সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬

পাকুটিয়া চামড়া হাটেও হতাশ ব্যবসায়ীরা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : পশুর চামড়া বেচাকেনায় দেশের অন্যতম বৃহৎ বাজার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়া চামড়ার হাটেও হতাশা ভর করেছে ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ হাটে ব্যবসায়ীরা আসেন চামড়া বেচাকেনা করতে। তবে চলতি মৌসুমে চামড়ার দাম কম থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর এ জন্য ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটকেই দুষছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
পাকুটিয়া চামড়ার হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে এখন শুধুই হতাশা। যে দামে চামড়া কিনেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা, বিক্রির জন্য হাটে এনে দেখেন দাম তার চেয়ে অনেক কম। পুঁজি হারানোর ভয়ে বাধ্য হয়ে লোকসানে চামড়া বিক্রি করছে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে লোকসানের আশঙ্কায় কিছু খুচরা ব্যবসায়ী হাটে চামড়া আনছেন খুবই কম। তারা দাম বাড়ার অপেক্ষায় আছেন।
কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী আশরাফ হোসেন বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা ঈদের আগে ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা দর নির্ধারণ করে দেন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। ওই দামে বাসা-বাড়ি ও এতিমখানা-মাদ্রাসা থেকে চামড়া কিনতে পারেননি খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাই বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে আমাদের চামড়া কিনতে হয়েছে। আশা ছিল, ট্যানারি ব্যবসায়ীরা যাই বলুক না কেন, বাজারে নিশ্চয় দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু ট্যানারি মালিকদের ঘোষণার প্রভাব বাজারে পড়েছে।’
ঘাটাইল উপজেলার ঝংকারের মনছুর আলী অভিযোগ করেন, যে চামড়া কিনতে খরচ হয়েছে ১৭-১৮শ টাকা, সেই চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে এক হাজার টাকারও কম দামে। এ জন্য চামড়াপ্রতি ক্ষতি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা।’
সরেজমিন ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়া চামড়া হাট ঘুরে ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে হতাশ ও ক্ষোভের ছাপ দেখা গেছে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, ‘সুদে টাকা নিয়ে চামড়া কিনেছি। বর্তমান বাজারদরে চামড়া বিক্রি করলে পথে বসতে হবে। তাই দাম বাড়ার আশায় বাড়িতে চামড়ায় লবণ দিয়ে রেখেছি। সরকার যদি একটু বিবেচনা করে দাম বাড়ায় তাহলে বাড়ি থেকে চামড়া হাটে এনে পুঁজি রক্ষা করতে পারব।’
সাভারের বুলুয়া ট্যানারির মালিক হাজী জুলহাস উদ্দিন বলেন, বাজারে বস্তাপ্রতি লবণের দাম বেড়েছে ৮-৯শ টাকা। এজন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রতিটি চামড়ায় অর্ধেকের কম লবণ ব্যবহার করছে। এতে করে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।’
পাকুটিয়া চামড়া হাটের ইজারাদার হুমায়ন কবির বলেন, ‘হাটের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসাবে হাটে দুই শতাধিক বৈদ্যুতিক বাতি সংযোগ করা হয়েছে।’ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই সময়টায় তিনগুণ লেনদেন হয় বলেও তিনি জানান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷