সাংসদ আমানুর রহমান খান ও তাঁর ভাইদের বহিষ্কারের ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সভাকক্ষে গতকাল শুক্রবার ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা এবং ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ ওরফে রুবেলকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগে সাংসদ ও তাঁর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি হয় বলে জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ সূত্র। --- খবর ঃ প্রথম আলোর।
এদিকে ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদকে হত্যার পরিকল্পনায় আমানুরের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলেই তাঁকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
জেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ১৮ জানুয়ারি ফারুক আহমেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি পালনের জন্য কর্মসূচি নির্ধারণে গতকাল সকালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খানের সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান ও নাহার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান ও সাইফুজ্জামান সোহেল, আইনবিষয়ক সম্পাদক এস আকবর খান প্রমুখ অংশ নেন। সভায় নেতারা ফারুক আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীর আগেই আমানুর ও তাঁর ভাইদের দল থেকে বহিষ্কারের ব্যাপারে মত দেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহীর পরিষদের সভা আহ্বান করা হবে। ওই সভায় আমানুর ও তার ভাইদের বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি দেওয়া হবে।
সভা শেষে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ফারুক আহমেদ হত্যার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি সাংসদ আমানুর ও তাঁর ভাইদের দল থেকে বহিষ্কারের ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। সোমবার এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে ঘাটাইলে ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আ. জুব্বার গত ২০ ডিসেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি বলেন, সাংসদ আমানুরের পরিকল্পনা ও নির্দেশে তাঁরা আবু সাঈদকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জুব্বারের দেওয়া জবানবন্দি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে এ মামলার অভিযোগপত্রে সাংসদ আমানুরকে আসামি করা হবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম বলেন, একজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দিসহ মামলার পুরো বিষয় তদন্ত করে যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷