ঘাটাইল, ভুয়াপুর ও কালিহাতী নিয়ে গঠিত গাজীপুর সার্কেল ২২-এর উপ-কর কমিশনার অফিস ঘাটাইল। এ তিন উপজেলার প্রায় দুই হাজার ৯৫১ জন শিক্ষক রয়েছেন আয়করের আওতায়। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে এসব শিক্ষকের কাছ থেকে আয়কর দাখিল ও রিটার্নের নামে রসিদ ছাড়াই হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আয়কর জমা দেওয়ার জন্য তিন উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন এ অফিসে। জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেল অনুসারে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে- সরকার থেকে এমন পরিপত্র জারি করে প্রায় দুই বছর আগে। দুই বছর আগে এ পরিপত্র জারি হলেও মূলত ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিন নম্বর) খুলে চলতি বছরের আয়কর নিচ্ছে অফিস। বিশেষ বিবেচনায় আগের দুই বছরের আয়কর শিক্ষকদের জন্য মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ঘাটাইলের সহকারী কর কমিশনার মো. শওকত আলী।
শিক্ষকদের অভিযোগ, জমা দেওয়া পুরো টাকার রসিদ অফিস দিচ্ছে না। যাদের বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা, তাদের কাছ থেকে আয়কর ও দাখিল বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। যাদের ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেলে শুধু আয়কর দাখিল বাবদ নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা। ২২ হাজার বা তার ঊর্ধ্বে বেতন স্কেলে কিছু টাকার রসিদ দিলেও ১৬ হাজার টাকা স্কেলের কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। উপজেলার মমরেজ গলগন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, আমার কাছ থেকে চার হাজার ৮০০ টাকা জমা নিয়ে রসিদ দিয়েছে তিন হাজার ১৮০ টাকার।
আবু হানিফের মতো সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে একই ধরনের রসিদ পেয়েছেন ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জান এবং সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। বাবুল নামে এক শিক্ষক জানান, ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেলে আমার কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে, এক টাকারও রসিদ দেয়নি। মামুন নামে এক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষক, মানুষ গড়ার কারিগর। আমাদের কাছ থেকেও আয়কর অফিস ঘুষ নেয়।
রসিদ ছাড়া প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ করে টাকা নিলেও শিক্ষক সংখ্যা অনুসারে এর অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। তিন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় দুই হাজার ৯৫১ জন শিক্ষক রয়েছেন আয়করের আওতায়। এ মধ্যে ঘাটাইলে এক হাজার, ভুয়াপুর ৯৫৩ ও কালিহাতীতে ৯৯৮ জন।
রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ে সরকারের কোনো বিধিবিধান আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ঘাটাইলের সহকারী কর কমিশনার মো. শওকত আলী। উল্টো ওপরের মহল থেকে ফোন করিয়ে প্রতিবেদকে নিউজ করা থেকে বিরত থাকতে বলেন।









