টাঙাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার ২ নং সদর ইউনিয়নের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম শাহপুর। উপজেলা শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান হলেও অজানা কারনে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত এই গ্রাম। ক্ষমতার পালা বদল হয়, কিন্তু বদল হয়না গ্রামের রাস্তাঘাট। এই গ্রামের প্রধান সড়ক এখনো কাঁচা। আশপাশের সকল রাস্তাঘাটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও অজানা কারনে এই রাস্তায় লাগেনি কোনো প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়া।
প্রতিদিন এ রাস্তায় চলাচল করে অন্তত: পাশ্ববর্তী ছয় সাতটি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ। বৃষ্টি হলেই আর চলাচল করার মতো অবস্থা থাকেনা এই রাস্তায়। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় স্কুল শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। গ্রাম ঘুরে দেখা যায় অন্তত বিশটি পোল্ট্রি খামার, দুটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীসহ অনেক ছোট খাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এই গ্রামের রাস্তাটি ব্যবহার করেন পাশ্ববর্তী বাইচাইল, মজমপুর, দড়ি চৈথট্ট, আমতলাসহ পাহাড়ি জনপদের লোকজন। গ্রামের অভ্যন্তরে রয়েছে সরকারী প্রাইমারী স্কুল, মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ক্ষমতার পালা বদল হলেও এই রাস্তার চেহারা পাল্টায় না। ভোটের আগে সবাই উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও ভোটের পর কেউ খোজ নেয় না এই রাস্তাসহ এলাকার। জোট সরকারের সাংসদ লুৎফর রহমান খান আজাদ অনেকবার আশ্বস্ত করেও করে দেয়নি এই প্রাচীন রাস্তাটি।
এরপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের সাংসদ প্রয়াত ডা: মতিউর রহমান, আমানুর রহমান খান রানাও অনেকবার আশ্বস্ত করেছেন কিন্তু পাকা বা চলাচল উপযোগী করেননি তাঁরা। খোঁজ নিয়ে যানা যায়, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের রেশারেশিতে পাকা হয়ে উঠেনি এই রাস্তা। চেয়ারম্যান, মেম্বার আসে যায় কিন্তু চেহারা পালটায় না এই প্রধান রাস্তার। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনসাধারন।
খালিদ হাসান খোকন নামের এক সাংবাদিক ফেইসবুকে সম্প্রতি এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখলে পুনরায় নজরে আসে সবার। তিনি উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখেন আক্ষেপ করে। তিনি লিখেন “অন্তত ২/৪ পাইছা মাটি, ভাংগা ইট, খোয়া যদি রাস্তায় ফেলে দিতেন তাহলে শাহপুরবাসী আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকতো।শামীম সাইফুল্লাহ নামের একজন লিখেন “নেতা বেশিতো, তাই রাস্তা হবে না “।গ্রামের সাধারন জনগন জানান, এই রাস্তা না হওয়ায় তারা ব্যবসা বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে পড়ছেন। তাদের সন্তানেরা স্কুলে যেতে পারেনা একটু বৃষ্টি হলেই। তাছাড়া উপজেলার এত কাছাকাছি একটা গ্রামের প্রধান সড়ক এখনো চলাচল অনুপযোগী তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন’র সাথে তিনি বলেন, ঘাটাইলসহ উপজেলাধীন এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং ঘাটাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সূত্র: নিউজ৭১ডটকম।
আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷