বাচ্চাটার বয়স ছয় কি সাত! বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল। নাম শামীম। বাবা নেই,
মা গ্রামেই পরের বাড়িতে কাজ করে পেট চালায়। অভাবী পরিবারের এই শিশুটি
ছয়মাস আগে গ্রামের এক লোকের মাধ্যমে গুলশান একনম্বরের `সাহেব` বাড়িতে
গৃহকর্মীর কাজে যোগ দেয়। এরপরই কারণে-অকারণে তার ওপর নেমে আসে নির্মম
নির্যাতন।
রোববার দুপুরে সাহেবের মোজা ঠিক মতো না ধোয়ার অপরাধে তার উপর শুরু হয়
অকথ্য নির্যাতন। নির্যাতিত শিশুটি ব্যাথা কাতরাতে কাতরাতে জানায়, প্রথমে
বাড়ির কত্রী চড়-থাপড় আর লাথি দেয়।পরে সাহেবও এগিয়ে এসে হাতের ছড়ি দিয়ে
পেটাতে থাকে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে দৌড় দিলে বাসার দারোয়ান তাকে
আটকানোর চেষ্টা করে। তবে কোনোরকম বাড়ির গেইট টপকে পালিয়ে আসে।
শামীম নামের শিশুটিকে আহত অবস্থায় গুলশান লেকের পাশে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে এবং শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এসময় বাচ্চাটা জানালো, সাহেবের নাম মোস্তাক, আন্টির নাম মিনারা। অান্টি
একটা স্কুলে পড়ায়। এর বেশি কিছু সে বলতে পারলো না। যে বাড়িতে কাজ করত,
সেটার ঠিকানাও বলতে পারলো না। খালি সাহেব আর আন্টির বর্বর নির্যাতনের
ক্ষতগুলো দেখিয়ে বললো, কুনুমতে জান লই পালাই আইছি।
শামীম বললো, সাহেব আর আন্টি নিজেরা খালি ঝগড়া করে আর আমাকে আইস্যা মারে।
একটা গ্লাস ভেঙ্গে ফেলায় আমারে একদিন কোনো খাওনা দেয় নাই। বাসার বাইরে
গেলে তারা আমাকে বাসার বাথরুমে তালা দিয়া রাখে।
বাচ্চাটা নিজের বুকের ক্ষত দেখিয়ে সে বললো, কয়দিন আগে চুলায় পরোটা একটু
পুড়ে যাওয়ায় আন্টি প্রথমে আমারে রুটি বানানোর বেলুন দিয়া মারছে, পরে খুনতি
গরম করে বুকে ছ্যাকা দিছে।
এলাকাবাসী নির্যাতিত শামীমকে পরে গুলশান থানায় পৌছে দেয়।
এ বিষয়ে গুলশান থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.
আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নির্যাতিত শিশুটি পুলিশের হেফাজতে আছে। তার কাছ থেকে
নির্যাতনকারীদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হয়েছে। শিশুটির অভিভাবকদের
সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
