একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং নির্বাচনে বিবদমান পক্ষগুলোর শঙ্কা-সংশয়ের মধ্যে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। ক্ষমতাসীন দলের বাইরে নির্বাচনে থাকা বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এ দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিল। সেনা সদস্যরা মাঠে নামার মাধ্যমে নির্বাচনী অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ কমে আসবেÑ এ ধারণা করছে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। তাদের আশা, বাকি পাঁচ দিন ভোটের প্রচারে তৈরি হবে সমান সুযোগ। দূর হবে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা।
এদিকে, গত ১০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়। এরই মধ্যে সারা দেশে নির্বাচনের প্রচারে নৌকার সমর্থকরা এগিয়ে আছেন। তবে প্রচারে পিছিয়ে আছে বিএনপির সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীরা। শুরুতে বিএনপিসহ অন্যরা যেভাবে প্রচারে নেমেছে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় কৌশলগত কারণে অনেকটা নিজেদের গুটিয়ে নেয় বিএনপি।
গতকাল রোববার আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সারা দেশের ২৮৯ উপজেলায় সেনাবাহিনী থাকবে ভোট গ্রহণ ও ফল প্রকাশের সময়। আর ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা ছিল ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনী রাখার। ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানো হবে কী হবে না, এ নিয়ে রাজনৈতিক দুই শক্তি (আওয়ামী লীগ-বিএনপি) পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ছিল। তবে, নির্বাচনের নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সেনারা দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সেনাবাহিনী দেশরক্ষা বাহিনী। বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষায় কাজ করে বিশেষ সুনাম কুড়িয়েছে। আশা করি, জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে এ বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। তারা মাঠে নেমেছেন। আশা করছি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তারা বলেছে, ভোটের মাঠ এবার ‘সমতল’ হবে বলে তারা আশা করছে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন এক বিবৃতিতে এই আশা প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত রাত থেকে ভোটের মাঠে নেমেনেছ সেনা সদস্যরা। তারা কাজ করবেন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। অর্থাৎ প্রয়োজন মনে করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের তলব করবেন। এ ছাড়া ইভিএমের আসনগুলোয় দায়িত্ব পালন করবেন সেনা সদস্যরা। গতকাল বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ফরিদপুরসহ অনেক জায়গায় প্রার্থীসহ দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর কাজ : ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারা অনুযায়ী কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনী। অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ডাকা হলে এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে ঘটনাস্থলে থাকা সর্বোচ্চ পদের ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারবেন। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন্ড অফিসার সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং গ্রেফতার করার নির্দেশ দিতে পারবেন। সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত নির্দেশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা লিখিত আকারে দেবেন।
ইভিএম পরিচালনায় থাকছেন সাড়ে ৩ হাজার সেনা : এদিকে আসন্ন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হতে যাওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পরিচালনার জন্য ৩ হাজার ৩০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এরই মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের কারিগরি সহায়তার জন্য থাকবেন মোট ২ হাজার ৫৩৫ জন সেনা সদস্য। আর প্রতি কেন্দ্রের জন্য গঠিত একেকটি টিমে থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর তিনজন করে সদস্য। তাদের মধ্যে একজন করপোরাল, দুজন ল্যান্স করপোরাল অথবা সৈনিক সেনা সদস্য। তাদের কাছ থেকে তথ্য নেবে ভ্রাম্যমাণ কারিগরি টিম। এই টিমে থাকবেন ৫০৭ সেনা সদস্য। প্রতি পাঁচ কেন্দ্রের জন্য গঠিত প্রতি টিমে থাকবেন তিনজন করে সেনা সদস্য। তাদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট, দুজন করপোরাল অথবা ল্যান্স করপোরাল বা সৈনিক সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তারা সহকারী রিটার্নিং অফিসার বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। আর সবগুলো টিমের কাজ তত্ত্বাবধান করবে উচ্চপর্যায়ের আরেক টিম। প্রতি আসনে পাঁচজন করে সেনা সদস্য নিয়ে এই টিম গঠিত হবে। অর্থাৎ মোট ৬টি আসনে ৩০ জন সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এতে একজন মেজর, দুজন ক্যাপ্টেন অথবা ল্যাফটেন্যান্ট, একজন জেসিও অথবা সার্জেন্ট এবং একজন করপোরাল অথবা ল্যান্স করপোরাল অথবা সৈনিক সমমর্যদার সদস্য। এই টিম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
ইভিএম পরিচালনা করা হবে দুটি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে। যার একটি থাকবে নির্বাচন কমিশনে আর একটি থাকবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে। সেনা সদস্যরা কাজ করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কন্ট্রোল রুমের অধীনে। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুম কাজ করবে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমের অধীনে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একটি কারিগরি টিমের মাধ্যমে পুরো দেশের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷