনিয়ে আনেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু। তাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখেন বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন (আনারস), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হেস্টিংস (মোটরসাইকেল), জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি তুহিন আবদুল্লাহর ছেলে মিতালী গ্রুপের এমডি সৈয়দ এহসান আবদুল্লাহ (হেলিকপ্টার), আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম খান জনি (ঘোড়া) সহ জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান খান (গোলাপ ফুল)। এদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম হেস্টিংস (মোটরসাইকেল) নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিএনপি এই নির্বাচনে কোন প্রার্থী না দিলেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা রীতিমত এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আওয়ামী লীগেরই একাধিক প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে। শেষ পর্যন্ত কে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ের মালা গলায় পড়বেন সে জন্যে ঘাটাইলবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল রাত পর্যন্ত। এদিকে ঘাটাইলে এবারের উপজেলা নির্বাচনী উত্তাপ উত্তেজনা ইতোপূর্বের সকল উপজেলা নির্বাচনের উত্তাপকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

এই উপজেলা নির্বাচনে তিনটি পদের বিপরীতে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে ৬ জন চেয়ারম্যান, ৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৮ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী মাঠে।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন প্রার্থী। তারা হলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন (টিউবওয়েল), যুবলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ (চশমা), যুবলীগ নেতা সুমন খান বাবু (টিয়া), কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সহ সভাপতি সজীব সরকার (মাইক), শিল্পপতি কাজী আরজু (তালা)। এছাড়া এম এম সোয়েব এবং তুহীন খান তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আট জন প্রার্থী। তারা হলেন, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা (হাঁস), উপজেলা মহিলা লীগের নেত্রী নুরজাহান সিদ্দিকা (ফুটবল), ঘাটাইল পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ কবির হোসেনের সহধর্মিণী শাহিনা আক্তার শিল্পী (সেলাইমেশিন), উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগে সিনিয়র সহ সভাপতি আবু মোঃ শোয়েব ডন এর সহধর্মিণী মীর আলেয়া পারভীন (বৈদ্যুতিক পাখা),  তাসলিমা জেসমিন (প্রজাপতি), মরিয়ম আক্তার (ফুলদানী), আফিয়া বেগম (পদ্মফুল) এবং ফাহিমা তালুকদার (কলসি)।

ঘাটাইল পৌরসভার ভোটার তুষার আহমেদ বলেন, আমরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চাই। প্রশাসন আমাদের সুষ্ঠু ভোট প্রদানের ব্যবস্থাটুকু করলে আমরা অবশ্যই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবো এবং আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটে জয়যুক্ত করবো।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে এক লাখ ৫৮হাজার ৭৬৭ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১৯টি।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার লক্ষে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। কোনো প্রকার অনিয়ম ও পেশিশক্তির অপব্যবহার এখানে সহ্য করা হবে না।

ঘাটাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। মো. নুরুল ইসলাম নামের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

জানা যায়, ঘাটাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে মো. নুরুল ইসলাম ২০১৮ সালে অক্টোবর মাসে যোগদান করেন। যোগদানের পরই গত বছর সমাপনী পরীক্ষায় নিম্নমানের খাতা দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের তৈরি নিয়মে চলেন এই কর্মকর্তা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নীতিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদ শূন্য হলে সাত দিন আগেই তা নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে রাখতে হবে এবং শূন্য পদের বিপরিতে যদি একাধিক প্রার্থী থাকে তাহলে জৈষ্ঠ্যজনকে বদলি করতে হবে। কিন্তু এই নীতিমালা অনুসরণ না করেই চলিত মাসে প্রায় চল্লিশ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে টাকার মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আর এ বদলির ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকার ঘুষ নিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা দিলোয়ারা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, আমি তার কাছে আমার বদলির বিষয়ে সুপারিশ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ৪০ হাজার টাকা লাগবে বলে তিনি দাবি করেন।

ঝুনকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বলেন, আমি বদলির জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু টাকা দিতে পারিনি বলে অন্য শিক্ষককে টাকার মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, তার কাছে কোনো কাজ নিয়ে যাওয়া হলে তিনি টাকা চেয়ে বসেন। তার এই অনিয়ম, দুর্নীতির কথা প্রতিবাদ করলেই তিনি দূরে বদলি করানোর হুমকি দেন। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ এই দুর্নীতিবাজ অফিসারের হাত থেকে আমরা ঘাটাইলের সকল শিক্ষক পরিত্রাণ চাই।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘাটাইল প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: নুরুল ইসলাম বলেন, এখানে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী চলছে।

শুক্রবার, মার্চ ২৯, ২০১৯

ঘাটাইলের উইজডম ভ্যালিতে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের অনন্য শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালিতে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার ২৯ মার্চ সারাদিন ব্যাপি এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ্অনুষ্ঠিত এ উৎসবের  উদ্বোধন করেন, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান।

দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হয় এ সাংস্কৃতিক উৎসব ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকমন্ডলী ও আমন্ত্রিত অতিথীরা এ উৎসবে অংশ নেন। আমন্ত্রিত অতিথীরা উৎসবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতায়  অংশগ্রহনকারী বিজয়ীদের মধ্যে  পুরস্কার বিতরণ  করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন  বিশিষ্ট কবি ও আবৃত্তিকার তরুন ইউসুফ,  কবি ও সাংবাদিক অরন্য ইমতিয়াজ, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাজী রেজাউল হক সিজার, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী   উপাধক্ষ্য মেহেরুন্নাহার বাবলী প্রমূখ।

প্রতারণার হাজারটা অভিযোগ থাকলেও, তার চুলটাও কেউ বাঁকা করতে পারেনি!

দেওয়ানবাগী পীরের উত্থান ঠিক কবে থেকে, সেটা নিয়ে একাধিক মত আছে। তবে মোটামুটি আশির দশক থেকেই রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের পেছনে বড়সড় জায়গায় তার জাঁকিয়ে বসা শুরু। পীরের তো মুরিদের অভাব হয় না, দেওয়ানবাগী নিজেকে পীর হিসেবে ঘোষণা করার পরেও মুরিদের অভাব হলো না। এই দেশে বাপে খেদানো মায়ে তাড়ানো অকাজের ঢেঁকি টাইপের লোকজনের তো অভাব নেই, সেরকমই অনেকে তার মুরিদ হয়ে গেল, দুইবেলা অন্নের ব্যবস্থা তো হচ্ছে তাতে!

অনেকেই তাকে আদর করে ডাকে ‘খোদার খাসি’। শরীরের বিশাল সাইজের কারণেই এই নাম দেয়া। তবে তার ভক্ত-আশেকানদের কাছে তিনি হচ্ছেন স্রষ্টার পাঠানো বিশেষ দূত। মাথামোটা লোকগুলো তাকে নবীর মতো সম্মান করে, ক্ষেত্রবিশেষে মহানবীর চেয়েও ওপরের আসনে তুলে ফেলে(নাউজুবিল্লাহ)! ঢাকা শহরের একদম কেন্দ্রস্থল মতিঝিলে বিশাল একটা জায়গা জুড়ে তার আস্তানা, যে শহরে মানুষের পা রাখার জায়গা নেই সেখানে তিনি উটের খামার গড়ে তুলেছেন! মুরিদদের কাছে তার পরিচয়, তিনি দেওয়ানবাগী পীর মাহবুবে খোদা! তবে বেশিরভাগ লোকজন তাকে ধর্ম ব্যবসায়ী এক ভণ্ড প্রতারক হিসেবেই জানে। অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে, প্রতারণার হাজারটা অভিযোগ থাকলেও, আজ পর্যন্ত তার চুলটাও বাঁকা করতে পারেনি কেউ!

দেওয়ানবাগীর জন্ম ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়ায়, সম্ভবত ১৯৪৯ সালে। নিজেকে আগে কখনও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতো না সে, তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে নামের আগে দশ-বারোটা টাইটেলের সঙ্গে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ টাইটেলটাও যুক্ত করে নিয়েছেন তিনি। দেওয়ানবাগী পীর তো এমঅনটাও দাবী করেন যে, তার ভবিষ্যতবাণীর কারণেই নাকি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল! আরামবাগ-কমলাপুর থেকে শুরু করে মুগদা-বাসাবো আর মতিঝিলের রাস্তার পাশে দেয়ালগুলো তার ‘আশেকে রাসুল (সা) সম্মেলনের বিজ্ঞাপনে ভরে যায়। কি হয় এসব সম্মেলনে?

কয়েকশো মাইক লাগিয়ে সেখানে দেওয়ানবাগীর মহৎ গুণাবলী প্রচার করা হয়, বাজানো হয় তার রেকর্ডেড বক্তব্য। তিনি নিজেও বক্তৃতা করেন, দাবী করেন, প্রায়শই নাকি নবীজির সাথে তার দেখা সাক্ষাত হয়! মাঝে মধ্যে আল্লাহ্‌র সাথেও তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাৎচিত হয়! এসব কথাবার্তা শুনলে কার মেজাজটা না গরম হবে? কিন্ত মাথায় গোবরের দলা নিয়ে বসে থাকা তার কয়েকশো মুরিদ এগুলো শুনে উল্টো উৎফুল্ল হয়ে ওঠে! দেওয়ানবাগী পীরের নামে জয়ধ্বনি দেয়!

শুধু যে ওয়াজ-বক্তৃতাই করেন দেওয়ানবাগী, এমনটা নয়। হাদীয়ার বিনিময়ে ভবিষ্যতবাণীও করতেন একটা সময়ে, ইদানিং অসুস্থ থাকায় সেটা বন্ধ আছে। দেওয়ানবাগী শরীফ থেজে তার চিন্তাভাবনাগুলো নিয়ে বইও লিখেছেন তিনি, সেসব বই পড়লে অনেকের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যেতে পারে, দেওয়ানবাগীকে বদ্ধ উন্মাদও ভাবতে পারেন অনেকেই। তার লেখা বই থেকে দুটো অনুচ্ছেদ শোনানো যাক আপনাদের।

১. “একদা আমি(দেওয়ানবাগী) স্বপ্নে দেখিলাম, ঢাকা এবং ফরিদপুরের মধ্যবর্তী স্থানে এক বিশাল বাগানে ময়লার স্তূপের উপর বিবস্ত্র অবস্থায় নবীজীর প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে। মাথা দক্ষিন দিকে, পা উত্তর দিকে প্রসারিত। বাম পা হাঁটুতে ভাঁজ হয়ে খাড়া আছে। আমি তাহাকে উদ্ধারের জন্য পেরেশান হইয়া গেলাম। তাহার বাম পায়ের হাঁটুতে আমার ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করার সাথে সাথে দেহে প্রাণ ফিরে এল। এবং তিনি আমাকে বলিলেন, ”হে ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী, ইতিপূর্বে আমার ধর্ম পাঁচবার পুনর্জীবন লাভ করেছে।” (সূত্র: রাসূল কি সত্যিই গরিব ছিলেন-দেওয়ানবাগ থেকে প্রকাশিত)

২. “আমার অসংখ্য মুরিদান স্বপ্ন ও কাশফের মাধ্যমে আল্লাহর দীদার লাভ করেছে। আমার স্ত্রী হামিদা বেগম ও আমার কন্যা তাহমিনা এ খোদা স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহকে দাড়ী গোফ বিহীন যুবকের ন্যায় দেখতে পায়।” (সূত্রঃ আল্লাহ কোন পথে : ২৩)

৩. সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন “শুধু আমি নই, আমার স্ত্রী কন্যা সহ লক্ষ্য লক্ষ্য মুরিদানও আল্লাহকে দেখেছেন” (সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ)

৪. “দেওয়ানবাগে আল্লাহ ও সমস্ত নবী রাসূল, ফেরেস্তারা মিছিল করে এবং আল্লাহ নিজে শ্লোগান দেন।” (সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ, মার্চ ১৯৯৯)

আল্লাহ নাকি রাসূল (সা) কে নির্দেশ দিয়েছেন, দেওয়ানবাগীকে সঙ্গে নিয়ে জান্নাতের পথে মিছিল করতে! দেওয়ানবাগী হুজুরের হজ করার প্রয়োজন হয় না, কারণ মহানবী তাকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেছেন, কাবা শরীফকে নিয়ে তিনি নাকি সর্বক্ষণ দেওয়ানবাগীর সঙ্গেই থাকেন! এমন উদ্ভট আর অযৌক্তিক সব কথাবার্তা শুনলে লোকটাকে পাগল বা মস্তিস্কবিকৃত হিসেবে আখ্যা দিতে পারেন অনেকেই। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে, এসব কথাবার্তা বলেও দেওয়ানবাগী পীর মতিঝিলের মতো জায়গায় সফলভাবেই তার ধর্মব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন যুগের পর যুগ ধরে।

এমপি-মন্ত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনৈতিক নেতা, আর্মি অফিসার, পুলিশের বড় কর্তা কিংবা সরকারী আমলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও আছেন তার মুরিদের লিস্টে। এতসব শিক্ষিত লোকজন যখন বুঝে বা না বুঝে এই ধর্মব্যবসায় শামিল হয়ে যান, তখন করার আর কিছুই থাকে না। দেওয়ানবাগীর এসব ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তাই কেউ জোন ব্যবস্থাও নেয় না, কারণ সব জায়গাতেই তার লোকজন আছে! উটের দুধ আর মুত্র বিক্রি করেই প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় হয় তার। লোকজন মানত করে তার দরবারে এসে, সদকা হিসেবে টাকা পয়সা থেকে শুরু করে গরু-ছাগল-মুরগী, আরও কত কিছু যে দান করে যায়, সেসবের কোন ইয়ত্তা নেই।

ইসলাম শান্তির ধর্ম, তবে এই ধর্মটাকে উপমহাদেশে ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে অনেকেই। নিজের সুবিধামতো ইসলামের উল্টোপাল্টা সংজ্ঞা আর নিয়মকানুন বের করে সেই মোতাবেক ধর্মপালন করছে তারা। নিজেদের নবী-রাসূল পর্যন্ত ঘোষণা করে দিতে দ্বিধাবোধ করছে না। আর এসবের উদ্দেশ্য একটাই, মানুষজনকে ধর্মের জুজু দেখিয়ে বোকা বানিয়ে টাকার পাহাড় গড়া। ধারণা করা হয়, স্থাবর আর অস্থাবর মিলিয়ে দেওয়ানবাগী পীরের মোট সম্পত্তির মূল্যমান প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা, কিন্ত দুদক কোনদিন এই অবৈধ সম্পত্তির খোঁজ পাবে না, পেলেও সেই তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার সব চেষ্টাই করা হবে নিশ্চয়ই। অসাধু লোকজনই যে এদেশে বেশি ক্ষমতাবান। আর তাই লালসালুর মজিদেরা হারিয়ে যায় না, তারা টিকে থাকে দেওয়ানবাগীদের মাঝেই।

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৮, ২০১৯

ঘাটাইলের হামিদপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর মিছিল, সমাবেশ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম লেবুকে বিজয়ের লক্ষ্যে উপজেলার দিগড় ও দিগলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর বাজারের এ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলটি হামিদপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হামিদপুর আওয়ামী লীগ অফিসে এসে শেষ হয়। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সভাপতিত্বে হামিদপুর আওয়ামী লীগ অফিসে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এস আকবর খান, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রিপন মিয়া, উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান আজাদ, পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান প্রমুখ।

এফ আর টাওয়ারে আগুন, রশি বেয়ে নামার চেষ্টা!

রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। এতে অনেকেই আটকা পড়ে রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রত্যক্ষদর্শী। আগুন লাগার পর টাওয়ারটি থেকে ও পাশের বিল্ডিংগুলো থেকে রশি বেয়ে নামতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। এছাড়া অনেকে বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়েছেন।

এফ আর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান বলেন, বড় ধরনের আগুন লেগেছে বনানীর এফ আর টাওয়ারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৩টি ইউনিট এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে রয়েছে। আরো ইউনিট পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তাৎক্ষনিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।

২৬ তলায় আটকে থাকা ইকো লাইন শিপিং করপোরেশনের অ্যাসিট্যান্ট ম্যানেজার দীপক কুমার দাসের ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ভেতরে অনেকেই আটকে আছে। বের হতে পারছে না। আমার ভাই একমাত্র বের হয়ে ছাদে যেতে পেরেছে। ধোঁয়ার কারণে কষ্ট হচ্ছে সবার।