ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লুৎফুননাহারের দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা আর অদক্ষতায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন মহিলা মহাবিদ্যালয়টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এক যুগ পর ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরুতে অধ্যক্ষ ছিলেন এএফএম গোলাম কিবরিয়া। তিনি অন্যত্র চলে যাওয়ার পর প্রায় ২ বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন মো. জুলফিকার আলী লিটন। তিনি থাকাকালীন স্বীকৃতি পায় কলেজটি। এরপর অধ্যক্ষ হিসেবে শেখ ফিরোজ আহম্মেদ যোগদান করেন। তিনিও অন্যত্র চলে যান। এরপর শূন্য পদে সাময়িকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন লুৎফুননাহার। এ পদে দায়িত্ব পালনে ন্যূনতম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকায় যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ ৮ বছর তিনি কলেজের লেখাপড়ার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে ও বিধিবহির্ভূতভাবে নানা গর্হিত কাজ করে যাচ্ছেন। তার বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও লুটপাটের কারণে কলেজের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা একেবারেই ভেঙে পড়ে। ফলে কলেজের সব স্টাফ একযোগে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকারের দাবি জানান সব স্টাফ। অভিযোগের মধ্যে কলেজে পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদ ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদানকালে বোর্ডের নিয়মের বাইরে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২শ’ টাকা করে নেন। কিন্তু কোনো রশিদ দেন না। কলেজের ইট বিক্রির ৪৮ হাজার টাকা ফান্ডে জমা করেননি। ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর গভর্নিং বডির সভাপতি মাসুদুর রহমান আজাদ ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। স্বচ্ছতা ও মেধা তালিকায় নিয়োগ পাওয়ায় তারা খুশি হয়ে কলেজ উন্নয়নের নামে প্রতিজন ১ লাখ টাকা করে ৩ লাখ টাকা দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে। অথচ কলেজ ফান্ডে জমা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ টাকা সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) মো. মোখলেছুর রহমান গত বছরের ১২ ডিসেম্বর (স্মারক নং-৫৭৫) তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য এবং প্রতিষ্ঠানটিকে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠন ও বিধি বহির্ভূতভাবে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিতকরণসহ এ কলেজে একজন সার্বক্ষণিক অধ্যক্ষ নিয়োগ জরুরি মর্মে ও তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।
জানতে চাইলে ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লুৎফুননাহার যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছেও অনেক তদন্ত রিপোর্ট আছে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
জানতে চাইলে ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লুৎফুননাহার যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছেও অনেক তদন্ত রিপোর্ট আছে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷