শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

টাঙ্গাইলে ১৭ দিনে পাকিস্তানিসহ ধর্ষণের শিকার ৫

চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শুরু থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাকিস্তানি মেয়েসহ ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে পাঁচ জন। এছাড়া শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণ চেষ্টার শিকারসহ ৬ জন ছাত্রী-কিশোরী, তরুণী ও গৃহবধু শ্লীলতাহানির স্বীকার হয়েছে।



জেলার ৫ টি উপজেলায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার এ ঘটনাগুলো ঘটে।

গোপালপুর

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নানার বাড়ি বেড়াতে আসা চাচাতো ভাই কর্তৃক এক পাকিস্তানি মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের মাকে গ্রেফতার ও অপহৃত পাকিস্তানি কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এর আগে বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করে। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান আসামির মা আনোয়ারা বেগমকে (৪৭) গ্রেফতার করে।

পরে ধর্ষকের মায়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে বন্দি অবস্থায় ধর্ষিতা হুমেরাকে উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, ভিসা নিয়ে মায়ের সাথে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে প্রথমে অপহরণ ও পরে ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। সে পাকিস্তানের নিউ করাচির সুপার হাইওয়েজ রোডের নাগরিক ও স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর আনুমানিক পঁচিশ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচীতে গিয়ে নিহত হন।

তবে এর আগে সেখানে নিলুফার বেগম নামে এক পাকিস্তানি নাগরিক বিয়ে করে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পাঁচ মাস আগে পাকিস্তানি নাগরিক নিলুফার বেগম ছয় মাসের ভিসা ও কন্যাকে সাথে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। উঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে। সেখানে উঠার পর থেকেই আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের বখাটে ছেলে আল আমিন ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে।

এছাড়া গোপালপুরে সিনেমায় নায়িকা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে (১৯) আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ ওরফে ফারুক শিকদারকে আটক করেছে পুলিশ। ধর্ষক আকাশ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার মাইটকুমরা গ্রামের কাইয়ুম শিকদারের ছেলে।

এ ঘটনায় রোববার (১৪ এপ্রিল) রাতে গোপালপুর উপজেলার ভোলারপাড়া গ্রামবাসী ছাত্রীকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। পরে রাতে মেয়ের বাবা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আকাশকে প্রধান আসামি করে তার সহযোগী অজ্ঞাত আরো দু’জনের বিরুদ্ধে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সোমবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্ত আসামি আকাশকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভূঞাপুর

সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নে বাসুদেবকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী কুপ্রস্তাব ও শরীরে আপত্তিকর স্থানে হাত দেয়ার অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় রোববার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তোভোগি শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং শিক্ষার্থীর পরিবার ভূঞাপুর থানা মামলা দায়ের করেন।

সখীপুর

সখীপুরে প্রেমিকের সামনে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রেমিকাকে ধর্ষণের প্রধান আসামি মো. সাদ্দাম (২৭) কে গ্রেফতার করেছে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা।

শুক্রবার (০৫ এপ্রিল) ভোরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের নতুন বাস স্ট্যান্ড এলাকার রাঙ্গামাটি কর্টেস থেকে ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মো: শফিকুর রহমান।

টাঙ্গাইল

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) টাঙ্গাইল নতুন বাস স্ট্যান্ড এলাকার ডিসি লেকসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের ডিসি লেকে এ ঘটনা ঘটে।

রাতেই ধর্ষিতা স্বামী এ বিষয়টি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভোর রাতে ৬ জন ধর্ষককে আটক করে। পলাতক ২ জন।

নাগরপুর

নাগরপুরে রোববার (১৪ এপ্রিল) প্রেমিকাকে বৈশাখী মেলায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষণকারী ও ধর্ষণে সহযোগিতাকারীকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।

ধর্ষণকারী হলেন- উপজেলার বেকড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে মোবারক হোসেন (২০) ও তার সহযোগি একই উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া কালু (২২) আটক। উপজেলার চৌবাড়িয়া বন্ধু রাজিবের বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

পরে সোমবার রাতে ধর্ষিতার বাবা ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আলম চাঁদ এ ধর্ষণের কথা নিশ্চিত করেছেন।

উৎস : পূর্বপশ্চিমবিডি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷