মঙ্গলবার, আগস্ট ২২, ২০১৭

ঘাটাইলে চার বন্ধুর স্বপ্ন

মো. মাসুম মিয়া, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
চারজন উদ্যেক্তার যৌথ উদ্যোগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা ও ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বেতবাড়ি নামক স্থানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বানিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এরো চিকস এন্ড হ্যাচারী নামে হাঁসের হ্যাচারী।
মোহাম্মদ রাউজার সাহাদাৎ আলী এর মূল পরিকল্পনাকায় সহযোগী হিসেবে আছেন মো. হাবিবুল্লাহ বাহার সুজন,ভেটেনারী ডাঃ নজরুল ইসলাম ও গোলাম হাসান তালুকদার।
হ্যাচারীর অংশীদার ও সহযোগী হাবিবুল্লাহ বাহার জানান,মুরগীর ফিডের ডিলারশীপ ব্যবসার মাধ্যমে গাজীপুর ফিডস এর পরিচালক রাউজার সাহেবের সাথে আমার পরিচয় হয়।  তিনি সব সময় ভাবতেন কিভাবে অল্প টাকা বিনিয়োগ করে সল্প আয়ের মানুষ অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করবে।  সেই ভাবনা থেকে তিনি বিভিন্ন দেশ ঘুরে এবং হাঁসের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখতে পেলেন তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হাঁস পালনের মাধ্যমে সম্ভব।  তাই উন্নত জাতের ১ হাজার পিকিং ব্রয়লার হাঁস,জিনডিং ও খাকি ক্যাম্বেল জাতের ৪ হাজার পেরেন্টস (হাঁসা-হাঁসি) দেশে নিয়ে আসেন।  পেরেন্টস হাঁস থেকে প্রাপ্ত ডিম থেকেই বর্তমানে হ্যাচারীতে বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে।  সপ্তাহে একদিন রবিবার ঠিক করা হয়েছে বাচ্চা উৎপাদনের দিন।  আর একদিনে বাচ্চা উৎপাদন আসে প্রায় ১৬ হাজার।  লেয়ার মুরগীর ক্ষেত্রে সর্বনি¤œ  যেখানে ১ হাজার মুরগীর ভ্যাকসিন করতে হয় আর হাঁসের ক্ষেত্রে সেখানে মাত্র ১শত হাঁসের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।  ১ হাজার মুরগীর খামার করতে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার প্রয়োজন যা একজন গ্রামের সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ লভ্য নয়।  অপর দিকে ১শত হাঁসের খামার করতে টাকা লাগে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার।  যা কিনা  সল্প আয়ের প্রান্তিক মানুষ অনায়েসে পালন করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

হাঁসের রোগ-বালাই মুরগীর তুলনায় খুবই কম নেই বললেই চলে।  তাই হাঁসের খামার করতে মানুষের ভয়ের কোন কারন নেই।  আর অল্প পরিসরে এ খামার করা যায়।  হাঁসের সাথে সমন্বিত মাছ চাষ করতে পারলে একজন খামারী বেশী লাভবান হবেন বলে জানান,ডাঃ নজরুল ইসলাম।
শুরুতে প্রতি ব্রয়লার হাঁসের বাচ্চার  দাম ধরা হচ্ছে ৪৫ টাকা এবং লেয়ার বাচ্চার দাম ৩৫ টাকা।  ব্রয়লারের ক্ষেত্রে সঠিক পরিচর্চায় ৪০ দিনে প্রতিটি হাঁসের ওজন  ৪ থেকে ৫ কেজি হয়ে থাকে।  যার বাজার মূল্য প্রতিটি প্রায় ৫শত থেকে ৬শত টাকা।  লেয়ারের ক্ষেত্রে মুরগীর মতই ৬ মাস পালনে ডিম আসতে শুরু করে এবং একটানা ২ থেকে আড়াই বছর ডিম দিয়ে থাকে।  ডিমের উৎপাদনও আসে বেশ ভাল।  তুলনামূলক ভাবে মুরগীর চেয়ে হাঁসের ডিমের বাজার মূল্য বেশী।  ইউরোপের দেশ গুলোতে ব্রয়লার হাঁসের মাংস ও লেয়ারের ডিমের বেশ চাহিদা আছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ বাহার সুজন।  লেয়ারের ক্ষেত্রে একটি প্রাপ্ত বয়স্ক হাঁস দিনে ১৪০ গ্রাম খাবার খেয়ে থাকে যা মুরগীর তুলনায় ২০গ্রাম বেশী।  হ্যাচারীর পাশাপাশি তাদের রয়েছে নিজস্ব ফিড মিল।  ডিলারের মাধ্যমে খামারীরা যেন ফিড ক্রয় করতে পারে তার জন্যই এ ব্যবস্থা।
স্বপ্ন তাদের অনেক বড়।  শুধু ঘাটাইল এবং ফুলবাড়িয়া নয় হাঁসের খামার করে একদিন সারা দেশের প্রান্তিক মানুষ গুলো অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷