চাকরির পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত চোখ রাখে বিপ্লব। সরকারি চাকরির সার্কুলারগুলো খুটিয়ে দেখে, সেই অনুযায়ী আবেদনও করে। তার লক্ষ্য সরকারি চাকরি, বিশেষত বিসিএস এবং দেশের স্বনামধন্য ব্যাংকগুলো। সামনে আসছে বিসিএস প্রিলিমিনারি, বেশ কিছু সরকারি ব্যাংকের চাকরি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাট চুকেছে তাও দুবছর আগে। ছাত্রজীবন শেষ করার আগে থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরি নামক সোনার হরিণের পিছনে ছুটছে এখনো। এত সময় সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষার অন্যতম কারণ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা এবং সামাজিক ভালো অবস্থান।
সরকারি চাকরির বাজার বর্তমান দিনগুলোতে অনেক বেশি। কারণ বেসরকারি চাকরিতে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা, খাটুনি অনেকেই নিতে চায় না। এখন তো একটা ছেলের লক্ষ্যই হয়ে গেছে সরকারি চাকরি, নইলে নাকি বিয়ের বাজারে ভালো মেয়েই পাওয়া যাবে না! শুনতে হাস্যকর হলেও তো এমনটা হচ্ছে এখন। কেন সরকারি চাকরির পিছনে এত লম্বা লাইন, এর ভালোমন্দ নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-
সুবিধা বা ভালো দিকগুলো
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে বেতন স্কেলসুবিধা যথেষ্ট বাড়নো হয়েছে। যোগদানের শুরুতেই এখন ভালো পরিমাণের একটা বেতন মিলছে। এর পাশাপাশি প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, চাকরির নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত ছুটি, পরিবহন ও আবাসন সুবিধা, সন্তানদেরকে স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, অবসরকালীন সুবিধার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও সরকারি চাকরির অন্যতম ভালো দিক।
প্রথমশ্রেণীর পাশাপাশি দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও এখন বেতন কাঠামো আকর্ষণীয়। এই পদগুলোতে যারা যোগ দেন, তাদের সমান শিক্ষাগত এবং অন্যান্য যোগ্যতা নিয়ে বেসরকারি চাকরিতে এসব সুযোগ সুবিধা অনেক কম। সেখানে সুনির্দিষ্ট কাঠামো না থাকা, পদোন্নতির জন্য কাজের চেয়ে নিয়োগকর্তার সুনজরে পড়ার বিষয়ও থাকে।
এর বাইরেও বেশকিছু বিষয় রয়েছে। যেমন মাতৃত্বকালীন ছুটি বেশিরভাগ বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চার মাস হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা এই ছুটি পান ছয় মাসের। নৈমিত্তিক ছুটি সরকারি চাকুরেরা ইচ্ছা অনুযায়ী কাটাতে পারলেও বেসরকারি চাকুরেরা সে সুবিধা পান না অনেক ক্ষেত্রেই। অসুস্থতাজনিত ছুটির ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। আবার সরকারি চাকুরেদের অর্জিত ছুটি জমলে এর বিনিময়ে টাকার জন্য দুশ্চিন্তা করতে হয় না, কিন্তু বেসরকারি চাকরির অনেক ক্ষেত্রেই এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
আবার সরকারি চাকরিতে আগ্রহের সবচেয়ে বড় কারণ চাকরির নিশ্চয়তা। এটা বেসরকারি খাতের চাকরিতে নেই। কারণ বেসরকারি খাতে সহজেই চাকরিচ্যুত করা যায়। কিন্তু সরকারি চাকরি সহজে যায় না।
সামজিক স্বীকৃতিও অন্যতম একটা বড় কারণ। এছাড়া রয়েছে ক্ষমতা ব্যবহারের চর্চা। একজন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন। কিন্তু বেসরকারি খাতে একজন সর্বোচ্চপদধারী ব্যক্তিও ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন না।
সরকারি চাকরিতে সময় দেওয়ার নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে সেটা নেই। এসব মিলিয়ে তরুণদের প্রথম পছন্দ থাকে সরকারি চাকরির দিকে। সময় মাপা কাজ কে না করতে চায়!
প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় সরকারি চাকরি করলে লোন পেতে বেশি সুবিধা পাওয়া যায় ৷ তাই লোন পাওয়া নিয়ে বেশি ছুটোছুটি করতেই হয় না ৷ আর ভবিষ্যত নিয়ে কোনো চিন্তা নেই, আছে পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটির ব্যাপারটাও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়।
সরকারি চাকরির অসুবিধাগুলো
এত সুবিধার মাঝে অসুবিধাও রয়েছে কিছু। বেসরকারি ভালোমানের চাকরিগুলোর সঙ্গে যদি তুলনা করা হয় তো সরকারি চাকরিতে বেতন তুলনামূলক কম। এখানে অতিরিক্ত কমিশন, লভ্যাংশের সুযোগ কম। এখানে দুর্নীতির বাইরে সব সুযোগই নির্দিষ্ট।
প্রমোশন বা পদোন্ততি সরকারি চাকরিতে খুব স্থির গতিতে হয়। কোনো কোনো পদে তা আবার হয়ও না। খুব কসরত করে চাকরিতে ঢুকলেন কিন্তু আপনার বেতন, প্রমোশনগুলো কিন্তু সেভাবে আগাবে না।
আরেকটা সমস্যা হলো বদলি করে দেওয়া। শিক্ষকতা, আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত পদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পদেও বদলির বিষযটি ঘটে। এটা কিছুটা অসুবিধার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷