মঙ্গলবার, এপ্রিল ০২, ২০১৯

ঘাটাইলের অর্ধশত অবৈধ ‘স’ মিলে চলছে গাছ চিড়াইয়ের মহোৎসব!

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল : জেলার ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী-জোড়দিঘী সহ বেশ কয়েকটি বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধশত অবৈধ ‘স’ মিল। ‘স’ মিল গুলোতে চলছে গাছ চিড়াইয়ের মহোৎসব।


সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, উপজেলার সাগরদিঘী এলাকার জামাল, ফজল, জাহাঙ্গীর সহ জোড়দিঘীর নান্নু হাজীর নেতৃত্বে এসব ‘স’ মিল পরিচালিত হচ্ছে। কেউ কেউ জানান, সাগরদিঘীর বিট কর্মকর্তা আঃ আজিজের ইন্ধনে রেঞ্জারকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই দিনে রাতে বন এলাকার ভেতরে এসকল অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বন এলাকার ভিতরে ‘স’ মিল স্থাপনের কোন নিয়ম না থাকলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবেই বনদস্যু কাঠ চোরেরা বনের ভিতরে শাল, গজারী ও সরকারী প্লটের গাছ কেটে ওই ‘স’ মিল গুলোতে চেড়াই করছে।

এতে করে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও দেখার যেন কেউ নেই। ঘনবসতি প্লট ছাটাইয়ের নামে গাছের মোথা উফরে দিয়ে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার যোগসাজসে গাছ চুরি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। নিকটবর্তী ‘স’ মিল হওয়ায় পরিবেশ ধ্বংশ করে রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে নিকটবর্তী ‘স’ মিল গুলোতে চেড়াই করে দিনে রাতে বিভিন্ন ট্রাক যোগে পাচার করছে অহরহ। স্থানীয় লোকজন এ অবৈধ ‘স’ মিল গুলো গড়ে উঠার পিছনে বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন। রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, আমরা ওই সকল গড়ে ওঠা অবৈধ ‘স’ মিল থেকে কোন টাকা নেই না। ‘স’ মিল গুলো আইনের আওতায় আনার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। সময়মত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে আমি জানি। বন এলাকার জায়গা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তার গড়িমসির কারণে ডিমার্গেশন বহির্ভূত জায়গা থেকে মাটি দস্যূরা বন এলাকা থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নিচ্ছে অবাধে। প্রতিউত্তরে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসে নাই।


সাগরদিঘী ও জোড়দিঘীর ১৯টি ‘স’ মিলের নেতৃত্বে থাকা জামাল, ফজল, জাহাঙ্গীর ও নান্নু হাজী (বর্তমান মেম্বার) জানান, আমরা প্রতিমাসে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ধলাপাড়া ও সাগরদিঘী ফাঁড়ি ইনচার্জকে প্রতি মাসে ২০/৩০ হাজার টাকা ঘুষ দেই। প্রতি মাসে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করেই আমরা আমাদের ‘স’ মিল গুলো পরিচালনা করছি। তাই আমাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন অভিযান কিংবা মাথা ব্যথা নেই। আপনারা অযথা লেখালেখি করবেন কেন। আপনারাতো আর প্রশাসনের কেউ না। এরা যতদিন ঘুষ খাবে আমরা ততদিন আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়েই যাবো। এ প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম মুঠে ফোনে বলেন আমি এ উপজেলায় সবেমাত্র যোগদান করেছি। এ সংক্রান্ত একটি তালিকা আমার কাছে এসেছে খুব দ্রুত এদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷