বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯

টাঙ্গাইলে ১০০ টাকায় মিলবে পুলিশের চাকুরি ....পুলিশ সুপার

টাঙ্গাইলে জনবান্ধব ও ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় (বিপিএম) বলেছেন, এখন ১০০ টাকায় মিলবে পুলিশের চাকুরি।

আগামী ১ জুলাই (সোমবার) টাঙ্গাইল জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে মাত্র ৩ টাকা মূল্যের ১ টি চালান ফরম ও ১০০ টাকায় মিলবে পুলিশের চাকুরি।

এই ১০০ টাকা কনস্টেবল নিয়োগে সরকার নির্ধারিত পরীক্ষার ফি বাবদ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

নিয়োগ প্রার্থীদের প্রতারক ও দালাল চক্রের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার জন্য আহবান করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় (বিপিএম)।

উল্লেখ্য, আগামী ১ জুলাই পুলিশ কনস্টেবল পদে টাঙ্গাইলের স্থানীয় পুলিশ লাইনে লোক নেয়া হবে। ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বাজেট : বেনসন ২০ টাকা হচ্ছে, গোল্ডলিফ ১৬ টাকা!

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে শুল্ককর বাড়ানোর মাধ্যমে ধূমপায়ী ও তামাকসেবীর সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিগারেটের দাম সর্বনিম্ন ৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে সম্প্রতি লেখা এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।


চিঠিতে আসন্ন বাজেট সামনে রেখে সিগারেটসহ সবধরনের তামাকজাত পণ্যের ওপর বিদ্যমান করকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে বাজারে চলমান প্রতিটি কম দামের সিগারেটে কমপক্ষে চার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

একই সঙ্গে বেনসন ও গোল্ডলিফসহ সমমানের ব্র্যান্ডের প্রতিটি সিগারেটের দাম বাড়বে অতিরিক্ত আট টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম পাঁচ টাকা ও উচ্চস্তরে প্রতি সিগারেট ১২ টাকা খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে এক শলাকা বেনসনের দাম ২০ টাকা এবং গোল্ডলিফের দাম ১৬ টাকা হতে পারে।

চিঠিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে এসব প্রস্তাব বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশে গড়তে তামাকের করকাঠামো পরিবর্তন করে বিশেষ করে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে দুটি করার পাশাপাশি ১০ শলাকা সিগারেটের ওপর সুনির্দিষ্ট অতিরিক্ত পাঁচ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবে সিগারেটে করারোপের ক্ষেত্রে বর্তমান নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে একটি এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরকে একত্রিত করে আরেকটি স্তর করতে বলা হয়েছে। নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য কমপক্ষে ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার পাশাপাশি সব সিগারেটের প্রতি শলাকার ওপর পাঁচ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

এই প্রস্তাবে বিড়ির ক্ষেত্রে মূল্য বিভাজন তুলে দিয়ে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৮ টাকা করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং চার টাকা ৮০ পয়সা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবে ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বিলুপ্ত করে সিগারেট ও বিড়ির মতোই খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে করারোপ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার মূল্য ৩৫ টাকা এবং গুলের দাম ২০ টাকা করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জর্দার ওপর পাঁচ টাকা এবং গুলের ওপর তিন টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্প আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার চিঠিতে বলেছেন, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর বর্তমান করকাঠামো অত্যন্ত জটিল ও তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ ধরনের করকাঠামো কোনও ভূমিকা রাখতে পারছে না। সিগারেটে বহুস্তর বিশিষ্ট করকাঠামো চালু থাকায় বাজারে অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। ধূমপান ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে ভোক্তা কমদামি সিগারেট বেছে নিচ্ছে।

দাম বাড়বে যেসব জিনিসের

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি ক্ষমতাসীন সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এবং দেশের ৪৮তম বাজেট।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো আ হ ম মুস্তফা কামালের দেয়া এ বাজেটে ভ্যাটের পরিধি যেমন ব্যাপক হারে বিস্তৃত করা হয়েছে, তেমনি নিত্য ব্যবহার্য কিছু পণ্যের ভ্যাট হারও বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।


নতুন অর্থবছরের বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কারণে সব ধরনের সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম বাড়তে পারে। একই কারণে বাড়তে পারে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ। রড উৎপাদন ও বিপণনে ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করায় বাড়ি করার খরচ বাড়তে পারে।

উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ মূল্যের পরিবর্তে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করায় এলপি গ্যাস, গুঁড়া দুধ, গুঁড়া মসলা, টমেটো কেচাপ, চাটনি, ফলের জুস, টয়লেট টিস্যু, টিউবলাইট, চশমার ফ্রেমের দাম বাড়তে পারে।

একই কারণে দাম বাড়তে পারে প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী, সিআর কয়েল, জিআই ওয়্যার, তারকাঁটা, স্ক্রু, অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসনসহ গৃহস্থালি সামগ্রী, ব্লেড, ট্রান্সফরমার, সানগ্লাস, রিডিং গ্লাসের।

স্বর্ণ ও রুপার জুয়েলারি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, লঞ্চের এসি কেবিন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ইনডেনটিং, আসবাবপত্র, পরিবহন ঠিকাদার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর ভ্যাট দেয়ার প্রস্তাব করায় এসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের খরচ বাড়তে পারে।

পোশাকের মূল্যের ওপর আড়াই শতাংশ ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে জামা-কাপড়ের দাম বাড়তে পারে। জামা-কাপড় কেনার পাশাপাশি তৈরি করতেও খরচ বাড়তে পারে। কারণ জামা-কাপড় তৈরির ওপর ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে।

হেলিকপ্টারের সেবা মূল্যের ওপর ভ্যাটের পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে। ফলে হেলিকপ্টারে যাতায়াতের ক্ষেত্রে খরচ বাড়তে পারে।

যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলবাস ছাড়া সব ধরনের পরিবহন রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট নবায়ন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ নিতে এবং নবায়ন করতে বিআরটিএ নির্ধারিত সেবামূল্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপের কারণে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়তে পারে। র সুগার ও রিফাইন সুগারের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়ছে, যা আগে ছিল ২০ শতাংশ। ফলে চিনির দামও বাড়তে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু

শুরু হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন। এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

শুরুতে দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরবর্তীতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে আগামী ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

এর আগে মন্ত্রিসভা ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেয়। বাজেট ঘোষণার আগে দুপুর ১টার একটু পর জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা এ অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অসুস্থ থাকার কারণে আসতে দেরি হওয়ায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে ছাড়াই মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়। পরে অর্থমন্ত্রী অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে সরাসরি বৈঠকে যোগ দেন।

চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার দাঁড়ায় চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় করতে না পারা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থখরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় চার লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয়

আসছে অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এটি পরবর্তীতে বাড়তে কিংবা কমতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ছিল তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে ছিল তিন লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধীন আয় তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সেবার ফি, হাসপাতালের টিকিট মূল্য, সেতুর টোলসহ বিভিন্ন খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।


অভ্যন্তরীণ আয়ের বাইরে আগামী অর্থবছরে বিদেশ থেকে চার হাজার ১৬৮ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার। অনুদান যেহেতু ফেরত দিতে হয় না, তাই এ পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেলে মোট আয় দাঁড়াবে তিন লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে চার হাজার ৫১ কোটি টাকা অনুদানের আশা করলেও বাজেট সংশোধনকালে তা কমিয়ে তিন হাজার ৭৮৭ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়।

ব্যয়ের খাত

পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে নতুন অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, যা আগে অনুন্নয়ন ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হতো। এর মধ্যে সরকারের আবর্তক ব্যয় দুই কোটি ৭৭ লাখ ৯৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে চার হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া সরকারের মূলধন খাতে ৩২ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

নতুন অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। সেখান থেকে ইতোমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এনইসি)। এছাড়া এডিপিবহির্ভূত বিশেষ প্রকল্প, স্কিম ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে বাকি অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী।

সাধারণত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কার কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সরকার। এ খাতে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই হাজার ১৮৪ কোটি টাকা।

ঘাটতি অর্থায়ন

অনুদান না পেলে নতুন বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াবে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, কোনো দেশের বাজেট ঘাটতি পাঁচ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা ঝূঁকিপূর্ণ নয়। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছিল, যা ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জন না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি বাড়িয়ে এক লাখ ২৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা ধরা হয়, যা জিডিপির পাঁচ শতাংশ। তবে বিদেশি অনুদান পাওয়া গেলে নতুন অর্থবছরে ঘাটতি দাঁড়াবে এক লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

এ ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেখান থেকে বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরে নিট বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। বাকি ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা দেশের ভেতর থেকে ঋণ নেয়া হবে, যার মধ্যে তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

চলতি অর্থবছর ব্যাংক খাত থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

এছাড়া ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে নিট ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে, যার মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে তিন হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য থাকলেও উচ্চ সুদহারের কারণে মানুষ এ খাতে বেশি বিনিয়োগ করেছে। ফলে সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি

আসছে বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি অর্থবছর ধরা হয় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এ প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থবছরের জন্য আকার প্রাক্কলন করা হচ্ছে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কম থাকবে। ফলে অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকবে। এদিক বিবেচনায় নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

করের বোঝা নয়, আওতা বাড়ছে

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে এর আওতা বাড়ানো হচ্ছে। সেজন্য নতুন করে ৮০ লাখ করদাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হবে। বর্তমানে কর দিচ্ছেন দেশে এমন লোকের সংখ্যা ২০ লাখ। ফলে করের আওতায় এক কোটি লোককে আনা হবে। করের আওতা বাড়াতে সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় নয় লাখ হাট-বাজারের করযোগ্য ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে এর আওতা বাড়ানো হবে। এছাড়া দেশব্যাপী করযোগ্য হলেও যারা কর দিচ্ছেন না, তাদের শনাক্ত করে করের আওতায় আনা হবে।

ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ ঘিরে কুরুচিকর বিজ্ঞপনে বিরক্ত সানিয়া!

বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হবে ১৬ জুন। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে চলছে দা-কুমড়ো সম্পর্ক। উপরন্তু উপমহাদেশের এই দুই দেশের খেলা মানেই যেন অঘোষিত যুদ্ধ। এরই মধ্যে দুই দেশ মেতে উঠেছে নোংরা বিজ্ঞাপন যুদ্ধে। একে অপরকে ট্রল করে যাচ্ছে। এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভারতের টেনিস সেনসেশন সানিয়া মির্জা। 
পাকিস্তানের জ্যাজ টিভিতে ভারতের বিমান বাহিনীর পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে বিদ্রূপ করে একটি টিভি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। জ্যাজ টিভি এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচও সম্প্রচার করছে। 

বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি পরা অভিনন্দনের আদলে এক ব্যক্তিকে কিছু প্রশ্ন করা হচ্ছে। তিনি অভিনন্দনের মতোই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করছেন। পরে তাকে এক কাপ চা খেতে দেয়া হলে তিনি চায়ের প্রশংসা করেন। যেমনটা অভিনন্দনও করেছিলেন। এরপরই বিজ্ঞাপনে কাপ হাতে নিয়ে ওই ব্যক্তি উঠে যেতে চাইলে কাপটি তার হাত থেকে কেড়ে নেয়া হয়।

এই বিজ্ঞাপন নিয়ে বেশ বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকা শোয়েব মালিকের স্ত্রী সানিয়া টুইট করেছেন, ‘শুধুমাত্র মার্কেটিংয়ের জন্য এরকম কুরুচিকর বিজ্ঞাপন বানিয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ভারত পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে যথেষ্ট উত্তেজনা ও আগ্রহ মানুষের মধ্যে আছে।  এটা শুধুমাত্র একটি ক্রিকেট ম্যাচ। ম্যাচের বাইরে অন্যকিছু যারা ভাবেন তাদের জন্য সমবেদনা রইল।’

পাবলিক পরীক্ষায় থাকছে না জিপিএ ৫, নতুন পদ্ধতি...

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় থাকছে না জিপিএ ৫।  আগামী জেএসসি থেকেই তা কমিয়ে জিপিএ-৪ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৪ ধরে এর ভিত্তিতেই পরীক্ষাগুলোর ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

গতকাল বুধবার আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৈঠকে তিনি সিজিপিএ পুনর্বিন্যাস করে একটি খসড়া উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।

তথ্যমতে, প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গ্রেড-৫ ধরে ফল নির্ধারণ করা হয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রেড সিজিপিএ-৪ নির্ধারিত রয়েছে। ফলে এসএসসি আর এইচএসসির ফলের সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষার ফলের সমন্বয় করতে গিয়ে দেশের চাকরিদাতারাই মহাসমস্যায় পড়েন। আর আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের ফলাফলের সমতা থাকছে না।

এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ জন্য সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি ৪-এর লক্ষ্য অর্জনে সব পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আর তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক গ্রেডে ফল প্রকাশ করার প্রক্রিয়া চলছে। সব মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই গ্রেড পরিবর্তন করছে বলে জানা যায়।

আন্ত শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, আন্ত বোর্ডের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে সিজিপিএ ৫-এর পরিবর্তে ৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশে সবাই একমত হয়েছেন। সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে কীভাবে ফল দেয়া যায় সে ব্যাপারে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি খসড়া শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব। যদি সম্ভব হয় তাহলে চলতি বছরের জেএসসি থেকেই আমরা সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশ করতে চাই।

এছাড়া জানা যায়, পরীক্ষার প্রায় ছয় মাস আগেই রুটিন প্রকাশ করা হবে। জেএসসি, জেডিসি ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হয়। ফলে ক্লাসসহ অন্য একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয় না কেন্দ্রগুলোতে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্যান্য শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা। এ ক্ষেত্রে একটি পরীক্ষার পর অন্য পরীক্ষার বিরতি কমিয়ে আনা হবে। এক পরীক্ষার পর অন্য পরীক্ষার মধ্যকার ছুটি বাতিল করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম বলেন, একটি পরীক্ষার পর দুই-চার দিন বন্ধ বা গ্যাপ রাখা অনাবশ্যক। পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা যুগোপযোগী ও ভালো সিদ্ধান্ত।

ঘাটাইলে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

“প্রজন্মের জন্য নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য” – এই প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গুডনেইবারস ঘাটাইল সিডিপির উদ্যোগে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‌্যালী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বুধবার (১২ জুন) বিকেলে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথী ছিলেন, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কৃমার, শিশু পরিষদের সভাপতি মো. সাগর আহমেদ প্রমুখ।

এ সময় গুডনেইবারস বিদ্যালয়ের প্রায় দুইশত ছাত্রছাত্রী। উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসানা মিমি ।

বুধবার, জুন ১২, ২০১৯

ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, নষ্ট হলো গর্ভের সন্তান

শেরপুরের নকলা উপজেলার কায়দা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ডলি খানম নামে এক অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।  ফলে গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 



প্রায় এক মাস আগে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার রাতে এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ফাঁস হলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। 



নির্যাতনের শিকার ডলি খানম নকলা পৌর শহরের কায়দা এলাকার কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী ও স্থানীয় চন্দ্রকোণা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।



এ ঘটনায় অসহায় শফিউল্লাহ গত ৩ জুন শেরপুরের আমলি আদালতে তার ভাই আবু সালেহসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করে একটি নালিশি মামলা  করেছেন। 



আদালতের বিচারিক হাকিম শরীফুল ইসলাম খান ভিকটিমের এমসি তলব (ডাক্তারি পরীক্ষার সনদ) সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুর পিবিআইয়ের ওসি’র প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।



ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে থাকা একটি ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে পেছনে হাত রেখে বেঁধে দুই পা রশিতে বাঁধছেন বোরকা পরা দুই নারী। পরে ডলি খানমের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পাশে দাঁড়ানো গায়ে পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি চোখে চশমা পরিহিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। পাশে আরো কয়েকজন নারী এবং কয়েকজনকে দেখা যায়।



মঙ্গলবার বিকেলে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী শফিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড়ভাই নেছার উদ্দিনের ইন্ধনে তার স্ত্রী লাকি আক্তার এবং অপর দুই ভাই আবু সালেহ ও সলিমউল্লাহসহ তাদের ভাড়াটে লোকজন আমার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়া তার প্রভাবেই থানা পুলিশের এসআই ওমর ফারুক নারী কনস্টেবলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডলি খানমকে উদ্ধারের পরও কোনো প্রতিকার পাইনি।



তিনি বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটিও থানাতেই গায়েব করে দেয়া হয়েছে। তবে অনেক চেষ্টায় ঘটনার প্রায় এক মাস পর হলেও সেই ভিডিওর কিছু অংশ এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি।



তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, এমন বর্বর নির্যাতনের পরও তারা আজ বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। আর আমি অসহায়। এ জন্য আমি ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।



নকলা পৌর শহরের উপকণ্ঠ কায়দা গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহর সঙ্গে একখণ্ড জমি নিয়ে তার সহোদর বড় ভাই আবু সালেহ, নেছার উদ্দিন ও সলিমউল্লাহর বিরোধ ও দেওয়ানি মোকদ্দমা চলছিল। এর জের ধরে গত ১০ মে সকালে স্থানীয় গোরস্থান সংলগ্ন শফিউল্লাহর দখলীয় জমির ইরি-বোরো ধান আবু সালেহ ও তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে কাটতে গেলে শফিউল্লাহ বাধা দেন। এতে তিনি প্রতিপক্ষের ধাওয়ার মুখে পিছু হটে নকলা থানায় ছুটে যান। ততক্ষণে আবু সালেহর নেতৃত্বে একদল লোক ধান কাটতে শুরু করলে তার তিন মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম বাধা দিতে গেলে আবু সালেহর হুকুমে তার ছোটভাই সলিমউল্লাহ, ভাইবউ লাকি আক্তারসহ অন্যান্যরা তাকে ঘেরাও করে ফেলে।



একপর্যায়ে তার চোখে মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে তাকে টানা-হেচড়া করে পাশের ক্ষেতের আইলের থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে পেছনে হাত রেখে বেঁধে ফেলে। সেইসঙ্গে পাশের অন্য গাছের সঙ্গে টানা দিয়ে বেঁধে ফেলে তার দুই পা। এরপর যৌনাঙ্গসহ পেটে, বুকে, পিঠে উপুর্যপরি কিল-ঘুষি-লাথির আঘাতে তাকে নিস্তেজ করে ফেলে। এ দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীদের একজন শফিউল্লাহকে ওই নির্যাতনের খবর জানাতে ছুটে যায় থানায়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় ডলি খানমকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত আবু সালেহ ও তার ছোট ভাই বউ লাকি আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসার কথা বলে ডলি খানমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর পর প্রভাবশালীদের তদবিরে ছাড়া পেয়ে যান আটক দুইজন।



অন্যদিকে ডলি খানমের রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তাকে ১৬ মে পর্যন্ত সাতদিন চিকিৎসা দেয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও ২২ মে পর্যন্ত সাতদিন চলে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয়েছে।



নকলা থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, জমিজমার বিষয় নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে দুই পক্ষকেই শান্ত করা হয়েছিল। গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।



জামালপুর পিবিআইয়ের দায়িত্বে থাকা অ্যাডিশনাল এসপি সীমা রাণী সরকার বলেন, মামলাটি এখনও হাতে পাইনি। পেলে অবশ্যই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কি খুজছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন?

কলকাতার বাঙালি সুন্দরী বিশ্বসুন্দরী খেতাব জয় করে বলিউডের নায়িকা হিসেবে নাম লেখান সুস্মিতা সেন। তবে সিনেমার ক্যারিয়ারে বেশি সফল হননি তিনি। যদিও নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলোর জন্য সবসময়ই আলোচনার শিরোনামে থেকেছেন সুস্মিতা। বিগত কয়েকমাস ধরে প্রেমিক রহমান শোলের কারণে সুস্মিতা খবরে আসছেন নিয়মিত। নিজেদের প্রেমের সময়ের ছবি পোস্ট করে খবরের জন্ম দেয়া অভিনেত্রী সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে বলিউড সিনেমায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেন।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বোল্ড আইল্যাশ আর নুড মেকআপের কয়েকটি মোহময়ী ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা সেন লিখেছেন, মেকআপ, হেয়ার, লাইট আর আয়নার এই অ্যান্টিক কাচ। রাউন্ড ২... ক্লাসের কাছে আমার ফিরে আসার অপেক্ষা।



সুস্মিতার এই ছবির নিচে এক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, ৪৩ বছর বয়সে আবার নতুন করে শুরু! তার উত্তরে সুস্মিতা লিখেছেন, হ্যাঁ ৪৩, এই বয়সেই আমি আবার নতুন করে শুরু করতে চাই, শিখতে চাই। কাজ ও শেখা কখনোই শেষ হয় না, যতক্ষণ না আমরা নিজেরা বলি যে এটা শেষ হয়েছে।



যদিও এই পোস্টে সুস্মিতার অভিনয়ে ফেরার ব্যাপারটি খোলাসা হয়নি। তবু ভক্তরা ধরে নিয়েছেন, তিনি হিন্দি সিনেমায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলিউড সিনেমায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। 



সবশেষ ২০১৫ সালে বাংলা সিনেমা ‘নির্বাক’-এ সুস্মিতাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। আর বলিউডে তারও আগে ২০১০ সালে ‘দুলহা মিল গ্যায়া’ সিনেমাতে শেষ দেখা গিয়েছিল তাকে।

পরিবহন সংকটের ভয়ে টাঙ্গাইলে বাসভাড়া দ্বিগুণ!

টাঙ্গাইলে ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হবে। তাঁদের দাবি, বাড়তি ভাড়া না নিলে পরিবহন সংকট দেখা দেবে।

যাত্রীরা জানান, ঈদের চার-পাঁচ দিন আগে থেকেই ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী প্রতিটি বাস-মিনিবাস সার্ভিস দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে। ঈদের দুদিন পর থেকে আবারও টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছ থেকে একই কায়দায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় শুরু হয়েছে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফিরতে বাড়তি টাকা খরচ করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

মঙ্গলবার টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস সার্ভিসে ২৫০ টাকার স্থলে ৪০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে নিরালা সিটিং সার্ভিসে ১৫০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সার্ভিসেও প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া আদায়য়ের প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

ঢাকাগামী শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের যাত্রী শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার শামীমুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহব্যাপী বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। নিরালা সিটিং সার্ভিসের কাউন্টারের সামনে যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশে কি আইন বলে কিছু নেই। যার যেমন ইচ্ছা ভাড়া নেবে।’

গাজীপুর এলাকার পোশাকশ্রমিক আয়শা বেগম বলেন, তিনি ঈদ শেষে কর্মস্থল ফিরবেন। গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় নামবেন। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে ধলেশ্বরী সার্ভিসে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে ছেলেমেয়েসহ পাঁচজনের যেতে দ্বিগুণ করে ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

শুধু টাঙ্গাইল থেকেই নয়, এ জেলার ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর, ভূঞাপুরসহ সব উপজেলা থেকেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

এ প্রসঙ্গে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন জানান, বর্ধিত ভাড়া না নিলে এ গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় রিজার্ভে চলে যাবে। এতে টাঙ্গাইলের যাত্রীরা পরিবহন সংকটে পড়বে। বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলেই গাড়িগুলো এ রুটে রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।