এম.এস.এস.সৌরভ
ঘাটাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইল
জেলার ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগ বিভক্তিতে বিভোর ৷ স্থানীয় সাংসদ আমানুর
রহমান খান (রানা), উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান (সামু), উপজেলা
ভাইস-চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন, সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক শহিদুল ইসলাম খান
(হেস্টিং) সহ অসংখ্য নেতাকর্মীরা হচ্ছে এক গ্রুপ ৷ অপর পক্ষে উপজেলা
আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম (লেবু), পৌরমেয়র শহিদুজ্জান খান (শহিদ),
যুগ্ন-আহ্বায়ক আঃ রহিম মিয়া, যুগ্ন-আহ্বায়ক ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান আজাদ সহ
অসংখ্য নেতাকর্মীরা এক গ্রুপ ৷ ঘাটাইলের সাধারন মানুষ এদের কে রানা গ্রুপ
এবং লেবু গ্রুপ নামেই চিনে ৷একদিকে শহিদুল ইসলাম লেবু কে আহ্বায়ক করে একটি
কমিটি গঠন করা হয় ৷ অপর দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান (সামু) কে
আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয় ৷ এই দুই গ্রুপের শক্ত অবস্থানের ফলে
ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগ সুবিধাজনক অবস্থানে নেই ৷ সুত্রমতে, ২০১২সালে
তৎকালীন সাংসদ ডাঃ মতিউর রহমান ইন্তিকাল করেন ৷পরে উপনির্বাচনে নৌকার
মনোনীত প্রার্থী হন শহিদুল ইসলাম লেবু ৷ সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে
অংশ নেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মরহুম শামসুর
রহমান খানের ভাতিজা আমানুর রহমান খান (রানা) ৷ সেই উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে
বিজয়ী হন আমানুর রহমান খান রানা | তারপর তিনি একক আদিপত্য বিস্তার করেন ৷
তারপর দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত হয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্তিতায়
নির্বাচিত হন ৷ হঠাৎ করেই বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় নাম
আসে সাংসদ আমানুর রহমান খানের ৷ তারপর থেকে আত্মগোপনে ২২মাস থাকার পর
আদালতে আত্মসমর্পন করেন তিনি ৷তারপর থেকেই তিনি কাশেমপুর কারাগারে আছেন ৷
তার অনুপস্থিতিতে একক অধিপত্য বিস্তার করেন শহিদুল ইসলাম লেবু ৷ এদিকে
শহিদুল ইসলাম লেবুর সমর্থকরা ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করে ৷ অপর দিকে
আমানুর রহমান খান রানার অনুষারীরাও ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিটি গঠন করে ৷দীর্ঘ
১২বছর পর শহিদুল ইসলাম লেবুর নেত্রিত্বে একাংশ সম্মেলন করার প্রস্তুতি
গ্রহন করে তবে পর পর দুইবার কেন্দ্রীয় নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত করা হয় |
এদিকে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা কারাগারে থাকায় তার সমর্থকরা নিস্তেজ
হয়ে পড়েছে ৷ এই সুযোগে সবকিছুর নিয়ন্ত্রন চলেগেছে শহিদুল ইসলাম লেবুর দখলে ৷
এই গ্রুপিংয়ের ফলে হামলা মামলার শিকার হচ্ছেন নিজ দলের নেতাকর্মীরাই৷
এমতবস্থায় রানা সমর্থক অনেক নেতাকর্মী শহিদুল ইসলাম লেবুর গ্রুপে যোগ
দিয়েছেন ৷ সম্প্রতি জাতীয়পার্টি থেকে সদ্য দলে আসা আব্দুল্লাহ তুহীন ও
তারপক্ষে ভিড়িয়েছেন শহিদুল ইসলাম লেবু অনেক নেতাকর্মী ৷ এখন তিনভাগে বিভক্ত
হওয়ার আশংকায় পড়েছে ঘাটাইলের আওয়ামীলীগ ৷ আগামী নির্বাচনের আগে এসব
গ্রুপিং সংকট সমাধান না হলে বিএনপির সামনে দারাতে পারবে না আওয়ামীলীগ ৷
ঘাটাইল
উপজেলা আওয়ামীলীগের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বলেন,
আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য এলাকায় এলাকায় গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক
সাংসদ ডাঃ মতিউর রহমানের ছেলে তানভীর রহমান ৷ তার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে
উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু ৷ অপরদিকে মনোনয়নের জন্য
উচ্চ মহলের সাথে দৌড়ঝাপে ব্যস্ত সদ্য দলে আসা আব্দুল্লাহ তুহীন ৷ আর
বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানের সমর্থকরা একবুক আশা নিয়ে অধির
আগ্রহে বসে আছেন যে তিনি আবার ঘাটাইলে ফিরে আসবেন এবং আগামী নির্বাচনে
তিনিই মনোনয়ন পাবেন ৷ এই তিন গ্রুপ ভেঙ্গে এক গ্রুপের জন্য কেন্দ্রীয়
হস্তক্ষেপ কামনা করেন ঘাটাইলের সাধারন কর্মী সমর্থকরা ৷
আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
