রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা ভূমি অফিসর অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় ১৬ ভূমিহীন পরিবারের বন্দোবস্ত খাস জমি ১০ বছর যাবৎ আটকে আছে প্রভাবশালীদের দখলে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং স্থানীয় সংসদের লিখিত আদেশ থাকলেও ভূমি অফিসের নয়-ছয়ে অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে বন্দোবস্ত খাসজমি। ফলে বারছে কলহ। মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পরছে অনেকে। এতে সরকারের পুর্নবাসন কার্যক্রম কলুষিত হয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা যায়, দেশের হত দরিদ্র, যাদের মাথা গোজার ঠাঁই নাই সরকার সারাদেশে এইসব ভূমিহীন পরিবারকে গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুর্নবাসন করে আসছে। একই সঙ্গে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে ভূমিহীনদের নামে খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে আসছে। এলক্ষে ঘাটাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৫ পরিবারকে ৭৬২.৯৫ একর খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়া এইসব খাস জমি এক শ্রেণীর ভূমি দস্যুরা জাল দলিল তৈরী করে ভোগদখল করে আসছে। অনেকেই জাল কাগজ দেখাইয়া কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ কেউ ইউনিয়ন তহশীলদারের সহযোগীতায় ঐ সব খাস জমিতে ইটের পাকা বাড়ী ঘর তৈরী করে বাগান বাড়ী সাজিয়েছেন। অনেকে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটাইয়া জবরদখল করে আসছেন। যার ফলে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাসজমি ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দিলেও শেষে দখল নিতে বিপত্তি ঘটছে। এভাবে সন্ধানপুর ইউনিয়নে ১৬টি ভূমিহীন পরিবারের বন্দোবস্ত খাসজমি ১০ বছর যাবৎ প্রভাবশালীদের দখলে আটকে থাকলেও কর্তৃপক্ষ নয়-ছয় করে নিচে শিকড় কেটে উপরে পানি ঢালছে।
১লা মার্চ থেকে ৩০মে পর্যন্ত ৩ মাসের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্র ভূক্তভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ঘাটাইল ভূমি অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিসের সার্ভেয়ার হযরত আলী অফিস সহকারী হবিবুর রহমান সন্ধানপুর ইউনিয়ন তহশীলদার ফজলুল হক এলাকার সংঘবদ্ধ জালিয়াতী চক্রের সাথে আতাতকরে এক সিন্ডিকেট বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট বাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছে উপজেলার ১২টি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা ভূমি মালিকদের ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় ফাঁদ তৈরী করে কখনো আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বড় কর্মকর্তারা বড় ভাগ নিলেও তারা থাকেন সন্ন্যাসীর ভূমিকায়। এমন হাজারো অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
যেভাবে হয়রানী করে থাকে ঃ জান যায় এই সিন্ডিকেট বাহিনী প্রথমে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত করে খাস জমি দখলদারের সাথে বিনিময় করে অলিখিত গোপন চুক্তিনামা করে থাকে। পরে টাকার বিনিময়ে তদন্ত ছাড়াই ভূয়া নক্সা তৈরি করে ভূমিহীনদের জমি বন্দোবস্ত দেয়। কিছুদিন পর দখলদারদের সহযোগীতায় বন্দোবস্ত বাতীলের ভয় দেখাইয়া টাকা দাবী করে। টাকা না দিলে দখলদারদের দিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট বন্দোবস্ত বাতিল চেয়ে মিথ্যা অভিযোগ প্রেরন করায়। শেষে ঐ আবেদনের তদন্তভার উপজেলা ভূমি অফিসে আসলে ভূমিহীনদের হয়রানী করে টাকা নিয়ে থাকে। নিরুপায় ভূমিহীন পরিবার সিন্ডিকেট বাহিনীকে টাকা দিলেও তারা দখলদারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে জমি দখলদারদের ভোগ করার ব্যবস্থা করে দেয়। এভাবে ভূমিহীনদের মাঝে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার নাম করে, তদন্তের নাম করে, পরিমাপের নামে, নামজারী করে, দখলদারদের ভোগ করার সহযোগিতা দিয়ে প্রভাবশালীদের স্থাপনা নির্মাণের সহযোগীতা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অনেকেই নামে বে-নামে ১-তলা/৩-তলা একাধিক পাকা বাড়ীর মালিক হয়েছেন। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট বাহিনীর প্রধান সার্ভেয়ার হযরত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যত কথাই লেখেন না কেন বড়জোড় বদলী করাইতে পারবেন এর বেশী কিছু করার ক্ষমতা আপনার নেই।
যেভাবে অদেশ অমান্য করে ঃ অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘাটাইল ভূমি অফিস ঢাকঢোল বাজিয়ে আইনের ব্যাখ্যা মুখে বললেও কাজের বেলায় রেজাল্ট উল্টো দিকে। এরা এতোটাই বেপরোয়া টাকা ছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশও মানেন না। জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছমা আরা বেগম ২০১৫ সালের ১৯ আগষ্ট কামারচালা গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আলালের জমি বুঝিয়ে দিতে সার্ভেয়ার হযরত আলীকে লিখিত আদেশ দিলেও গত ১০ মাসেও সে আদেশ কার্য্যকর করেন নাই। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার হযরত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ জমি অন্যের দখলে থাকায় বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব হয় নাই।
এভাবে ২০০৮ সালে বগা মৌজার ৯১৮ দাগে ৪.৮০ একর জমি এলাকার ১২ জন ভূমিহীন পরিবারে বন্দোবস্ত পায়। ঐ জমির দখলদার লিয়াকত আলী মাস্টার গং সরকারী দলের প্রভাব খাটাইয়া ভূমিহীনদের বাড়ী ঘর ভেঙ্গে দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় এবং ঘরে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মাইরধর করে তাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে ভূমিহীন পরিবার কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার আবেদন করলেও কাজের কাজ না হয়ে শুধু চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আমানুর রহমান ভূমিহীনদের পক্ষে ঘাটাইল ভূমি অফিসে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ নামা পাঠায়। তৎকালীন এসিল্যান্ড নাদিরা আক্তার সাংসদের সুপারিশনামা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সন্ধানপুর ইউনিয়ন তহশীলদার ফজলুল হককে লিখিত আদেশ দিলেও গত ২০ মাস পেরিয়ে গেলেও সে আদেশের কোন ব্যবস্থা নেন নাই। এ বিষয়ে ফজলুল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই জটিল এতো ঝামেলায় কে জড়ায়।
যেভাবে সরকারী আদেশ অমান্য করে ঃ জান যায় , ঘাটাইল ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সরকারের চাকুরী করে সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও এরা নিজেরাই সরকারের আইন মানেন না। ২০১৫ সালে ভূমি মন্ত্রনালয় দখলদারের হাত থেকে খাস জমি উদ্ধারের জন্য একটি আদেশ জারী করে। ঐ আদেশ সারাদেশে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশানারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের আদেশ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধার করার কথা। সে অনুযায়ী দেশের অন্যান্যস্থানে উদ্ধার অভিযান জোরদার থাকলেও ঘাটাইল ভূমি অফিস সে আদেশ ১ বছরেও চালু করেন নাই। উল্টো ঘাটাইল ভূমি অফিস মন্ত্রনালয়ের আদেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খাস জমি উদ্ধারের পরিবর্তে দখলদারদের ভোগ করার রাস্তা পাকাপোক্ত করতে বন্দবস্ত বাতিলের পায়তারা করছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোম মহানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাবছর আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। গত ১ বছরে কত একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আপনি সঠিকভাবে তদন্ত করে আমাকে একটি লিখিত রিপোর্ট দিন। কারো ভুল থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।
জানা যায়, ঘাটাইল ভূমি অফিসে আইনের প্রয়োগ না থাকায় সর্বক্ষেত্রেই চলছে অনিয়ম। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে খোড়া যুক্তি, আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চলছে অফিসের কার্য্যক্রম। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দেয়ার কথা থাকলেও ভূমি অফিস কোন তথ্য দেন না। ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল ফরম পূরণ করে যথা নিয়মে তথ্যের জন্য আবেদন করলেও গত ১৪ মাসেও সে তথ্য দেন নাই। গত ২৮ জুন ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত নামের তালিকা চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোমমহান প্রতিবেদককে সাফ জানিয়ে দেন অফিসের ডকুমেন্ট বাহিরে দেয়া যাবে না। ঘাটাইল উপজেলায় এ পর্যন্ত কতজন পরিবারকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর নিতে ৩ দিন এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করেও নেওয়া সম্ভব হয় নাই। এভাবে ভূমি অফিসের লুকচুরি খেলায় অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে বন্দোবস্ত খাসজমি ।
রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ
১ম পর্বের পর : জানা যায় যাদের মাথাগোজার ঠাঁই নাই এইসব হতদরিদ্র পরিবারকে পুর্নবাসন করতে সারাদেশের ন্যয় ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, দেওপাড়া ও জামুরিয়া ইউনিয়নে ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সন্ধানপুর ইউনিয়নের এগারকাহনিয়া মৌজায় ৮৮২, ১৩৯৪, ১৩৯৬ ও ১৩৮৯ দাগে ৪.৬০ একর খাসজমি ৯ জন ভূমিহীন পরিবারকে বন্দোবস্ত প্রদান করে। কিন্তু ভূমিহীনদের দেওয়া এইসব জমির সিংহভাগ এলাকার প্রভাবশালী এবং ধনী পরিবার মোনায়েম খান, জুব্বার খান, দুলাল খানদের দখলে থাকায় বন্দোবস্ত জমি বিতর্কিত হয়ে উঠে। একদিকে ভূমিহীন পরিবার তাদের প্রাপ্ত জমি দখল নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠে। অন্যদিকে প্রভাবশালীরা দখল ছাড়বেনা মর্মে উভয় পক্ষে চলে প্রতিযোগীতা। মাঝখানে এই প্রতিযোগীতার সুযোগ নেয় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার হযরত আলী অফিস সহকারী হবিবুর রহমান ও সন্ধানপুর ইউনিয়ন তহশীলদার ফজলুল হক। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দখলদারদের সহযোগীতা দিতে অলিখিত গোপন চুুক্তিনামা করে। বন্দোবস্ত কারীরা জমির জন্য চাপাচাপি করলেই দখলদারেরা টাকা দিয়ে অফিসের মুখ বন্ধ করে রাখে। যার ফলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ থাকলেও শেষে ঐ আদেশ ফাইল বন্ধী হয়ে পরে। এভাবেই ভূমি অফিসের সিন্ডিকেট বাহিনীর কাছে ১০ বছর যাবৎ জিম্মি হয়ে আছে ঐ ইউনিয়নের হতদরিদ্র ১৬টি পরিবার।
সরেজমিনে গেলে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ভূক্তভোগী কামারচালা গ্রামের আলালের সাথে। জানা যায়, তিনি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কোন জমিজমা নাই। থাকেন ভাঙ্গা ঘরে। বসবাস করেন অন্যের বাড়ীতে। সংসারে উপার্জন করার মত অন্য কেউ না থাকায় কখনো গান গেয়ে, কখনো ভিক্ষা বৃত্তি করে জিবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি প্রতিবেদককে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তিনি বলেন মাথাগোজার ঠাই পেতে একটু জমির আশায় ১০ বছর যাবৎ দৌড়াদৌড়ি করছি। খাজনা খারিজ করতে ভূমি অফিসে কয়েক দফায় টাকা দিলেও দখল বুঝিয়ে দেয় নাই। তিনি জানান ২০১৫ সালে সার্ভেয়ার হযরত আলী তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। তার দাবীকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবস্থা ভিন্ন দিকে চলে যায়। তার পর থেকেই অফিসে গেলে বন্দোবস্ত বাতিলের ভয় দেখাইয়া বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অফিসে গিয়ে কয়েক দফায় আবেদন জানিয়েছি। আমাদের কোন কথা না নিয়ে উল্টো দখলদার দুলাল খানের নিকট থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ চাপাইয়া আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে দখলদার দুলাল খানের নিকট খাসজমি কিভাবে তার নিজের হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিতর্কিত জমি আমার বাড়ীর পাশের থাকায় সরকারের লোকেরাই মানবিক কারনে আমার নামে রেকর্ড দিয়েছেন।
জানা যায় ভূক্তভোগী আলাল মিয়া ভূমি অফিসের সাপ খেলায় হেরে গিয়ে ২০১৪ সালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। চেয়ারম্যান কয়েক দফায় বৈঠক করে তদন্ত পূর্বক লিখিত আকারে মিমাংশা দিলেও দখলদার দুলাল খান চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছমা আরা বেগম সরেজমিনে তদন্ত করে সার্ভেয়ার হযরত আলীকে আলালের জমি বুঝিয়ে দিতে ৭৪১ নং স্মারকে লিখিত আদেশ দিলেও গত ১ বছর পেরিয়ে গেলেও সে আদেশ অজানাই রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার হযরত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ জমিতে অন্যের বাড়ীঘর থাকায় বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় নাই। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় আরেক ভূক্তভোগী সত্তরবাড়ী গ্রামের আইয়ুব খানের সাথে। জানা যায় তার কোন প্রকার জমিজমা নাই। বসবাস করেন খাস জমিতে। কখনো দিন মজুর, কখনো বাঁশ বেতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি বলেন ১০ বছর আগে ১৩৯৬ দাগে ৫০ শতক জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলাম। অনেক টাকা পয়সা খরচ করে খাজনা খারিজ করলেও শেষে ভূমি অফিসের দাবী মিটাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিমাপের অভাবে এখন পর্যন্ত দখল পাইনি। পরিমাপের জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েক দফায় আবেদন করেছি কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। কিছুদিন গেলেই সে আবেদন অফিসে খুজে পাওয়া যায় না। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত ভূমি অফিস কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে ঐ জমির দখলদার এবং এলাকার সবচাইতে ধনী পরিবার মোনায়েম খানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসে অনেক টাকা খরচ করেছি। শরীরের ঘাম ঝরিয়েছি। বন্দোবস্ত পাইলেই জমি পাওয়া যায় না।
কথা হয় আরেক ভূক্তভোগী কড়ালিয়া গ্রামের গোলাপ খানের সাথে। জানা যায় তার কোন প্রকার জমি জমা নাই সংসারের ঘানি টানতে- থাকার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে বসবাস করছেন খাস জমিতে। অন্যের বাঁশ বেতের ব্যবসায় দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গোলাপ খানের ছেলে বাবু জানায় শত অভাবের মাঝেও সার্ভেয়ার হযরত আলী ও নায়েব ফজলুল হককে যত টাকা দিয়েছি জমি বিক্রি করলেও ঐ টাকা হবেনা। তারপরেও অফিসের দাবী মিটাতে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের জমিতে দখলদার মোনায়েম খার বাড়ী না থাকলেও ভূয়াবাড়ী দাবী করে জেলা প্রশাসকের নিকট মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করিয়াছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এসিল্যান্ড সাহেবকে বার বার অনুরোধ করার পর বিষয়টি দেখতে আসলে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করতে এলাকার কাউকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করে সার্ভেয়ার হযরত আলীর কথায় মাত্র ৩/৪ মিনিটের লোক দেখানো তদন্ত করে চলে যান।
একই গ্রামের রেজাউল করিম জানায়, সত্তরবাড়ী গ্রামের নায়েব আলী ২০০৮ সালে জমি বন্দোবস্ত পেলেও সার্ভেয়ার হযরত আলীর দাবীকৃত ৫০ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জমির বিপরীতে সকল কাগজপত্র জমা নিয়ে তার বন্দোবস্ত দলিল অস্বীকার করেন। পরে ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিস হতে কবুলিয়ত নামার নকল উঠাইয়া পরিমাপ চেয়ে আবেদন করলেও দীর্ঘ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি ভূমি অফিস। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার্ভেয়ার হযরত আলী ও তহশীলদার ফজলুল হকের দুর্নীতির কারনেই এলাকায় দিন দিন কলহ বাড়ছে। তিনি বিষয়টি আসু ব্যবস্থা করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ
১ম পর্বের পর : জানা যায় যাদের মাথাগোজার ঠাঁই নাই এইসব হতদরিদ্র পরিবারকে পুর্নবাসন করতে সারাদেশের ন্যয় ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, দেওপাড়া ও জামুরিয়া ইউনিয়নে ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সন্ধানপুর ইউনিয়নের এগারকাহনিয়া মৌজায় ৮৮২, ১৩৯৪, ১৩৯৬ ও ১৩৮৯ দাগে ৪.৬০ একর খাসজমি ৯ জন ভূমিহীন পরিবারকে বন্দোবস্ত প্রদান করে। কিন্তু ভূমিহীনদের দেওয়া এইসব জমির সিংহভাগ এলাকার প্রভাবশালী এবং ধনী পরিবার মোনায়েম খান, জুব্বার খান, দুলাল খানদের দখলে থাকায় বন্দোবস্ত জমি বিতর্কিত হয়ে উঠে। একদিকে ভূমিহীন পরিবার তাদের প্রাপ্ত জমি দখল নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠে। অন্যদিকে প্রভাবশালীরা দখল ছাড়বেনা মর্মে উভয় পক্ষে চলে প্রতিযোগীতা। মাঝখানে এই প্রতিযোগীতার সুযোগ নেয় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার হযরত আলী অফিস সহকারী হবিবুর রহমান ও সন্ধানপুর ইউনিয়ন তহশীলদার ফজলুল হক। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দখলদারদের সহযোগীতা দিতে অলিখিত গোপন চুুক্তিনামা করে। বন্দোবস্ত কারীরা জমির জন্য চাপাচাপি করলেই দখলদারেরা টাকা দিয়ে অফিসের মুখ বন্ধ করে রাখে। যার ফলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ থাকলেও শেষে ঐ আদেশ ফাইল বন্ধী হয়ে পরে। এভাবেই ভূমি অফিসের সিন্ডিকেট বাহিনীর কাছে ১০ বছর যাবৎ জিম্মি হয়ে আছে ঐ ইউনিয়নের হতদরিদ্র ১৬টি পরিবার।
সরেজমিনে গেলে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ভূক্তভোগী কামারচালা গ্রামের আলালের সাথে। জানা যায়, তিনি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কোন জমিজমা নাই। থাকেন ভাঙ্গা ঘরে। বসবাস করেন অন্যের বাড়ীতে। সংসারে উপার্জন করার মত অন্য কেউ না থাকায় কখনো গান গেয়ে, কখনো ভিক্ষা বৃত্তি করে জিবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি প্রতিবেদককে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তিনি বলেন মাথাগোজার ঠাই পেতে একটু জমির আশায় ১০ বছর যাবৎ দৌড়াদৌড়ি করছি। খাজনা খারিজ করতে ভূমি অফিসে কয়েক দফায় টাকা দিলেও দখল বুঝিয়ে দেয় নাই। তিনি জানান ২০১৫ সালে সার্ভেয়ার হযরত আলী তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। তার দাবীকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবস্থা ভিন্ন দিকে চলে যায়। তার পর থেকেই অফিসে গেলে বন্দোবস্ত বাতিলের ভয় দেখাইয়া বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অফিসে গিয়ে কয়েক দফায় আবেদন জানিয়েছি। আমাদের কোন কথা না নিয়ে উল্টো দখলদার দুলাল খানের নিকট থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ চাপাইয়া আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে দখলদার দুলাল খানের নিকট খাসজমি কিভাবে তার নিজের হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিতর্কিত জমি আমার বাড়ীর পাশের থাকায় সরকারের লোকেরাই মানবিক কারনে আমার নামে রেকর্ড দিয়েছেন।
জানা যায় ভূক্তভোগী আলাল মিয়া ভূমি অফিসের সাপ খেলায় হেরে গিয়ে ২০১৪ সালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। চেয়ারম্যান কয়েক দফায় বৈঠক করে তদন্ত পূর্বক লিখিত আকারে মিমাংশা দিলেও দখলদার দুলাল খান চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছমা আরা বেগম সরেজমিনে তদন্ত করে সার্ভেয়ার হযরত আলীকে আলালের জমি বুঝিয়ে দিতে ৭৪১ নং স্মারকে লিখিত আদেশ দিলেও গত ১ বছর পেরিয়ে গেলেও সে আদেশ অজানাই রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার হযরত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ জমিতে অন্যের বাড়ীঘর থাকায় বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় নাই। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় আরেক ভূক্তভোগী সত্তরবাড়ী গ্রামের আইয়ুব খানের সাথে। জানা যায় তার কোন প্রকার জমিজমা নাই। বসবাস করেন খাস জমিতে। কখনো দিন মজুর, কখনো বাঁশ বেতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি বলেন ১০ বছর আগে ১৩৯৬ দাগে ৫০ শতক জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলাম। অনেক টাকা পয়সা খরচ করে খাজনা খারিজ করলেও শেষে ভূমি অফিসের দাবী মিটাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিমাপের অভাবে এখন পর্যন্ত দখল পাইনি। পরিমাপের জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েক দফায় আবেদন করেছি কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। কিছুদিন গেলেই সে আবেদন অফিসে খুজে পাওয়া যায় না। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত ভূমি অফিস কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে ঐ জমির দখলদার এবং এলাকার সবচাইতে ধনী পরিবার মোনায়েম খানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসে অনেক টাকা খরচ করেছি। শরীরের ঘাম ঝরিয়েছি। বন্দোবস্ত পাইলেই জমি পাওয়া যায় না।
কথা হয় আরেক ভূক্তভোগী কড়ালিয়া গ্রামের গোলাপ খানের সাথে। জানা যায় তার কোন প্রকার জমি জমা নাই সংসারের ঘানি টানতে- থাকার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে বসবাস করছেন খাস জমিতে। অন্যের বাঁশ বেতের ব্যবসায় দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গোলাপ খানের ছেলে বাবু জানায় শত অভাবের মাঝেও সার্ভেয়ার হযরত আলী ও নায়েব ফজলুল হককে যত টাকা দিয়েছি জমি বিক্রি করলেও ঐ টাকা হবেনা। তারপরেও অফিসের দাবী মিটাতে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের জমিতে দখলদার মোনায়েম খার বাড়ী না থাকলেও ভূয়াবাড়ী দাবী করে জেলা প্রশাসকের নিকট মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করিয়াছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এসিল্যান্ড সাহেবকে বার বার অনুরোধ করার পর বিষয়টি দেখতে আসলে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করতে এলাকার কাউকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করে সার্ভেয়ার হযরত আলীর কথায় মাত্র ৩/৪ মিনিটের লোক দেখানো তদন্ত করে চলে যান।
একই গ্রামের রেজাউল করিম জানায়, সত্তরবাড়ী গ্রামের নায়েব আলী ২০০৮ সালে জমি বন্দোবস্ত পেলেও সার্ভেয়ার হযরত আলীর দাবীকৃত ৫০ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জমির বিপরীতে সকল কাগজপত্র জমা নিয়ে তার বন্দোবস্ত দলিল অস্বীকার করেন। পরে ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিস হতে কবুলিয়ত নামার নকল উঠাইয়া পরিমাপ চেয়ে আবেদন করলেও দীর্ঘ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি ভূমি অফিস। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার্ভেয়ার হযরত আলী ও তহশীলদার ফজলুল হকের দুর্নীতির কারনেই এলাকায় দিন দিন কলহ বাড়ছে। তিনি বিষয়টি আসু ব্যবস্থা করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ
২য় পর্বের পর : ঘাটাইল সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ্যাসিল্যান্ড মনিরুল আলম ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সন্ধানপুর ইউনিয়নের বগা মৌজায় ৯১৮ দাগে এলাকার ১২ জন ভূমিহীন পরিবারকে ৪.৮০ একর খাস জমি কাগজে কলমে বন্দোবস্ত দিলেও ভূমি অফিসের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ১০ বছরেও দখল পাননি ভূমিহীনদের ঐসব বন্দোবস্ত জমি। উল্টো দখলদারের হাতে নির্যাতিত হয়ে মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে সর্বস্ব হারাতে বসেছে অনেকেই।
মামলার বিবরন, ভূক্তভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় সন্ধানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রেহেনা, ছালেহা, সুফিয়া, হামিদ ও আলিম সহ ১২ জন হতদরিদ্র পরিবার বগা মৌজায় ৯১৮ দাগে ৪.৮০ একর খাসজমি বন্দোবস্ত পায়। তারা যথানিয়মে খাজনা খারিজ সহ রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকে। ঐসব জমির দখলদার এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা সত্তরবাড়ী গ্রামের লিয়াকত আলী মাষ্টার, সোহেল রানা, মোনছের আলী, মজনু সেখ সহ ভূমিহীনদের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। তারা ২০০৮ সনের ২৩শে আগষ্ট ৫০/৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল রাতের অন্ধকারে ভূমিহীনদের বসতবাড়ী হামলা করে ঘরদরজা ভেঙ্গে সর্বস্য লুট করে নিয়ে যায়। এবং ১টি ঘরে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভূমিহীনদের মাইরধর করে তাড়িয়ে দেয় বলে জানা যায়। এ নিয়ে ভূমিহীনদের পক্ষে রেহেনা বেগম ওলতা বেগম বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামী করে ঘাটাইল সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কর্তৃপক্ষ দখলমুক্ত করার কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে দায় শেষ করেন। শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও আসামী গ্রেপ্তার করলেও রাজনৈতিক নেতাদের দাপটে ভূমিহীনদের অভিযোগ ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে।
এভাবে হতদরিদ্র ভূমিহীন পরিবার এসিল্যান্ড, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় এমপিও জেলা প্রশাসকের নিকট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার আবেদন করলেও কাজের কাজ না হয়ে টাঙ্গাইল রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর ও ঘাটাইল এসিল্যান্ড অফিসে চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে জানা যায়।
ভূক্তভোগী আলিম, সুফিয়া, রেহেনা, লতা ও ছালেহা জানায় লিয়াকত মাস্টার ও তার সন্ত্রাসী দল অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে আমাদের বাড়ী ঘর ভেঙ্গে দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। থানায় বিচার করার কথা বলে বিলম্ব করে মূল্যবান গাছ কেটে নেয়। ভূমি অফিসে বিচার দিলেও তার কোন প্রতিকার না করে ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও জমি দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা না করে অভিযোগের ৪ বৎসর পর গাছকাটার ক্ষতিপূরন মামলা করে ভূমি অফিস তাদের দায় শেষ করেন।
ভূক্তভোগী রেহেনা প্রতিবেদককে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, অফিসে গেলে বলে জমি দিয়ে দিয়েছি, দখল করার দায়িত্ব আপনাদের। জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করলেও কোন বিচার হয় না। তবে আমরা কার কাছে বিচার পাব?
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোমমহান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা করা হবে।
এভাবে উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের ১৬টি ভূমিহীন পরিবারের বিচার ১০ বৎসর যাবত আইনের কাছে নিভৃতে কাঁদলেও ঘাটাইল ভূমি অফিসের নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে বন্দোবস্ত খাস জমি।





