শুক্রবার, আগস্ট ০৪, ২০১৭

ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে ওসির জিহাদ ঘোষনা

রবিউল আলম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)  ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় সদ্য যোগদানকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন (পিপিএম) মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছেন।  তিনি মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আইনের হাতে তুলে দিতে সাংবাদিক, মসজিদের মুসুল্লি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করে থানাকে দালাল মুক্ত ঘোষনা করেন।  ফলে সাধারণ মানুষ ও ভূক্তভোগীরা ওসির কর্মকান্ডে আসস্থ হয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

জানা
যায়, ঘাটাইল উপজেলায় তিন বছর যাবৎ এমপি না থাকার ফলে জবাবদিহিতা না থাকায় থানা পুলিশ অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠে।  ফলে আইনের পথে স্বচ্ছতা না থাকায় প্রতিদিন চুরি, ডাকাতী, ছিনতাই, ধর্ষন, মারামারি, জবরদখল ছাড়াও ঘরে ঘরে মাদক ও জুয়ার স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়ে উঠে।  থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে লোক দেখানো ২/১ জন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আটক করলেও পুলিশ আইনের ধারা বদল করে অপরাধীকে সন্দেহমূলক চালান করায় ২/৪ দিন পরেই তারা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসা শুরু করে।  যার ফলে দিন দিন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।  এক পর্যায়ে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের অত্যাচারে ঘাটাইল বাসী বিষিয়ে উঠে এবং পুলিশের প্রতি মানুষ অনেকাংশে আস্থা হারিয়ে ফেলে।  ঠিক সেই মুহুর্তে চলতি বছরের ২০মে ওসি মহিউদ্দিন (পিপিএম) ঘাটাইল থানায় যোগদান করে মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করে প্রতিদিন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেন।  যারা দীর্ঘদিন যাবত মাদকের ব্যবসা করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন অথচ পুলিশ তাদের আটক করতে পারেন  নাই।  ওসি মহিউদ্দিন সেই সব মাদক ডিলারদের গ্রেফতার করে অস্ত্রসহ জেল হাজতে প্রেরন করেছেন।  এভাবে গত ২ মাস ১০ দিনে ৫৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় চালান করেন এবং মাদক ও জুয়ার অপরাধে মোবাইল কোটের মাধ্যমে ৮৩ জন অপরাধীকে জেল হাজতে প্রেরন করেন।  তাছড়াও ১টি বিদেশী ও দুইটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে মানুষকে সাড়া জাগিয়ে তোলেন।  যে কারনে ভয়ে অনেক মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীরা ওসির ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে তাবলীগে কিংবা অন্য কোথাও সম্পৃক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।  যার ফলে দালাল মুক্ত থানা ও মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করায় অপরাধীরা সুবিধা করতে না পেরে ওসির কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। 

এ ব্যাপারে রসুলপুর ইউনিয়নের সলিং বাজারের আবু হানিফ জানায় নতুন ওসি যোগদানের পর কিছু সংখ্যক মাদক বিক্রেতাদের আটক করে চালান করায় এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্র্রনে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে তবে বড় বড় মাদক ডিলারা এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না হওয়ায় মানুষ এখনো আতঙ্কে ভুগছে।
 
এ বিষয়ে জামুরিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, গত দুই বছর যাবত মাদক ব্যবসায়ী/সেবনকারী ও পুলিশ সোর্সদের নানামুখী অত্যাচারে সাধারণ মানুষে ভয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকত।  কিন্তু নতুন ওসি মহিউদ্দিন সাহেব ঘাটাইলে যোগদানের পর এখন আর সে আতঙ্ক নেই।  তাছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী সেবনকারীর সংখ্যাও অনেকাংশে কমে গেছে।  তবে আমার বিশ্বাস ওসি মহিউদ্দিন সাহেবী পারবে ঘাটাইলকে মাদক মুক্ত করতে।


এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি মহিউদ্দিন (পিপিএম) বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হবে।  তবে সকলের সহযোগিত প্রয়োজন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷