টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে নৌকার প্রার্থীরা। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ২৩৪টি আসনে বেসরকারি ভাবে জয়লাভ করেছে। বিএনপি ৫টি আসনে জয়লাভ করেছে। জাতীয় পার্টিসহ অন্যরা ৫টি আসনে জয়লাভ করেছে।
মোট ২০০টি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নৌকা ১৯৬, ধানের শীষ ৫ এবং জাতীয় পার্টিসহ অন্যরা ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন জয়লাভ করেছে এবং বগুড়া ৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়লাভ করেছে।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী যারা :
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, গোপালগঞ্জ-১ ফারুক খান, কুষ্টিয়া-২ হাসানুল হক ইনু, কুষ্টিয়া-১ আ ক ম সারোয়ার জাহান, কুষ্টিয়া-৩ মাহবুবুল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া-৪ সেলিম আলতাফ জর্জ, মাগুরা-১ সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ ড. বীরেন শিকদার, নড়াইল-১ কবিরুল হক, নড়াইল-২ মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা, মেহেরপুর-১ ফরহাদ হোসেন, মেহেরপুর-২ মো. শহিদুজ্জামান, খুলনা-৪ আবদুস সালাম মুর্শেদী, নড়াইল-১ কবিরুল হক, যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ নাসির উদ্দিন, যশোর-৩ কাজী নাবিল, যশোর-৪ রণজিত কুমার রায়, যশোর-৫ স্বপন ভট্টাচার্য্য, নওগাঁ-২ শহিদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-৩ ছলিম উদ্দীন তরফদার, নওগাঁ-৪ ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ নিজাম উদ্দিন জলিল, নওগাঁ-৬ ইসরাফিল আলম, চুয়াডাঙ্গা-১ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, চুয়াডাঙ্গা-২ আলী আজগার, বরগুনা-২ শওকাত হাসানুর রহমান রিমন, ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, চাঁদপুর-১ মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বগুড়া-৫ হাবিবর রহমান, শেরপুর-২ মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ ফজলুল হক চাঁন, ময়মনসিংহ-১ জুয়েল আরেং, ময়মনসিংহ-৫ কে এম খালিদ, ময়মনসিংহ-৬ মোসলেম উদ্দিন, নেত্রকোনা-১ মানু মজুমদার, নেত্রকোনা-২ আশরাফ আলী খান খসরু, নেত্রকোনা-৪ রেবেকা মমিন, কিশোরগঞ্জ-১ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ নূর মোহাম্মদ, কিশোরগঞ্জ-৪ রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৬ নাজমুল হাসান, রংপুর-৬ শিরিন শারমিন চৌধরী, লালমনিরহাট-১ মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-২ নুরুজ্জামান আহমেদ, কুড়িগ্রাম-১ আছলাম হোসেন সওদাগর, কুড়িগ্রাম-৩ এম এ মতিন, কুড়িগ্রাম-৪ জাকির হোসেন, গাইবান্ধা-২ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, পঞ্চগড়-মাজহারুল হক প্রধান, পঞ্চগড়-২ নুরুল ইসলাম সুজন, ঠাকুরগাঁও-১ রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ দবিরুল ইসলাম, দিনাজপুর-১ মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-২ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৪ আবুল হাসান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, দিনাজপুর-৬ শিবলী সাদিক, নীলফামারী-২ আসাদুজ্জামান নূর, রাজশাহী-১ ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ এনামুল হক, রাজশাহী-৫ মনসুর রহমান, নাটোর-১ শহিদুল ইসলাম বকুল, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-৩ জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-৪ আবদুল কুদ্দুস, পাবনা-১ শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আহমেদ ফিরোজ কবির, পাবনা-৩ মকবুল হোসেন, পাবনা-৪ শামসুর রহমান শরীফ, পাবনা-৫ গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, বগুড়া-১ আবদুল মান্নান, বগুড়া-৫ হাবিবর রহমান, জয়পুরহাট-১ সামছুল আলম দুদু, জয়পুরহাট-২ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, টাঙ্গাইল-২ তানভীর হাসান, টাঙ্গাইল-৬ আহসানুল ইসলাম টিটু, গাজীপুর-৪ সিমিন হোসেন রিমি, নারায়ণগঞ্জ-২ নজরুর ইসলাম বাবু ও ফরিদপুর-৩ খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে লাঙ্গল প্রতীকে বিজয়ী :
রংপুর-৩ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ময়মনসিংহ-৪ বেগম রওশন এরশাদ, লালমনিরহাট-৩ জি এম কাদের, রংপুর-১ মসিউর রহমান রাঙ্গা, নীলফামারী-৩ মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) রানা মোহাম্মদ সোহেল, নীলফামারী-৪ আহসান আদেলুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমেদ, গাইবান্ধা-১ ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী, বগুড়া-২ শরিফুল ইসলাম জিন্না, বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রতনা, পিরোজপুর-৩ ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, ময়মনসিংহ-৮ ফকরুল ইমাম, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক চুন্নু, ঢাকা-৪ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৫ সেলিম ওসমান, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ, ফেনী-৩ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসউদ উদ্দিন চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-৫ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী যারা :
বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ মোশাররফ হোসেন ও ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুর রহমান।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী
বগুড়া-৭ আসনে ফেরদৌস আরা খান।
এক নজরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট: নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবার ১০ কোটি ৪২ লাখেরও বেশি ভোটেরর এ নির্বাচনে লড়াইয়ে রয়েছেন ১৮৬১ জন। এরমধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১৭৩৩ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২৮ জন।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ৭ লাখের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৭ লাখের মতো ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে সাংবাদিক, পর্য্যবেক্ষকসহ প্রায় ১ লাখের মতো লোকবল মিলিয়ে ১৫ লাখ লোক নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ আসনে ভোট হবে। এক প্রার্থীর মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট হবে ২৭ জানুয়ারি।
জানা যায়, ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। ১২ নভেম্বর পুনতফসিল করা হয়। রিটার্নিং অফিসার ৬৬ জন ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার ৫৮২ জন। ভোটকেন্দ্র ৪০,১৮৩, ভোটকক্ষ ২,০৭,৩১২ ভোটার সংখ্যা ১০, ৪২, ৩৮, ৬৭৭ জন। পুরুষ ৫,২৫,৭২,৩৬৫, মহিলা ৫,১৬,৬৬,৩১২ এবার রাজনৈতিক দল ৩৯টি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী- ২৯৯ নির্বাচনী এলাকায় ১৮৬১ জন। রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১৭৩৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২৮ জন।
ভোটেকেন্দ্রে নিয়োজিত ফোর্স এর সংখ্যা প্রায় ৬,০৮,০০০। এরমধ্যে পুলিশ ১,২১,০০০; আনসার ৪,৪৬,০০০; গ্রাম পুলিশ ৪১,০০০। সেনাবাহিনী (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন): ৪১৪ প্লাটুন (৩৮৯ উপজেলায়)। নৌবাহিনী (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন): ৪৮ প্লাটুন (১৮ উপলোয়)। কোস্টগার্ড (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন): ৪২ প্লাটুন (১২ উপলোয়)। বিজিবি (প্রতি প্লটুনে ৩০ জন): ৯৮৩ প্লাটুন। র্যাব (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন): ৬০০ প্লাটুন।
মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা র্যাবসহ প্রায় ২০০ প্লাটুন (প্রায় ৬৫ হাজার জন)। তাছাড়া সারাদেশে জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের টহল দল নিয়োজিত রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তরা জানান, নির্বাচনী মাঠে নির্বাহী হাকিম ১৩২৮ জন। (আচরণবিধিতে ৬৫২ জন; আইন-শৃঙ্খলা ফোর্সের নেতৃত্বে ৬৭৬ জন)। নির্বাচনী তদন্ত কমিটির: ১২২টি (২৪৪ জন)।
প্রিজাইডিং অফিসার: ৪০,১৮৩ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার: ২,০৭,৩১২ জন। পোলিং অফিসার: ৪,১৪,৬২৪ জন।
পর্যবেক্ষক, দেশি: ৮১টি প্রতিষ্ঠানের ২৫,৯০০ জন। বিদেশি পর্যবেক্ষক: ৩৮ জন (ফেমবোসা, এএইএ, ওআইসি ও কমনওয়েল্থ থেকে আমন্ত্রিত)।
কূটনৈতিক বিদেশি মিশনের কর্মকর্তা: ৬৪ জন। দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি: ৬১ জন।
এবার ৬টি আসনে ইভিএম ভোটার ২১ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৪ জন; কেন্দ্র ৮৪৫টি, ভোটকক্ষ ৫,০৪৫টি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৪৮ জন। রংপুর-৩ ভোটার ৪,৪১,৬৭১ জন। খুলনা-২ ভোটার ২,৯৪,১১৬ জন। সাতক্ষীরা-২ ভোটার ৩,৫৬,২৪৬ জন। ঢাকা-৬ ভোটার ২,৬৯,৩১৫ জন। ঢাকা-১৩ ভোটার ৩,৭২,৭৭৫ জন। চট্টগ্রাম ৯ ভোটার ৩,৯০,৪৩১ জন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷