সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানকে সালাম না দেয়ায় বাদিকে মারধর


রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকের পাড়া ইউনিয়নের নলছোপা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা করায় এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে সালাম না দেয়ার অজুহাতে বাদী খলিলুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করেছেন বিবাদীর ছেলে লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে নলছোপা গ্রামের তিনরাস্তা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন এর মা তাহমিনা আক্তার নলছোপা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যাবহার করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তিনি কতৃপক্ষের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়াই স্কুল পরিচালনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ভবন মেরামতের কাজ করেন। এমনকি ছেলে চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ, সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার ও আনোয়ারা খাতুনকে সাথে নিয়ে চলতি বছরের ১৯ শে এপ্রিল ভবনের ৮০ফিট লম্বা ৩৬ ফিট প্রশস্ত ও ৬০ফিট বারান্দা সহ চৌচালা টিনশেট ভবনের সকল পুরাতন টিন, ঘরের দরজা-জানালা টেন্ডার ছাড়াই গোপনে বিক্রি করে দেন। পরে স্কুলের ঘর বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে সকল টাকা আত্মসাৎ করেন।

এইসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নলছোপা গ্রামের বাসিন্দা ও স্লিপ কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান বাদী হয়ে গত ২২ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চারমাসেও সেই অভিযোগের প্রতিকার না হওয়ায় খলিলুর রহমান গত ২৯ আগষ্ট টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ঘাটাইল থানা আমলী আদালতে দুইজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন ও সাঙ্গপাঙ্গরা ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী খলিলুর রহমানকে একা পেয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

দুর্নীতির বিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে না জানিয়ে ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ ঘরের সকল টিন ও দরজা জানালা গোপনে বিক্র করে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

বাদী খলিলুর রহমানকে মারধরের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন জানান, তাকে সালাম না দেওয়ায় দুচারটি চরথাপ্পর দেওয়া হয়েছে।

টেন্ডার ছাড়া স্কুলের টিন বিক্রির অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সঠিক তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন এখনও পাইনি। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷