একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক নাকি প্রার্থী বড় এর পরীক্ষা কেন্দ্র এবার টাঙ্গাইল-৪ আসন। জেলার অন্যতম রাজনীতিবিদের নির্বাচনী আসন হওয়ায় ভোটের ফলাফলে রয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।
নির্বাচনে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ফলে সবার মনে প্রশ্ন প্রতীক নাকি প্রার্থী বড়?
জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারে লতিফ সিদ্দিকী পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন। সে নির্বাচনের পর তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সম্পর্কে মন্তব্য করে সমালোচিত হন।
এ জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে
দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। দেশে ফিরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় টাঙ্গাইল-৪ আসনটি শূন্য হয়।
সংসদ থেকে পদত্যাগের পর লতিফ সিদ্দিকী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সময় সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি ও তার স্ত্রী যোগদান করতেন। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর লতিফ সিদ্দিকীর প্রভাব রয়েছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে উপ-নির্বাচনে ওই আসনে দলীয় ব্যানারে এমপি নির্বাচিত হন হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী।
এবারও এ আসনে হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়া হয়। পাশাপাশি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী। দুইজনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন লতিফ সিদ্দিকী। তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রতীক নাকি প্রার্থী বড় সেটি দেখা যাবে ৩০ ডিসেম্বর।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷