বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৪, ২০১৬

ঘাটাইল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল), ১৪ জুলাই,  : আজ বৃহস্পতিবার ঘাটাইলে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথী ছিলেন বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ আবু বকর সিদ্দিকী। উদ্ধোধন করেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি খন্দকার তাহাজ্জত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী, সাধারণ সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম শামছুল হক, পৌরসভার মেয়র মনজুরুল হক, সাবেক মেয়র আঃ রশিদ মিয়া ও হাসান আলী মিয়া। মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ জহিরুল হক শামীম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ লুৎফর রহমার তালুকদার, শিক্ষক নেতা এনামুল হক, মোঃ শহীদুল ইসলাম প্রমূখ

স্যান্ডেল বিক্রেতা সেজে খুনি ধরলেন এসআই বিল্লাল

পরনে লুঙ্গি-গেঞ্জি। পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল। কাঁধে পুরনো জুতাভর্তি ব্যাগ নিয়ে গ্রামের রাস্তায় হেঁটে চলেছেন এক ফেরিওয়ালা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাঁক ছাড়ছেন, ‘পুরান জুতা-স্যান্ডেল নিবেন গো, পুরান…’ না, এটা কোনো ফেরিওয়ালার গল্প না। এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামি ধরার গল্প।
গেল বছরের ২৬ জুন যাত্রাবাড়ীর একটি মেস থেকে রিপন নামের মাঝবয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি বেশ কয়েক দিন আগের হওয়ায় তা পচে ফুলে ওঠে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও নেই, যা দেখে পুলিশ সন্দেহ করবে এটি হত্যাকাণ্ড।
আবার যে বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয়েছে, সেখানে অন্য কোনো মানুষও নেই। তালাবদ্ধ বাসা। তাই আর বিলম্ব না করে এটিকে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয় যাত্রাবাড়ী থানায়।
সপ্তাহখানেক পরে মৃতদেহটির ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। রিপোর্ট দেখে পুলিশের চোখ কপালে। সেখানে বলা হয়, ‘এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। রিপনকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।’
এরপরই পুলিশের সন্দেহ তীব্র হলো। রিপনের বোনকে ডেকে পুরো বিষয়টি খুলে বলা হল। তিনি চলতি বছরের ৪ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় রিপনের রুমমেটদের অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল আল আজাদ।
শুরু হলো রিপনের রুমমেটদের খোঁজা। কিন্তু তারা কেউ আর ওই এলাকায় নেই। আবার তাদের বিস্তারিত তথ্যও প্রতিবেশীদের কেউই জানেন না। তবে মুরসালিন নামে রিপনের এক রুমমেট পাশের গ্যারেজে বছরখানেক আগে কাজ করতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এসআই বিল্লাল ওই গ্যারেজে গেলেন।
গ্যারেজ মালিকের সাঙ্গে কথা বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারলেন মুরসালিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের হোসনাবাদ গ্রামে। বাবার নামের শেষ অংশ আলম। এই তথ্য নিয়ে এসআই বিলাল ছুটলেন বারিশালে। টানা দুইদিন জুতা বিক্রির ছদ্মবেশ নিয়ে ঘুরলেন ওই গ্রামের প্রতিটি বাড়ি। কিন্তু আসামির বাবার নামের পুরো অংশ না থাকায় তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে ওই গ্রামের ভোটার লিস্ট সংগহ করেন এসআই বিলাল। সেখানে মোট সাতজনের নামের শেষে আলম পাওয়া যায়। জুতা বিক্রেতার ছদ্মবেশে তিনি একে একে সাতটি বাড়িতেই যান। এর মধ্যে সর্বশেষ বাড়ি অর্থাৎ সপ্তম আলমের বাসায় গিয়ে নিশ্চিত হন, এটাই মুরসালিনের বাড়ি। কিন্তু ওই বাড়িতে তালা! প্রতিবেশীরা জানালেন, মুরসালিন বাবাকে নিয়ে ঢাকায় কাজ করেন। এখানে আর তারা থাকেনও না, আসেনও না।
প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারলেন, একবছর আগে থেকে মুরসালিন মোবাইল ব্যবহার বাদ দিয়েছেন। এখন শুধু তার বাবা মোবাইল ব্যবহার করেন। বাবার নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে তিনি এখন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং গ্রামে আছেন।
চলতি বছরের ২৬ জুন যাত্রাবাড়ীর থানার এসআই বিল্লাল চলে যান মুন্সিগঞ্জের লৌহজং গ্রামে। সেখান থেকে মুরসালিন সন্দেহে এক যুবককে আটক করেন। কিন্তু তার বাবার নামের শেষে কোনো আলম নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানান, অন্য এক মুরসালিন ওই গ্রামেরই পূর্ব পাড়ায় এক বাড়িতে কাজ করেন।
রাত তখন সাড়ে ৩টা। মুন্সিগঞ্জ থানার ফোর্স নিয়ে এসআই বিল্লাল রওনা হলেন পূর্বপাড়ার সেই বাড়িতে, যেখানে মুরসালিন কাজ করে। বাড়িটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের। চারদিকে শক্ত প্রাচীর। গেটে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম লাগানো। বাড়ির মালিকের দুটো লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে পুলিশ জানতে পারে। এমতাবস্থায় ওই বাড়ির কলিং বেল টিপে ভেতরে ঢুকতে গেলে আসামি পালিয়ে যাবে। তাই আর বিলম্ব না করে প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। এ সময় দেখা যায়, মুরসালিন ওই বাড়ির ভেতরের একটি কক্ষে প্লাস্টারের কাজ করছেন। কাজটি জরুরি, তাই রাত ধরেই সে কাজ করছে।
মুরসালিনকে গ্রেপ্তার করে আনা হয় যাত্রাবাড়ী থানায়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে জানায়, রিপনের সাথেই রুম শেয়ার করে থাকতো। কিন্তু রিপনের এক বন্ধু আসায় রিপন মুরসালিনকে নতুন বাসায় উঠতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে রিপন মুরসালিনকে মারধর করে। মুরসালিনও রিপনকে পাল্টা আঘাত করে। একপর্যায়ে রিপনকে গলা টিপে মারে মুরসালিন। পরে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এই হত্যাকারী।
এসআই বিল্লাল আল আজাদ বলেন, ‘তদন্ত করার জন্য এটিই আমার সবচেয়ে বড় মামলা। সে কারণে আমি সর্বোচ্চটা দিয়েছি আসামিকে অ্যারেস্ট করার জন্য। যদিও সেটা খুব কঠিন ছিল। এ হত্যার ঘটনায় কোনো ক্ল বা স্বাক্ষী, কিছুই ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমার শিক্ষানবিশ কালের অভিজ্ঞতা, সিনিয়রদের কাছ থেকে দক্ষতাকে সমন্বয় করে এ মামলায় কাজ করেছি। কাজ করার সময় অনেক বাধা প্রতিকূলতার সম্মুখিন হয়েছি, কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। শুধু একটাই মনের মধ্যে লালন করেছি, আমাকে পারতেই হবে। খুনিকে খুঁজে বের করতেই হবে। আর সে কারণেই এতো অল্প সময়ে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। মামলাটি তদন্তে ওসি স্যারসহ সিনিয়ররা খুবই সহযোগিতা করেছেন, আমার মতো নতুন অফিসারকে সাহস যুগিয়েছেন।’
এ পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আসামি ধরার পর নিহত রিপনের মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। আমার বুকে হাত বুলিয়ে তিনি বলেন- “তুমি আমার সন্তান। এক সন্তান মরে গেছে তো কি হয়েছে, আরেক সন্তানকে তো পাইছি।” তার অনুভূতিই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার, সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান মামলাটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিপন হত্যা মামলাটি একটি ক্লুলেস মামলা। তারপরও তদন্ত কর্মকর্তা তার বুদ্ধিদীপ্ত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে।’ খবর বাংলামেইলের।

স্যান্ডেল বিক্রেতা সেজে খুনি ধরলেন এসআই বিল্লাল

পরনে লুঙ্গি-গেঞ্জি। পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল। কাঁধে পুরনো জুতাভর্তি ব্যাগ নিয়ে গ্রামের রাস্তায় হেঁটে চলেছেন এক ফেরিওয়ালা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাঁক ছাড়ছেন, ‘পুরান জুতা-স্যান্ডেল নিবেন গো, পুরান…’ না, এটা কোনো ফেরিওয়ালার গল্প না। এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামি ধরার গল্প।
গেল বছরের ২৬ জুন যাত্রাবাড়ীর একটি মেস থেকে রিপন নামের মাঝবয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি বেশ কয়েক দিন আগের হওয়ায় তা পচে ফুলে ওঠে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও নেই, যা দেখে পুলিশ সন্দেহ করবে এটি হত্যাকাণ্ড।
আবার যে বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয়েছে, সেখানে অন্য কোনো মানুষও নেই। তালাবদ্ধ বাসা। তাই আর বিলম্ব না করে এটিকে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয় যাত্রাবাড়ী থানায়।
সপ্তাহখানেক পরে মৃতদেহটির ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। রিপোর্ট দেখে পুলিশের চোখ কপালে। সেখানে বলা হয়, ‘এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। রিপনকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।’
এরপরই পুলিশের সন্দেহ তীব্র হলো। রিপনের বোনকে ডেকে পুরো বিষয়টি খুলে বলা হল। তিনি চলতি বছরের ৪ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় রিপনের রুমমেটদের অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল আল আজাদ।
শুরু হলো রিপনের রুমমেটদের খোঁজা। কিন্তু তারা কেউ আর ওই এলাকায় নেই। আবার তাদের বিস্তারিত তথ্যও প্রতিবেশীদের কেউই জানেন না। তবে মুরসালিন নামে রিপনের এক রুমমেট পাশের গ্যারেজে বছরখানেক আগে কাজ করতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এসআই বিল্লাল ওই গ্যারেজে গেলেন।
গ্যারেজ মালিকের সাঙ্গে কথা বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারলেন মুরসালিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের হোসনাবাদ গ্রামে। বাবার নামের শেষ অংশ আলম। এই তথ্য নিয়ে এসআই বিলাল ছুটলেন বারিশালে। টানা দুইদিন জুতা বিক্রির ছদ্মবেশ নিয়ে ঘুরলেন ওই গ্রামের প্রতিটি বাড়ি। কিন্তু আসামির বাবার নামের পুরো অংশ না থাকায় তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে ওই গ্রামের ভোটার লিস্ট সংগহ করেন এসআই বিলাল। সেখানে মোট সাতজনের নামের শেষে আলম পাওয়া যায়। জুতা বিক্রেতার ছদ্মবেশে তিনি একে একে সাতটি বাড়িতেই যান। এর মধ্যে সর্বশেষ বাড়ি অর্থাৎ সপ্তম আলমের বাসায় গিয়ে নিশ্চিত হন, এটাই মুরসালিনের বাড়ি। কিন্তু ওই বাড়িতে তালা! প্রতিবেশীরা জানালেন, মুরসালিন বাবাকে নিয়ে ঢাকায় কাজ করেন। এখানে আর তারা থাকেনও না, আসেনও না।
প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারলেন, একবছর আগে থেকে মুরসালিন মোবাইল ব্যবহার বাদ দিয়েছেন। এখন শুধু তার বাবা মোবাইল ব্যবহার করেন। বাবার নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে তিনি এখন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং গ্রামে আছেন।
চলতি বছরের ২৬ জুন যাত্রাবাড়ীর থানার এসআই বিল্লাল চলে যান মুন্সিগঞ্জের লৌহজং গ্রামে। সেখান থেকে মুরসালিন সন্দেহে এক যুবককে আটক করেন। কিন্তু তার বাবার নামের শেষে কোনো আলম নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানান, অন্য এক মুরসালিন ওই গ্রামেরই পূর্ব পাড়ায় এক বাড়িতে কাজ করেন।
রাত তখন সাড়ে ৩টা। মুন্সিগঞ্জ থানার ফোর্স নিয়ে এসআই বিল্লাল রওনা হলেন পূর্বপাড়ার সেই বাড়িতে, যেখানে মুরসালিন কাজ করে। বাড়িটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের। চারদিকে শক্ত প্রাচীর। গেটে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম লাগানো। বাড়ির মালিকের দুটো লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে পুলিশ জানতে পারে। এমতাবস্থায় ওই বাড়ির কলিং বেল টিপে ভেতরে ঢুকতে গেলে আসামি পালিয়ে যাবে। তাই আর বিলম্ব না করে প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। এ সময় দেখা যায়, মুরসালিন ওই বাড়ির ভেতরের একটি কক্ষে প্লাস্টারের কাজ করছেন। কাজটি জরুরি, তাই রাত ধরেই সে কাজ করছে।
মুরসালিনকে গ্রেপ্তার করে আনা হয় যাত্রাবাড়ী থানায়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে জানায়, রিপনের সাথেই রুম শেয়ার করে থাকতো। কিন্তু রিপনের এক বন্ধু আসায় রিপন মুরসালিনকে নতুন বাসায় উঠতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে রিপন মুরসালিনকে মারধর করে। মুরসালিনও রিপনকে পাল্টা আঘাত করে। একপর্যায়ে রিপনকে গলা টিপে মারে মুরসালিন। পরে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এই হত্যাকারী।
এসআই বিল্লাল আল আজাদ বলেন, ‘তদন্ত করার জন্য এটিই আমার সবচেয়ে বড় মামলা। সে কারণে আমি সর্বোচ্চটা দিয়েছি আসামিকে অ্যারেস্ট করার জন্য। যদিও সেটা খুব কঠিন ছিল। এ হত্যার ঘটনায় কোনো ক্ল বা স্বাক্ষী, কিছুই ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমার শিক্ষানবিশ কালের অভিজ্ঞতা, সিনিয়রদের কাছ থেকে দক্ষতাকে সমন্বয় করে এ মামলায় কাজ করেছি। কাজ করার সময় অনেক বাধা প্রতিকূলতার সম্মুখিন হয়েছি, কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। শুধু একটাই মনের মধ্যে লালন করেছি, আমাকে পারতেই হবে। খুনিকে খুঁজে বের করতেই হবে। আর সে কারণেই এতো অল্প সময়ে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। মামলাটি তদন্তে ওসি স্যারসহ সিনিয়ররা খুবই সহযোগিতা করেছেন, আমার মতো নতুন অফিসারকে সাহস যুগিয়েছেন।’
এ পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আসামি ধরার পর নিহত রিপনের মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। আমার বুকে হাত বুলিয়ে তিনি বলেন- “তুমি আমার সন্তান। এক সন্তান মরে গেছে তো কি হয়েছে, আরেক সন্তানকে তো পাইছি।” তার অনুভূতিই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার, সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান মামলাটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিপন হত্যা মামলাটি একটি ক্লুলেস মামলা। তারপরও তদন্ত কর্মকর্তা তার বুদ্ধিদীপ্ত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে।’ খবর বাংলামেইলের।

ঘাটাইলে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
পৌর নির্বাচন/২০১৬ অবাদ, নিরপেক্ষ ও নির্বিঘেœ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় গতকাল ১৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মেয়র পদপ্রার্থী ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, পুলিং এজেন্ট ও রির্টানিং অফিসারদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুব হোসেন, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-টাঙ্গাইল জেলা এডিসনাল পুলিশ সুপার সৈকত, উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু,  জেলা নির্বাচন অফিসার তাইজুল ইসলাম, পৌর মেয়র মন্জরুুল হক, সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোমমহান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার রফিকুল ইসলাম, ঘাটাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন,  উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু  প্রমুখ।
মেয়র পদে দুইজন প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করা হয়। স্বতন্ত্র মনোয়ন প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম এর মনোনয়ন পত্র অবৈধ ঘোষনা করা হয়। 

বুধবার, জুলাই ১৩, ২০১৬

নির্বাচন পরিচালনার কমিটি গঠন কল্পে কর্মি সভা অনুষ্ঠিত


ঘাটাইলে পৌরসভা নির্বাচনের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামানখান শহীদ এর নির্বাচন পরিচালনার কমিটি গঠন কল্পে কর্মি সভা অনুষ্ঠিত
 বুধবার ( ১৩ জুলাই) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে  পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামানখান শহীদ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন কল্পে কর্মি সভা ঘাটাইল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিলনায়তে সাবেক পৌর মেয়র জনাব মো: হাসান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা অাওয়ামীলীগের অাইন বিষয়ক সম্পাদক জনাব এড. এস এ আকবর খান, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক জনাব শহিদুল ইসলাম খান লেবু

নির্বাচন পরিচালনার কমিটি গঠন কল্পে কর্মি সভা অনুষ্ঠিত


ঘাটাইলে পৌরসভা নির্বাচনের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামানখান শহীদ এর নির্বাচন পরিচালনার কমিটি গঠন কল্পে কর্মি সভা অনুষ্ঠিত
 বুধবার ( ১৩ জুলাই) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে  পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামানখান শহীদ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন কল্পে কর্মি সভা ঘাটাইল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিলনায়তে সাবেক পৌর মেয়র জনাব মো: হাসান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা অাওয়ামীলীগের অাইন বিষয়ক সম্পাদক জনাব এড. এস এ আকবর খান, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক জনাব শহিদুল ইসলাম খান লেবু

যে কারণে জঙ্গিদের রক্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা

বর্বরতা ও নৃশংসতার কারণ খুঁজতেই গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গি ও তাদের সহযোগীদের রক্ত পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এতে বোঝা যাবে হত্যাকাণ্ডের আগে তারা কোনও ধরনের মাদক গ্রহণ করেছিল কি না।

অপারেশন থান্ডার বোল্ট অভিযানের পর হলি আর্টিজানে ঢুকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা হতবাক হয়ে যান জঙ্গিদের নৃশংসতা ও বর্বরতার আলামত দেখে। তাদের অনেকেই বলেছেন, এমন নৃশংসতা ও বীভৎসতা তারা এর আগে দেখেননি।

হলি আর্টিজানে তিন বাংলাদেশিসহ ১৭ বিদেশি নাগরিকের অনেককেই জঙ্গিরা গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। অনেকের ঘাড়, মাথা, গলা ও মুখে কুপিয়ে বিকৃত করে দেয়। মাথার মগজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, এমন নৃশংসতা ও বর্বরতা কেউ সুস্থ মস্তিষ্কে করতে পারে কি না।

বিষয়টি মাথায় রেখেই গুলশান হামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জঙ্গিদের রক্তসহ দেহের বিভিন্ন নমুনা প্রোফাইলিং এবং ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। গুলশান হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির সোমবার ঢাকার সিএমএম আদালতে দু’টি আবেদন করেন। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার দু’টি আবেদনই মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ কমিশনার আমিনুর রহমান।

আমিনুর রহমান আরও বলেন, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হতে তাদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া নিহত পাঁচ জঙ্গির অস্থি-মজ্জা ও রক্ত মাখা জামা-কাপড়, রক্ত ও চুল জব্দ ও সংগ্রহ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে। এর আগে গত ৬ জুলাই এ মামলার নথি (এফআইআর) আদালতে উপস্থাপন করা হলে আগামী ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

হলি আর্টিজানের ঘটনায় নিহতদের ময়না তদন্তের তদারক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ময়না তদন্তের সময়েই তারা পাঁচ জঙ্গিসহ নিহত সবার রক্ত, শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা ও ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করে রেখেছেন। সব ময়না তদন্তের ক্ষেত্রেই তারা এটি করে থাকেন। কারণ পরে প্রয়োজন হলে তাদের শরীরের সেই আলামত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।

ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য। যাতে পরে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে।

হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের নৃশংসতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনও সুস্থ লোক এমন নৃশংসতা চালাতে পারে না। মৃতদের দেহে আঘাতের আলামত দেখে আমি হতবাক হয়েছি। তাছাড়া জঙ্গিদের রক্তসহ অন্যান্য আলামত ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পর জানা যাবে তারা মাদক গ্রহণ করেছিল কি না।

জঙ্গিদের নৃশংসতার বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন বলেন, কেবল মাদক গ্রহণ করলেই যে এমন নৃশংসতা চালাবে এটা ঠিক নয়। তাহলে আমাদের দেশে অনেক ছেলে-মেয়ে আছে যারা ইয়াবাসহ অনেক মাদক গ্রহণ করে। তারাতো এভাবে হত্যাকাণ্ড চালায় না। তিনি মনে করেন, বর্বরতা ও নৃশংসতার বিষয়টি জনমনে ভীতি ছড়ানোর জন্য জঙ্গিদের একটি কৌশলও হতে পারে, যা তাদের ট্রেনিংয়ের অংশ হয়ে থাকতে পারে। তবে এমন নৃশংসতার আগে কেউ মাদক গ্রহণও করে থাকতে পারে। কিন্তু মাদক গ্রহণই একমাত্র কারণ নয়।

গত ১ জুলাই শুক্রবার রাতে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া বোমা ও গুলিতে নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন খান ও গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার রবিউল করিম। এছাড়া ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরদিন যৌথবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয় জন। যাদের একজন হলি আর্টিজানের শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। তিনি জঙ্গিদের সহযোগী বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই রেস্টুরেন্টের কর্মচারী জাকির হোসেন শাওন। তাকেও জঙ্গিদের সহযোগী সন্দেহে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছিল।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত জঙ্গিরা হলো- মীর সামেহ মোবাশ্বের (১৯), রোহান ইবনে ইমতিয়াজ (২০), নিবরাস ইসলাম (২০), খায়রুল ইসলাম পায়েল (২২) ও শফিকুল ইসলাম উজ্জল (২৬)। -বাংলা ট্রিবিউন

যে কারণে জঙ্গিদের রক্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা

বর্বরতা ও নৃশংসতার কারণ খুঁজতেই গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গি ও তাদের সহযোগীদের রক্ত পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এতে বোঝা যাবে হত্যাকাণ্ডের আগে তারা কোনও ধরনের মাদক গ্রহণ করেছিল কি না।

অপারেশন থান্ডার বোল্ট অভিযানের পর হলি আর্টিজানে ঢুকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা হতবাক হয়ে যান জঙ্গিদের নৃশংসতা ও বর্বরতার আলামত দেখে। তাদের অনেকেই বলেছেন, এমন নৃশংসতা ও বীভৎসতা তারা এর আগে দেখেননি।

হলি আর্টিজানে তিন বাংলাদেশিসহ ১৭ বিদেশি নাগরিকের অনেককেই জঙ্গিরা গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। অনেকের ঘাড়, মাথা, গলা ও মুখে কুপিয়ে বিকৃত করে দেয়। মাথার মগজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, এমন নৃশংসতা ও বর্বরতা কেউ সুস্থ মস্তিষ্কে করতে পারে কি না।

বিষয়টি মাথায় রেখেই গুলশান হামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জঙ্গিদের রক্তসহ দেহের বিভিন্ন নমুনা প্রোফাইলিং এবং ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। গুলশান হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির সোমবার ঢাকার সিএমএম আদালতে দু’টি আবেদন করেন। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার দু’টি আবেদনই মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ কমিশনার আমিনুর রহমান।

আমিনুর রহমান আরও বলেন, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হতে তাদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া নিহত পাঁচ জঙ্গির অস্থি-মজ্জা ও রক্ত মাখা জামা-কাপড়, রক্ত ও চুল জব্দ ও সংগ্রহ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে। এর আগে গত ৬ জুলাই এ মামলার নথি (এফআইআর) আদালতে উপস্থাপন করা হলে আগামী ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

হলি আর্টিজানের ঘটনায় নিহতদের ময়না তদন্তের তদারক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ময়না তদন্তের সময়েই তারা পাঁচ জঙ্গিসহ নিহত সবার রক্ত, শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা ও ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করে রেখেছেন। সব ময়না তদন্তের ক্ষেত্রেই তারা এটি করে থাকেন। কারণ পরে প্রয়োজন হলে তাদের শরীরের সেই আলামত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।

ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য। যাতে পরে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে।

হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের নৃশংসতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনও সুস্থ লোক এমন নৃশংসতা চালাতে পারে না। মৃতদের দেহে আঘাতের আলামত দেখে আমি হতবাক হয়েছি। তাছাড়া জঙ্গিদের রক্তসহ অন্যান্য আলামত ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পর জানা যাবে তারা মাদক গ্রহণ করেছিল কি না।

জঙ্গিদের নৃশংসতার বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন বলেন, কেবল মাদক গ্রহণ করলেই যে এমন নৃশংসতা চালাবে এটা ঠিক নয়। তাহলে আমাদের দেশে অনেক ছেলে-মেয়ে আছে যারা ইয়াবাসহ অনেক মাদক গ্রহণ করে। তারাতো এভাবে হত্যাকাণ্ড চালায় না। তিনি মনে করেন, বর্বরতা ও নৃশংসতার বিষয়টি জনমনে ভীতি ছড়ানোর জন্য জঙ্গিদের একটি কৌশলও হতে পারে, যা তাদের ট্রেনিংয়ের অংশ হয়ে থাকতে পারে। তবে এমন নৃশংসতার আগে কেউ মাদক গ্রহণও করে থাকতে পারে। কিন্তু মাদক গ্রহণই একমাত্র কারণ নয়।

গত ১ জুলাই শুক্রবার রাতে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া বোমা ও গুলিতে নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন খান ও গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার রবিউল করিম। এছাড়া ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরদিন যৌথবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয় জন। যাদের একজন হলি আর্টিজানের শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। তিনি জঙ্গিদের সহযোগী বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই রেস্টুরেন্টের কর্মচারী জাকির হোসেন শাওন। তাকেও জঙ্গিদের সহযোগী সন্দেহে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছিল।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত জঙ্গিরা হলো- মীর সামেহ মোবাশ্বের (১৯), রোহান ইবনে ইমতিয়াজ (২০), নিবরাস ইসলাম (২০), খায়রুল ইসলাম পায়েল (২২) ও শফিকুল ইসলাম উজ্জল (২৬)। -বাংলা ট্রিবিউন

মঙ্গলবার, জুলাই ১২, ২০১৬

ঘাটাইলে মেয়র পদে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল), ১২ জুলাই আমাদের ঘাটাইল : ঘাটাইল পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার মেয়র পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মেয়র পদে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান খান ভিপি শহিদ, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম। ঘাটাইল উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঘাটাইল পৌরসভা নির্বাচনের রিটানিং অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে তারা এ মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া সাধারণ ৯টি ওয়ার্ডে ২৮ জন সংরক্ষিত ৩টি মহিলা ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। 
উল্লেখ্য আগামী ৭ আগস্ট সারাদেশে মেয়াদ উত্তীর্ণ ৮টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশীল অনুযায়ী এসব পৌরসভায় আগামী ১৪ জুলাই বা

সোমবার, জুলাই ১১, ২০১৬

ঘাটাইল ভূমি অফিসের অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় ভূমিহীনদের জমি-প্রভাবশালীদের দখলে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন


রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ 
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা ভূমি অফিসর অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় ১৬ ভূমিহীন পরিবারের  বন্দোবস্ত খাস জমি ১০ বছর যাবৎ আটকে আছে প্রভাবশালীদের দখলে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং স্থানীয় সংসদের লিখিত আদেশ থাকলেও ভূমি অফিসের নয়-ছয়ে অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে বন্দোবস্ত খাসজমি। ফলে বারছে কলহ। মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পরছে অনেকে। এতে সরকারের পুর্নবাসন কার্যক্রম কলুষিত হয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। 
জানা যায়, দেশের হত দরিদ্র, যাদের মাথা গোজার ঠাঁই নাই সরকার সারাদেশে এইসব ভূমিহীন পরিবারকে গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুর্নবাসন করে আসছে। একই সঙ্গে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে ভূমিহীনদের নামে খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে আসছে। এলক্ষে ঘাটাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৫ পরিবারকে ৭৬২.৯৫ একর খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়া এইসব খাস জমি এক শ্রেণীর ভূমি দস্যুরা জাল দলিল তৈরী করে ভোগদখল করে আসছে। অনেকেই জাল কাগজ দেখাইয়া কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ কেউ ইউনিয়ন তহশীলদারের সহযোগীতায় ঐ সব খাস জমিতে ইটের পাকা বাড়ী ঘর তৈরী করে বাগান বাড়ী সাজিয়েছেন। অনেকে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটাইয়া জবরদখল করে আসছেন। যার ফলে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাসজমি ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দিলেও শেষে দখল নিতে বিপত্তি ঘটছে। এভাবে সন্ধানপুর ইউনিয়নে ১৬টি ভূমিহীন পরিবারের বন্দোবস্ত খাসজমি ১০ বছর যাবৎ প্রভাবশালীদের দখলে আটকে থাকলেও কর্তৃপক্ষ নয়-ছয় করে নিচে শিকড় কেটে উপরে পানি ঢালছে। 
১লা মার্চ থেকে ৩০মে পর্যন্ত ৩ মাসের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্র ভূক্তভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ঘাটাইল ভূমি অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিসের সার্ভেয়ার হযরত আলী অফিস সহকারী হবিবুর রহমান সন্ধানপুর ইউনিয়ন তহশীলদার ফজলুল হক এলাকার সংঘবদ্ধ জালিয়াতী চক্রের সাথে আতাতকরে এক সিন্ডিকেট বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট বাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছে উপজেলার ১২টি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা ভূমি মালিকদের ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় ফাঁদ তৈরী করে কখনো আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বড় কর্মকর্তারা বড় ভাগ নিলেও তারা থাকেন সন্ন্যাসীর ভূমিকায়। এমন হাজারো অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

যেভাবে হয়রানী করে থাকে ঃ  জান যায় এই সিন্ডিকেট বাহিনী প্রথমে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত করে খাস জমি দখলদারের সাথে বিনিময় করে অলিখিত গোপন চুক্তিনামা করে থাকে। পরে টাকার বিনিময়ে তদন্ত ছাড়াই ভূয়া নক্সা তৈরি করে ভূমিহীনদের জমি বন্দোবস্ত দেয়। কিছুদিন পর দখলদারদের সহযোগীতায় বন্দোবস্ত বাতীলের ভয় দেখাইয়া টাকা দাবী করে। টাকা না দিলে দখলদারদের দিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট বন্দোবস্ত বাতিল চেয়ে মিথ্যা অভিযোগ প্রেরন করায়। শেষে ঐ আবেদনের তদন্তভার উপজেলা ভূমি অফিসে আসলে ভূমিহীনদের হয়রানী করে টাকা নিয়ে থাকে। নিরুপায় ভূমিহীন পরিবার সিন্ডিকেট বাহিনীকে টাকা দিলেও তারা দখলদারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে জমি দখলদারদের ভোগ করার ব্যবস্থা করে দেয়। এভাবে ভূমিহীনদের মাঝে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার নাম করে, তদন্তের নাম করে, পরিমাপের নামে, নামজারী করে, দখলদারদের ভোগ করার সহযোগিতা দিয়ে প্রভাবশালীদের স্থাপনা নির্মাণের সহযোগীতা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অনেকেই নামে বে-নামে ১-তলা/৩-তলা একাধিক পাকা বাড়ীর মালিক হয়েছেন। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট বাহিনীর প্রধান সার্ভেয়ার হযরত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যত কথাই লেখেন না কেন বড়জোড় বদলী করাইতে পারবেন এর বেশী কিছু করার ক্ষমতা আপনার নেই। 
যেভাবে অদেশ অমান্য করে ঃ অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘাটাইল ভূমি অফিস ঢাকঢোল বাজিয়ে আইনের ব্যাখ্যা মুখে বললেও কাজের বেলায় রেজাল্ট উল্টো দিকে। এরা এতোটাই বেপরোয়া টাকা ছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশও মানেন না। জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছমা আরা বেগম ২০১৫ সালের ১৯ আগষ্ট কামারচালা গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আলালের জমি বুঝিয়ে দিতে সার্ভেয়ার হযরত আলীকে লিখিত আদেশ দিলেও গত ১০ মাসেও সে আদেশ কার্য্যকর করেন নাই। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার হযরত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ জমি অন্যের দখলে থাকায় বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব হয় নাই। 
এভাবে ২০০৮ সালে বগা মৌজার ৯১৮ দাগে ৪.৮০ একর জমি এলাকার ১২ জন ভূমিহীন পরিবারে বন্দোবস্ত পায়। ঐ জমির দখলদার লিয়াকত আলী মাস্টার গং সরকারী দলের প্রভাব খাটাইয়া ভূমিহীনদের বাড়ী ঘর ভেঙ্গে দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় এবং ঘরে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মাইরধর করে তাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে ভূমিহীন পরিবার কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার আবেদন করলেও কাজের কাজ না হয়ে শুধু চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে জানা  যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আমানুর রহমান ভূমিহীনদের পক্ষে ঘাটাইল ভূমি অফিসে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ নামা পাঠায়। তৎকালীন এসিল্যান্ড নাদিরা আক্তার সাংসদের সুপারিশনামা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সন্ধানপুর ইউনিয়ন তহশীলদার ফজলুল হককে লিখিত আদেশ দিলেও গত ২০ মাস পেরিয়ে গেলেও সে আদেশের কোন ব্যবস্থা নেন নাই। এ বিষয়ে ফজলুল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই জটিল এতো ঝামেলায় কে জড়ায়। 
যেভাবে সরকারী আদেশ অমান্য করে ঃ  জান যায় ,  ঘাটাইল ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সরকারের চাকুরী করে সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও এরা নিজেরাই সরকারের আইন মানেন না। ২০১৫ সালে ভূমি মন্ত্রনালয় দখলদারের হাত থেকে খাস জমি উদ্ধারের জন্য একটি আদেশ জারী করে। ঐ আদেশ সারাদেশে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশানারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের আদেশ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধার করার কথা। সে অনুযায়ী দেশের অন্যান্যস্থানে উদ্ধার অভিযান জোরদার থাকলেও ঘাটাইল ভূমি অফিস সে আদেশ ১ বছরেও চালু করেন নাই। উল্টো ঘাটাইল ভূমি অফিস মন্ত্রনালয়ের আদেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খাস জমি উদ্ধারের পরিবর্তে দখলদারদের ভোগ করার রাস্তা পাকাপোক্ত করতে বন্দবস্ত বাতিলের পায়তারা করছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)  প্রভাংশু সোম মহানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাবছর আমাদের উদ্ধার  অভিযান অব্যাহত আছে। গত ১ বছরে কত একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আপনি সঠিকভাবে তদন্ত করে আমাকে একটি লিখিত রিপোর্ট দিন। কারো ভুল থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। 

জানা যায়, ঘাটাইল ভূমি অফিসে আইনের প্রয়োগ না থাকায় সর্বক্ষেত্রেই চলছে অনিয়ম।  কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে খোড়া যুক্তি, আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চলছে অফিসের কার্য্যক্রম। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দেয়ার কথা থাকলেও ভূমি অফিস কোন তথ্য দেন না। ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল ফরম পূরণ করে যথা নিয়মে তথ্যের জন্য আবেদন করলেও গত ১৪ মাসেও সে তথ্য দেন নাই। গত ২৮ জুন ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত নামের তালিকা চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোমমহান প্রতিবেদককে সাফ জানিয়ে দেন অফিসের ডকুমেন্ট বাহিরে দেয়া যাবে না। ঘাটাইল উপজেলায় এ পর্যন্ত কতজন পরিবারকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর নিতে ৩ দিন এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করেও নেওয়া সম্ভব হয় নাই। এভাবে ভূমি অফিসের লুকচুরি খেলায় অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে বন্দোবস্ত খাসজমি । 





রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ 
১ম পর্বের পর : জানা যায় যাদের মাথাগোজার ঠাঁই নাই এইসব হতদরিদ্র পরিবারকে পুর্নবাসন করতে সারাদেশের ন্যয় ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, দেওপাড়া ও জামুরিয়া ইউনিয়নে ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সন্ধানপুর ইউনিয়নের এগারকাহনিয়া মৌজায় ৮৮২, ১৩৯৪, ১৩৯৬ ও ১৩৮৯ দাগে ৪.৬০ একর খাসজমি ৯ জন ভূমিহীন পরিবারকে বন্দোবস্ত প্রদান করে। কিন্তু ভূমিহীনদের দেওয়া এইসব জমির সিংহভাগ এলাকার প্রভাবশালী এবং ধনী পরিবার মোনায়েম খান, জুব্বার খান, দুলাল খানদের দখলে থাকায় বন্দোবস্ত জমি বিতর্কিত হয়ে উঠে। একদিকে ভূমিহীন পরিবার তাদের প্রাপ্ত জমি দখল নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠে। অন্যদিকে প্রভাবশালীরা দখল ছাড়বেনা মর্মে উভয় পক্ষে চলে প্রতিযোগীতা। মাঝখানে এই প্রতিযোগীতার সুযোগ নেয় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার হযরত আলী অফিস সহকারী হবিবুর রহমান ও সন্ধানপুর ইউনিয়ন তহশীলদার ফজলুল হক। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দখলদারদের সহযোগীতা দিতে অলিখিত গোপন চুুক্তিনামা করে। বন্দোবস্ত কারীরা জমির জন্য চাপাচাপি করলেই দখলদারেরা টাকা দিয়ে অফিসের মুখ বন্ধ করে রাখে। যার ফলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ থাকলেও শেষে ঐ আদেশ ফাইল বন্ধী হয়ে পরে। এভাবেই ভূমি অফিসের সিন্ডিকেট বাহিনীর কাছে ১০ বছর যাবৎ জিম্মি হয়ে আছে ঐ ইউনিয়নের হতদরিদ্র ১৬টি পরিবার। 
সরেজমিনে গেলে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ভূক্তভোগী কামারচালা গ্রামের আলালের সাথে। জানা যায়, তিনি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কোন জমিজমা নাই। থাকেন ভাঙ্গা ঘরে। বসবাস করেন অন্যের বাড়ীতে। সংসারে উপার্জন করার মত অন্য কেউ না থাকায় কখনো গান গেয়ে, কখনো ভিক্ষা বৃত্তি করে জিবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি প্রতিবেদককে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তিনি বলেন মাথাগোজার ঠাই পেতে একটু জমির আশায় ১০ বছর যাবৎ দৌড়াদৌড়ি করছি। খাজনা খারিজ করতে ভূমি অফিসে কয়েক দফায় টাকা দিলেও দখল বুঝিয়ে দেয় নাই। তিনি জানান ২০১৫ সালে সার্ভেয়ার হযরত আলী তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। তার দাবীকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবস্থা ভিন্ন দিকে চলে যায়। তার পর থেকেই অফিসে গেলে বন্দোবস্ত বাতিলের ভয় দেখাইয়া বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অফিসে গিয়ে কয়েক দফায় আবেদন জানিয়েছি। আমাদের কোন কথা না নিয়ে উল্টো দখলদার দুলাল খানের নিকট থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ চাপাইয়া আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে দখলদার দুলাল খানের নিকট খাসজমি কিভাবে তার নিজের হয়  জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিতর্কিত জমি আমার বাড়ীর পাশের থাকায় সরকারের লোকেরাই মানবিক কারনে আমার নামে রেকর্ড দিয়েছেন। 
জানা যায় ভূক্তভোগী আলাল মিয়া ভূমি অফিসের সাপ খেলায় হেরে গিয়ে ২০১৪ সালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। চেয়ারম্যান কয়েক দফায় বৈঠক করে তদন্ত পূর্বক লিখিত আকারে মিমাংশা দিলেও দখলদার দুলাল খান চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছমা আরা বেগম সরেজমিনে তদন্ত করে সার্ভেয়ার হযরত আলীকে আলালের জমি বুঝিয়ে  দিতে ৭৪১ নং স্মারকে লিখিত আদেশ দিলেও গত ১ বছর পেরিয়ে গেলেও সে আদেশ অজানাই রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার হযরত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ জমিতে অন্যের বাড়ীঘর থাকায় বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় নাই। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় আরেক ভূক্তভোগী সত্তরবাড়ী গ্রামের আইয়ুব খানের সাথে। জানা যায় তার কোন প্রকার জমিজমা নাই। বসবাস করেন খাস জমিতে। কখনো দিন মজুর, কখনো বাঁশ বেতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি বলেন ১০ বছর আগে ১৩৯৬ দাগে ৫০ শতক জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলাম। অনেক টাকা পয়সা খরচ করে খাজনা খারিজ করলেও শেষে ভূমি অফিসের দাবী মিটাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিমাপের অভাবে এখন পর্যন্ত দখল পাইনি। পরিমাপের জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েক দফায় আবেদন করেছি কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। কিছুদিন গেলেই সে আবেদন অফিসে খুজে পাওয়া যায় না। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত ভূমি অফিস কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে ঐ জমির দখলদার এবং এলাকার সবচাইতে ধনী পরিবার মোনায়েম খানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসে অনেক টাকা খরচ করেছি। শরীরের ঘাম ঝরিয়েছি। বন্দোবস্ত পাইলেই জমি পাওয়া যায় না। 
কথা হয় আরেক ভূক্তভোগী কড়ালিয়া গ্রামের গোলাপ খানের সাথে। জানা যায় তার কোন প্রকার জমি জমা নাই সংসারের ঘানি টানতে- থাকার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে বসবাস করছেন খাস জমিতে। অন্যের বাঁশ বেতের ব্যবসায় দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গোলাপ খানের ছেলে বাবু জানায় শত অভাবের মাঝেও সার্ভেয়ার হযরত আলী ও নায়েব ফজলুল হককে যত টাকা দিয়েছি জমি বিক্রি করলেও ঐ টাকা হবেনা। তারপরেও অফিসের দাবী মিটাতে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের জমিতে দখলদার মোনায়েম খার বাড়ী না থাকলেও ভূয়াবাড়ী দাবী করে জেলা প্রশাসকের নিকট মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করিয়াছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এসিল্যান্ড সাহেবকে বার বার অনুরোধ করার পর বিষয়টি দেখতে আসলে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করতে এলাকার কাউকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করে সার্ভেয়ার হযরত আলীর কথায় মাত্র ৩/৪ মিনিটের লোক দেখানো তদন্ত করে চলে যান। 

একই গ্রামের রেজাউল করিম জানায়, সত্তরবাড়ী গ্রামের নায়েব আলী ২০০৮ সালে জমি বন্দোবস্ত পেলেও সার্ভেয়ার হযরত আলীর দাবীকৃত ৫০ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জমির বিপরীতে সকল কাগজপত্র জমা নিয়ে তার বন্দোবস্ত দলিল অস্বীকার করেন। পরে ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিস হতে কবুলিয়ত নামার নকল উঠাইয়া পরিমাপ চেয়ে আবেদন করলেও দীর্ঘ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি ভূমি অফিস। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার্ভেয়ার হযরত আলী ও তহশীলদার ফজলুল হকের দুর্নীতির কারনেই এলাকায় দিন দিন কলহ বাড়ছে। তিনি বিষয়টি আসু ব্যবস্থা করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 




রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ 
২য় পর্বের পর : ঘাটাইল সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ্যাসিল্যান্ড মনিরুল আলম ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সন্ধানপুর ইউনিয়নের বগা মৌজায় ৯১৮ দাগে এলাকার ১২ জন ভূমিহীন পরিবারকে ৪.৮০ একর খাস জমি কাগজে কলমে বন্দোবস্ত দিলেও ভূমি অফিসের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ১০ বছরেও দখল পাননি ভূমিহীনদের ঐসব বন্দোবস্ত জমি। উল্টো দখলদারের হাতে নির্যাতিত হয়ে মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে সর্বস্ব হারাতে বসেছে অনেকেই। 
মামলার বিবরন, ভূক্তভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় সন্ধানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রেহেনা, ছালেহা, সুফিয়া, হামিদ ও আলিম সহ ১২ জন হতদরিদ্র পরিবার বগা মৌজায় ৯১৮ দাগে ৪.৮০ একর খাসজমি বন্দোবস্ত পায়। তারা যথানিয়মে খাজনা খারিজ সহ রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকে। ঐসব জমির দখলদার এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা সত্তরবাড়ী গ্রামের লিয়াকত আলী মাষ্টার, সোহেল রানা, মোনছের আলী, মজনু সেখ সহ ভূমিহীনদের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। তারা ২০০৮ সনের ২৩শে আগষ্ট ৫০/৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল রাতের অন্ধকারে ভূমিহীনদের বসতবাড়ী হামলা করে ঘরদরজা ভেঙ্গে সর্বস্য লুট করে নিয়ে যায়। এবং ১টি ঘরে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভূমিহীনদের মাইরধর করে তাড়িয়ে দেয় বলে জানা যায়। এ নিয়ে ভূমিহীনদের পক্ষে রেহেনা বেগম ওলতা বেগম বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামী করে ঘাটাইল সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কর্তৃপক্ষ দখলমুক্ত করার কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে দায় শেষ করেন। শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও আসামী গ্রেপ্তার করলেও রাজনৈতিক নেতাদের দাপটে ভূমিহীনদের অভিযোগ ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে।
  এভাবে হতদরিদ্র ভূমিহীন পরিবার এসিল্যান্ড, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় এমপিও জেলা প্রশাসকের নিকট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার আবেদন করলেও কাজের কাজ না হয়ে টাঙ্গাইল রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর ও ঘাটাইল এসিল্যান্ড অফিসে চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে জানা যায়। 
ভূক্তভোগী আলিম, সুফিয়া, রেহেনা, লতা ও ছালেহা জানায় লিয়াকত মাস্টার ও তার সন্ত্রাসী দল অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে আমাদের বাড়ী ঘর ভেঙ্গে দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। থানায় বিচার করার কথা বলে বিলম্ব করে মূল্যবান গাছ কেটে নেয়। ভূমি অফিসে বিচার দিলেও তার কোন প্রতিকার না করে ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও জমি দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা না করে অভিযোগের ৪ বৎসর পর গাছকাটার ক্ষতিপূরন মামলা করে ভূমি অফিস তাদের দায় শেষ করেন। 
ভূক্তভোগী রেহেনা প্রতিবেদককে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, অফিসে গেলে বলে জমি দিয়ে দিয়েছি, দখল করার দায়িত্ব আপনাদের। জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করলেও কোন বিচার হয় না। তবে আমরা কার কাছে বিচার পাব? 
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোমমহান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা করা হবে। 
এভাবে উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের ১৬টি ভূমিহীন পরিবারের বিচার ১০ বৎসর যাবত আইনের কাছে নিভৃতে কাঁদলেও ঘাটাইল ভূমি অফিসের নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে বন্দোবস্ত খাস জমি।