খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
যাচাই বাছাইয়ের শুরুতেই নানা অনিয়ম দুর্নীতি আর স্বজন প্রীতি অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রম। আর মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ব্যক্তি প্রভাব ও রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেন ঘাটাইল উপজেলার চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলিগ নেতা নজরুল ইসলাম খান সামু। শিঘ্রই তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে যাচাই বাছাই কমিটি। এর সাথে আরও শতেক খানি অমুক্তিযোদ্ধাকে দাবিদার মুক্তিযোদ্ধার আওতায় এনে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হচ্ছে বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এতে করে ঘাটাইলে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা করছেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন বলেন যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন যাচাই বাছাইয়ের পর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রকাশের কাজ চলছে। যেকোন দিন প্রকাশ হতে পারে এ তালিকা। এদিকে উপজেলার চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা জানার জন্য তার এলাকা সংগ্রামপুর গ্রামে গেলে কেউ বলতে পারেনি তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এলাকাবাসী ছাড়াও তার অতি ঘনিষ্ঠ জনরাও বলতে পারেনি তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। বরং মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও দাবিদার মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আবেদন করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ গ্রামের জনৈক এক ব্যাক্তি বলেন তিনি মুক্তিযুদ্ধ করাতো দুরের কথা মুক্তিযুদ্ধের নামও কখনো নেননি। একেতো ঘাটাইলে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধায় সয়লাব, এবার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে আরও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার ঠাই হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা পৌনে ৪শ থেকে সারে ৫শ’র অধিক হবে না। অথচ ঘাটাইলে ভাতা উত্তোলন করছেন ১১ শতাধিক। এদিকে যাচাই বাছাইয়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ পরা ঠেকাতে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে এখন ওপেন সিক্রেট। ঘাটাইল উপজেলার চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান মুক্তিযোদ্ধা কিনা জানতে চাওয়া হলে যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি আছাদুজ্জামান আরজু বলেন, সে সরাসরি অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ না করলেও সহযোগিতা করেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে রাগ¦ত স্বরে তিনি বলেন, এর আগে যারা টাকা খেয়ে ৪ শতাধিক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা বানালো তখন কি তারা দেখলো না ?
এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম খানের মোবাইল ফোনে (০১৭২৬-৩৬৪২৫৮) একাধিকবার যোগাযোগ করার পর তাকে পাওয়া যায়। জানতে চাওয়া হয় একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদান কতটুকু ছিলো। এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি না হয়ে লাইন কেটে দেন। পরবর্তিতে বারবার চেষ্টা করার পরেও তিনি ফোন রিসিব করেননি।
আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
