বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৪, ২০১৬

ক্ষমতার দাপটেই ক্ষমতাচ্যুত এমপি রানাসহ চার ভাই!

রেজাউল করিম, ঢাকাটাইমস টাঙ্গাইল: আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক হত্যা মামলায়  দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন দলের প্রভাবশালী নেতা এমপি রানাসহ তার চার ভাই। অর্ধশত মামলা কাঁধে নিয়েও খান পরিবারের এই চার সহোদর পুরো টাঙ্গাইলে রাজত্ব করেছেন নির্বিঘ্নে। সেই রাজত্ব এখন অতীত হতে চলেছে।

ক্ষমতাসীন দলসংশ্লিষ্ট এই চার সহোদর হলেন ঘাটাইল আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা), টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) ।

জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে যেকোনো সময় তারা দল থেকে বহিষ্কার হতে পারেন।

টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগের অপর এক শক্তি সিদ্দিকী পরিবারকে কোণঠাসা করে পুরো টাঙ্গাইল জেলা রাজত্ব করেন প্রভাশালী এই চার ভাই। ১৯৯৯ সালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে পরে নতুন দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেন। এরপর থেকেই সিদ্দিকী পরিবারের সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।  জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব চলে আসে খান পরিবারের হাতে।

বিভিন্ন সময় নানা কর্মকাণ্ডের জন্য অর্ধশতাধিক মামলা কাঁধে নিয়েও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতেন খান পরিবারের চার ভাই। অবশেষে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মুক্তিযোদ্ধা  ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় ফেঁসে যান তারা। নিজেদের তৈরি কর্মী রাজা পুলিশের হাতে আটক হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর থেকে তারা আত্মগোপনে। এই চার ভাইকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি জানিয়ে আসছেন।

তবে সিদ্দিকী পরিবারের বিকল্প হিসেবে এই শক্তির উত্থানকে প্রথম দিকে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত দেড় দশকে এই পরিবারের কর্মকাণ্ডে তাদের প্রতি জনগণ হতাশ। পরিবারটি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগসহ সব অঙ্গসংগঠন ধীরে ধীরে দখলে নেয়ার পরও সাধারণ নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন থাকতে পারেনি। টেন্ডারবাজি থেকে জেলার সব কর্মকাণ্ড তাদের হাতের ছোঁয়া পেতে থাকে। তাদের অতি দাপটেই তারা এখন ক্ষমতাচ্যুত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, যেকোনো সময় দল থেকে বহিষ্কার হতে পারেন প্রভাবশালী এই চার নেতা।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ঢাকাটাইমসকে বলেন, “খান পরিবারের এই চার নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। পুলিশের দেয়া প্রতিবেদনেও নাম রয়েছে তাদের।  মামলায় জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে। তাই বর্তমানে কোনো কমিটিতে তাদের রাখা হয়নি। তাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে।”

বহিষ্কারের গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, “বহিষ্কারের বিষয়টি কেন্দ্রের। তাদের অবস্থা জেনে কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কার করলেও করতে পারে।”

পেছন ফিরে দেখা 

নব্বইয়ের দশকে খান পরিবারের তেমন কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছিল না তেমন  প্রভাব বা পরিচিতি। আকস্মিকভাকে খান পরিবারের বড় ভাই আমিনুর রহমান খান বাপ্পী খুন হন দুর্বৃত্তদের হাতে। এর পরই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত হতে থাকে বাপ্পীর চার ভাই। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনে বিভিন্ন পদ পেতে শুরু করেন তারা। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল সদরের মেয়র পদে নির্বাচিত হন সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ঘাটাইল আসনের সাংসদ হন আমানুর রহমান খান (রানা), ব্যবসায়ী নেতা হন জাহিদুর রহমান খান (কাকন),

ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পদটি পেয়ে যান সানিয়াত খান (বাপ্পা)।

এভাবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো চলে যায় খান পরিবারের আয়ত্তে।

সবশেষে ক্ষমতার লোভেই আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদকে হত্যা করা হয়। হত্যা মামলার আটক আসামিদের জবানবন্দিতে জানা যায়, ফারুক আহমেদ বেঁচে থাকলে তার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পদটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় খুন করা হয় এই মুক্তিযোদ্ধাকে।

অর্ধশত মামলা কাঁধে থকলেও বিগত দিনগুলোতে কাবু হননি খান পরিবারের চার ভাই। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী,  বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়ার পর থেকেই টাঙ্গাইল জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জেলার সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই। অতিরিক্ত ক্ষমতার লোভেই এখন ক্ষমতাচ্যুত প্রভাবশালী চার নেতা ফেরারি হয়ে ঘুরছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অর্ধশত মামলা হলেও তার কোনো সফল বিচার প্রক্রিয়া মানুষ দেখেনি। কখনো বাদী ও সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। আবার ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’সরকার নিজেই কখনো তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা তুলে নিয়েছে। ফলে দিন দিন তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি লাগামছাড়া হতে থাকে।

তাদের এই অবাধ গতির মধ্যে প্রথম ছেদ ফেলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলা। যদিও এই মামলার বাদী ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ তার এজাহারে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করেননি; কিন্তু খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক কর্মীর জবানবন্দিতে উঠে আসে তাদের নাম।   হত্যাকাণ্ডের তিন বছর ১৫ দিন পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।  তাতে ওই চার ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ্  মোহাম্মদ তানভীর জানান, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। তাই এটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দেয়া হবে।

আদালতে জমা দেয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার খুব সম্ভাবনাও ছিল তার। অন্যদিকে পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস আগে এমপি রানা ও তার তিন ভাই মুক্তি, কাকন, বাপ্পা এবং নাছির উদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন ও আলমগীর হোসেন চান ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রানা ও তার ছোট ভাই বাপ্পা তাদের কলেজপাড়ার বাসার কাছে গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে আনিসুর রহমান রাজার মাধ্যমে ফারুককে ডেকে আনেন। সেখানে ফারুককে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থিতা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন বাপ্পা। কিন্তু ফারুক তাতে রাজি হননি। একপর্যায়ে ফারুক কক্ষ থেকে বের হয়ে বাথরুমে যান। বাথরুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে এমপি রানার ঘনিষ্ঠ কবির হোসেন তাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন।  এ সময় এমপি রানা দুই মিনিটের মধ্যে সব পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তার কথামতো রাজা, মোহাম্মদ আলী, আবদুল হক, সমীর ও কবির হোসেন ফারুকের মৃতদেহ তারই বাসার সামনে ফেলে রেখে আসেন।  সেখান থেকেই তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফিজুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে আনিসুর রহমান রাজা, মোহাম্মদ আলী, সমীর ও ফরিদ আহমেদ কারাগারে রয়েছে। এমপি রানা ও তার তিন ভাইসহ অন্য ১০ জন্য বর্তমানে পলাতক।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, খান পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে এমপি রানা ও সাবেক পৌর মেয়র মুক্তি দেশেই আত্মগোপন করে আছেন। অন্য দুই ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন মালয়েশিয়ায় এবং অপর ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন।


বুধবার, আগস্ট ০৩, ২০১৬

ঘাটাইলে মানববন্ধন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে পিডিবিকে কোম্পানীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গতকাল বুধবার সারাদেশের ন্যায় মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ আয়োজিত ঘাটাইল উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগের অফিসের সামনে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগের সকল  কর্মচারীবৃন্দ।

ঘাটাইল পৌরসভার আওয়ামী লীগ-বিএনপির মর্যাদার লড়াই

আগামী ৭ আগস্ট সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ আট পৌরসভার সঙ্গে ঘাটাইল পৌরসভার নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘাটাইলে এগিয়ে চলেছে প্রার্থীদের প্রচারণা। ভোটারদের কাছে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা। আওয়ামী লীগ-বিএনপির ভিআইপি নেতাদের মাঠে উপস্থিতি ভোটারদের নজরে এসেছে। এ অবস্থায় বিএনপি চাইছে হ্যাটট্রিক বিজয় আর আওয়ামী লীগ চাইছে জয়ের ধারায় ফিরতে। এক কথায় ঘাটাইল পৌর নির্বাচন দুই দলের মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তবে পৌর এলাকা ঘুরে ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। ভোট সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন অনেকে।
পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থী হলেন— আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান খান ভিপি শহিদ, বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মো. রফিকুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ-বিএনপি এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি গ্রুপ রয়েছে। এক পক্ষে আছে পলাতক এমপি রানার অনুসারী, অপর পক্ষে আছে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর নেতৃত্বে। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মী মিলেমিশে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভিপি শহীদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা পথসভা ও উঠান বৈঠক করে ভোট চাইছেন ভিপি শহীদের পক্ষে। এ দিকে রানা এমপির অনুসারী রফিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও বাছাইয়ে তা বাতিল হয়ে যায়। আপিল করেও তিনি মনোনয়নপত্রের বৈধতা পাননি। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে তিনিও এখন মাঠে। তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোটে তেমন প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে না আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, পৌরসভার সব নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভিপি শহিদকে জয়ী করতে কাজ করছেন। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত পৌরসভা গড়তে ঘাটাইল পৌরবাসী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। তিনি আরও বলেন, এখানে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের শঙ্কার কারণ নেই।
অন্যদিকে, জয়ের সঙ্গে ভয় ও শঙ্কাও কাজ করছে বিএনপিতে। গত পৌরসভা নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা শেষে গোলযোগ সৃষ্টি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তার রেশ ধরে সে সময় উপজেলা পরিষদে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হলে একটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরে সে কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৭ ভোটে বিএনপি প্রার্থীই জয়ী হন। এসব কারণে এবারও একই রকম শঙ্কা ও ভয় রয়েছে তাদের। দলের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও এটাকে গ্রুপিং বলতে নারাজ বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুত্ফর রহমান খান আজাদের উপস্থিতি মনোবল চাঙ্গা করেছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখম রেজাউল করিম বলেন, ‘দলে কোনো বিভেদ নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীই জয়লাভ করবেন।

মঙ্গলবার, আগস্ট ০২, ২০১৬

ঘাটাইলে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মানববন্ধন

গতকাল সোমবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন কর্মসুচির অংশ হিসাবে ঘাটাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপজেলার শতাধিক মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিশ্বদ্যিালয় কলেজ সমূহের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন কর্মসচি পালন করে। সকালে ঘাটাইল জি.বি.জি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনির নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারিও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মানববন্ধন কর্মসুচিতে অংশ নেয়। এ ছাড়া  ঘাটাইল সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুকুল একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়, ঘাটাইল গণ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ঘাটাইল এস.ই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পোড়া বাড়ী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে।

ঘাটাইলে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মানববন্ধন

গতকাল সোমবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন কর্মসুচির অংশ হিসাবে ঘাটাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপজেলার শতাধিক মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিশ্বদ্যিালয় কলেজ সমূহের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন কর্মসচি পালন করে। সকালে ঘাটাইল জি.বি.জি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনির নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারিও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মানববন্ধন কর্মসুচিতে অংশ নেয়। এ ছাড়া  ঘাটাইল সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুকুল একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়, ঘাটাইল গণ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ঘাটাইল এস.ই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পোড়া বাড়ী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে।

সোমবার, আগস্ট ০১, ২০১৬

ঘাটাইল পৌরসভা প্রচার প্রচারণায় সরগরম

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 
পৌরসভা নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা ততই জমে উঠছে। এখন রীতিমত ভোটজ্বরে আক্রান্ত গ্রামের পাড়া মহল্লা আর মোড়ের বাজার। সবখানেই বাজছে ভোটের ‘গান’। নির্বাচন এলাকার রাজপথ থেকে মেঠোপথ চেয়ে গেছে প্রার্থীদের সাদা-কালো বাহারি সাইজের পোস্টারে। যেন পোস্টারের মালায় চেয়ে গেছে সবখানে। ঘাটাইলের পৌরসভার সবখানে এখন একই দৃশ্য। শহরের সীমানা ছাড়িয়ে পৌর এলাকায় পা বাড়ালেই সবার আগে চোখে পড়েবে প্রার্থীদের পোস্টার।
গতকাল সোমবার ঘাটাইলের পৌর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সবখানে পোস্টারে ছাওয়া। প্রার্থী সমর্থকদের হাতে হাতেও লিফলেট। সবাই ভোটের মাঠে সবশক্তি নিয়ে নেনে পড়েছেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেলে হতে না হতেই প্রার্থীর সমর্থকরা বেরিয়ে পড়ছেন সবখানে। বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থণা করছেন বিষ্টি ও প্রচন্ড রৌদ্র উপেক্ষা করে। এবার প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সারাদিন ভোটের প্রচার শেষে রাতের বেলায় পরের দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করছেন। সকাল হলেই চলছে চায়ের কাপে ভোট গল্পের ঝড়। প্রচার পাগল মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। কেউ কেউ নিজেদের প্রার্থীদের প্রচার চালাতে নিচ্ছেন নানান রকমের কৌশল। কেউ ভ্যান, সাইকেল, রিকশার হাতলে পছন্দের প্রার্থীর সাদাকালো পোস্টার ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাজার-ঘাট। কেউ বা মোটরসাইকেলের পেছনের রেজিস্টেশন প্লেট ঢেকে ফেলেছেন পছন্দের প্রার্থীর পোস্টার দিয়ে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভায় আওয়ামীলীগের দলীয় টিকিট পেয়েছেন উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান খান ভিপি শহীদ।
অপরদিকে বিএনপি’র থেকে দলীয় টিকিট পেয়ে ফারুক হোসেন ধলা (ধানের শীষ প্রতীক) নিয়ে নির্বাচনীর প্রথম দিনই মাঠে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করছেন প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী শহিদুজ্জামান ভিপি শহিদ ও ফারুক হোসেন ধলা। 
নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দী। তাই প্রচার-প্রচারণায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ঘাটাইল পৌরসভা। অনেক ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীর পোস্টার সাটিয়ে রেখেছেন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন প্লেটে। ঘাটাইল পৌরসভার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম প্রতীক বরাদ্দ শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর পোস্টার লাগিয়ে রেখেছেন তার ভ্যানের সামনে।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন ও মহিলা কাউন্সিলর পদে সাত জন এবং কাউন্সিলর পদে ২৫ জন প্রার্থী এবার ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।

বুধবার, জুলাই ২৭, ২০১৬

ঘাটাইলে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা,তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোখলেছুর রহমান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহিন এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলিয়াস কবির, উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা ভূমি অফিসার প্রভাশু সোম মহান, জি.বি.জি কলেজের অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, সাবেক মেয়র হাসান আলী, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় সরকরি, বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, নবীন ও প্রবীন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জঙ্গিবাদের বিরোদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্ঠির উপর গুত্বারোপ করেন বক্তারা।

মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬

ঘাটাইলে ফলদবৃক্ষ মেলা উদ্ভোধন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ৩দিন ব্যাপী ফলদ বৃক্ষমেলা উদ্ভোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে এ উপলক্ষ্যে উপজেলা চত্বর থেকে একটি র‌্যালী ঘাটাইলের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদে গেটের সামনে এসে শেষ হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন আয়োজিত উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইউএনও আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহিন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্ভোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু। মেলা উদ্ভোধন শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান স্কুলের ছেলে মেয়েদের মাঝে ফলদবৃক্ষ উপহার প্রদান করেন। 

ঘাটাইল জি.বি.জি. কলেজকে জাতীয়করণ দাবীতে মানববন্ধন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল জি.বি.জি কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কলেজ পরিচালনা পরিষদ ও সর্বাস্তরের জনগণ। মঙ্গলবার সকালে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সামনে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনিসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবি জানিয়ে বলেন- সারা দেশে ১৯৯টি কলেজ জাতীয় করনের তালিকায় জিবিজি কলেজের নাম না থাকায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধও হতাশ। প্রায় সাড়ে চার হাজার ছাত্র/ছত্রী এই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করলেও কলেজটিকে কেন জাতীয়করণ করা হবে না এ দাবী জানান মানববন্ধনকারীরা। তারা অবিলম্বে কলেজটি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন- জি.বি.জি কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এস আকবর খান, উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, যুগ্ন-আহ্বায়ক ও কলেজের সাবেক ভিপি শহিদুজ্জামান খান শহিদ প্রমুখ। মানববন্ধনে কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক,সুশিল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। 
মানববন্ধন শেষে ঘাটাইল জি.বি.জি কলেজকে সরকাররিকরণ করার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রদান করেছেন।  

সোমবার, জুলাই ২৫, ২০১৬

ঘাটাইলে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠান

সোমবার ঘাটাইলে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ’জল আছে যেখানে মাছ চাষ সেখানে”। এ উপলক্ষ্যে সপ্তাহ ব্যাপি কর্মসূচির  আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‌্যালি, আলোচনা সভা ,পোনা মাছ অবমুক্তকরন,প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন এবং সেরা মৎস্য চাষীদের পুরস্কার প্রদান। উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সমাপনী  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যন নজরুল ইসলাম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন, ঘাটাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হালিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন বিশ্বাস, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কাদের, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মোস্তফা প্রমূখ।