মঙ্গলবার, মার্চ ০৫, ২০১৯

‘আমি তার চেহারা দেখিনি, এমনকি তার নাম পর্যন্ত জানতাম না।’

চিঠি, ছোট্ট পাতায় কালির কয়েকটি আঁচড়। বিনা আঁচড়ের চিঠিও অনেক সময় হয় অর্থবোধক। গভীর তার ভাষা। প্রাপক মাত্রই বুঝতে পারেন।

উড়ে আসা চিঠিতে চোখ বুলিয়ে যেমন কারও ভিজে যায় নেত্র। হৃদয় মুচড়ে ওঠে। ভেঙে দেয় মন। তেমনি কোনো চিঠি হাতে পেয়ে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে পানি, আনন্দের! চিকচিক পানিতে ঝিলিক দেয় খুশির বন্যা, ভাসিয়ে নিতে চায় চারপাশ, সবকিছু!

আহমাদ মাহরুস সাইয়্যেদ, মিশরের তরুণ। বিখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রকৌশল বিভাগে পড়েন। আল্লাহর প্রেমে যার হৃদয় পাগলপারা। আল্লাহর দ্বীনের দাঈ-ই হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সংগঠনে জড়িত হন, মুসলিম ব্রাদারহুডে।

টগবগে তরুণ আহমাদ মাহরুসও একটি চিঠি লিখেছেন। পরিবার এবং মিশরের বিচার বিভাগের কাছে। তার চিঠি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এটি লেখা তার ফাঁসি কার্যকরের আগ মুহূর্তে।

মিশরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আরও ৮ তরুণের সঙ্গে আহমাদ মাহরুসের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাতকে খুন করেছেন।

দীর্ঘদিন এই ৯ তরুণ কারাবন্দি থেকেছেন। যতবার আদালতে হাজির করা হয়েছে, তারা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। কিন্তু, তাদের আকুতি স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আজ্ঞাবহ বিচার প্রশাসনের কানে ঢোকেনি।

বিচারকরা তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির রায় কার্যকর করেন। এরপর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এই রায়ের কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা এটিকে রাষ্ট্রীয় মদতে ‘হত্যা’ বলে সরকারের নিন্দা করেছেন।

কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা আরবি অন্তিম মুহূর্তে লেখা এসব তরুণের চিঠি প্রকাশ করেছে, যা পড়ে কাঁদছে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ।

তেমনি জীবনের শেষ চিঠিতেও আহমাদ মাহরুস এই হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত নন, তা স্পষ্ট করে গেছেন। জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমি তার (অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাত) চেহারা, এমনকি তার নাম পর্যন্ত জানতাম না।’

মাহরুস চিঠিতে বিচার বিভাগের অস্বচ্ছতা তুলে ধরেছেন। সঙ্গে নিজের জান্নাতের প্রতি অদম্য আকাঙ্ক্ষার কথা ব্যক্ত করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘আমাকে এমন এক ব্যক্তিকে হত্যার অপবাদ দিয়ে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি— আমি তার নাম, চেহারা কিছুই জানি না।’

চিঠিতে মাহরুস বলেন, ‘আল-আকসা মসজিদের দরজায় যেন আমি শাহাদাতের সুধা পান করতে পারি, এজন্য শিশুকাল থেকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে এসেছি। আমাদের রুহের মালিক আল্লাহ। তিনি তা যেভাবে চান, সেভাবেই কবজ করবেন। তার এই সিদ্ধান্ত আমি আনন্দচিত্তেই গ্রহণ করছি।’

চিঠির শেষ অংশে তিনি দুনিয়ায় চলার পথে কারও সঙ্গে মন্দ বা ভুল আচরণ করে থাকলে, তা ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

চিঠির ভাষায়, ‘আমি কামনা করছি— এমন কারও কাছে, যার সঙ্গে কোনো মন্দ আচরণ করেছি, তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন।’

আহমাদ মাহরুস ছাড়াও যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তারা হলেন, আহমাদ ত্বহা ওয়াহদান, আবুল কাসিম আহমাদ, আহমাদ জামাল হিজাযী, মাহমুদ আল-আহমাদী, আবু বকর আস-সাইয়্যেদ, আব্দুর রহমান সুলাইমান, আহমাদ মুহাম্মাদ ও ইসলাম মুহাম্মাদ।

তারা প্রত্যেকেই আল-আযহারসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷