শনিবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৭

এমপি রানার ঘাটাইলে অনুপ্রবেশ যেভাবে


খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে, দৈনিক যুগান্তর: জাতীয় নির্বাচনে ঘাটাইলে নতুন মুখের দাবি দীর্ঘদিনের। তাই ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বর্ষীয়ান নেতা শামসুর রহমান খানকে ডিঙিয়ে নৌকার টিকিট ছিনিয়ে নেন ডা. মতিউর রহমান। আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে খ্যাত হারানো আসনে বিএনপি থেকে বার বার এমপি নির্বাচিত নেতাকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভেদ নিরসনে সাংগঠনিক সঙ্গতি ও দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশায় বুক বেঁধেছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু আশায় গুঁড়েবালি। দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি। ফলে ছাইচাপা আগুনে আরও দাবানলে পরিণত হয়। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্যে এমপিবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করতে থাকে।



সব নেতাকর্মীকে বাদ রেখে শহিদুল ইসলাম লেবু একক আধিপত্য বিস্তার করেন। মতিউর রহমান এমপি হলেও সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেতেন তিনি। টিআর, কাবিখা, কাবিটা লুটপাট থেকে শুরু করে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ব্যাপক বদনাম কুড়ান তিনি। ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নেতাকর্মীরা। এতে করে ছাইচাপা আগুনে পুড়তে থাকে দলটি। ফলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। একপর্যায়ে ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এমপি মতিউর রহমান মারা যান। বিদ্রোহী গ্রুপটি ওই সময় কাজে লাগান। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ আমানুর রহমান রানাকে ঘাটাইল রাজনীতিতে নিয়ে আসেন।

২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে প্রয়াত এমপির বিদ্রোহী গ্রুপের সবাই রানার পক্ষে অবস্থান নেন। তারা রানাকে নৌকার টিকিট পাইয়ে দেয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে লবিং করেন। কিন্তু নৌকার টিকিট পান শহিদুল ইসলাম লেবু। আর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন রানা। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রানা আনারস প্রতীক নিয়ে নৌকাকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সেই থেকে ঘাটাইল রাজনীতিতে রানার উত্থান।

২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নৌকার টিকিট পেয়ে বিনা ভোটে এমপি হন রানা। এর পরই শুরু হয় প্রতিশোধের পালা। আর এ জন্য তিনি প্রথমেই তার ভাইয়ের নামে বাপ্পী স্মৃতিসংসদ করেন। অনেকটা টাঙ্গাইলের আদলেই পরিচালিত হতে থাকে ঘাটাইলের রাজনীতি। চলতে থাকে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

জানতে চাওয়া হলে শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু কুচক্রী মহল রানা অনুসারী তাকে ঘাটাইল আনার সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। পৌর আওয়ামী লীগের (রানা অনুসারী) আহ্বায়ক দাবি করে খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের পক্ষে আওয়ামী লীগের ৫ ভাগ লোকও নেই। যারা ঘাট বদলায় তারাই শুধু রয়েছেন।