বুধবার, জুন ০১, ২০১৬

ঘাটাইলে ভোটের লড়াইয়ে যারা

আগামী ৪ঠা জুন শেষ ধাপে হবে ঘাটাইল উপজেলার ৮ ইউনিয়নের নির্বাচন। এই ৮ ইউনিয়নে মোট ভোটারসংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৬ হাজার ৫০২ এবং মহিলা ভোটার ৮৮ হাজার ৫২৪। গত ইউপি নির্বাচনে ১১টি ইউনিয়নের ৮টিতে জয় পায় বিএনপি প্রার্থী। তিনটিতে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এবার আওয়ামী লীগ চাইছে জয়ের পাল্লা ভারি করতে আর বিএনপি চাইছে জয়ের ধারা অক্ষুণ্ন্ন রাখতে। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও শঙ্কাও আছে। বিএনপির প্রার্থীদের দাবি প্রচারে বাধা ও হুমকি ধমকির কারণে শঙ্কার মধ্যে আছেন তারা। আনেহলা ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন এবং লোকেরপাড়া ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। এর ফলে এই দুটি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ৮ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছে। আশপাশের নির্বাচনের সার্বিক চিত্র দেখে ভোট হবে তো কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া যাবে তো- এমন নানা শঙ্কা ভোটারদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন বলছে ভোট হবে শতভাগ সুষ্ঠু। প্রার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসকসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমনই মনোভাবের কথা ব্যক্ত করেছেন। এদিকে এই সভায় সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা। প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে কিছুটা বেকায়দার রয়েছে নৌকার প্রার্থীরা। ৮ ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩৩ জন, সাধারণ সদস্য ২৬২ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ৭০ জন।
দেউলাবাড়ি ইউপি: এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন সাধারণ সদস্য ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ৯ জন। ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কায়সার রহমান খান (কহিনূর খান), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান। অন্য প্রার্থীরা হলেন সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান আকন্দ ও মো. মোতাহার হোসেন। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা বেশি।
ঘাটাইল ইউপি: এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন, সাধারণ সদস্য ৩১ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ৭ জন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, মো. হায়দার আলী, বিএনপি দলীয় প্রার্থী বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, অপর প্রার্থীরা হলেন, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেম্বার জাহাঙ্গীর হোসেন খান (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), আ. আজিজ মেম্বার (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী)।
জামুরিয়া ইউপি: এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী দুজন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ইখলাক হোসেন খান (শামীম খান)। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া বইলেও জামুরিয়া ইউনিয়নের দুই দলের হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর নির্বাচনের কলাকৌশলের দিকে দৃষ্টি সবার। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস চাইছেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হতে আর বিএনপি দলীয় প্রার্থী শামীম খানও চাইছেন দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যানশিপ পুনরুদ্ধার করতে। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ৩১ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ৫ জন নির্বাচন করছেন।
লোকেরপাড়া ইউপি: এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন বর্তমান চেয়ারম্যান হায়দার আলী তালুকদার বিএনপি দলীয় মনোনয়ন এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাই এ ইউনিয়নের বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফ হোসেন, এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন খান কাপাস, জাপার প্রার্থী আহম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলজার হোসেন। এ ছাড়া এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য ৩২ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। সাধারণ ভোটারদের অভিমত এখানে প্রার্থী সংখ্যা বেশি থাকায় কে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী লড়াইয়ে জিতবেন তার জন্য ৪ঠা জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
আনেহলা ইউপি: বিএনপির প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শফিউর রহমান মুক্তা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় এখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার (ডলার শাহজাহান), অন্য প্রার্থীরা হলেন নেতা আনছার আলী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন খন্দকার আ. রহিম। এ ছাড়া এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য ৩০ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরই লড়াই হবে বলে ভোটারদের অভিমত।
দিঘলকান্দি ইউপি: বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেন, রেজাউল করিম মটু, এ ছাড়া ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর অন্যরা হলেন, সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাহিনুর রহমান (বিএনপি বিদ্রোহী), আবদুল্লাহ আল মামুন বিদুৎ (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম। সাধারণ সদস্য ৩৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী হয়েছেন ১০ জন। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেরই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। সব প্রার্থীই সমান তালে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাই এ ইউনিয়নে কেউ কারো নাহি ছাড়ে সমানে সমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শেষ বিকালে এখানে কে বিজয়ের মালা পরবে তা বলা মুশকিল।
দিগড় ইউপি: এ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনছুর আলী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইসমাইল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মামুন (বিএনপি বিদ্রোহী), আওয়ামী লীগ নেতা সানোয়ার হোসেন শাতিল (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জামাল হোসেন ও হাবিবুর রহমান। সাধারণ সদস্য পদে ৩৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেরই পথে কাটা বিদ্রোহী প্রার্থী।
দেওপাড়া ইউপি: এ ইউনিয়নে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মাইন উদ্দিন তালুকদার তারু, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আ. ছালাম। ভোটারদের অভিমত এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখী। বিজয়ের হাসি কে হাসবে তা বলা মুশকিল। সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷