রবিবার, জুন ৩০, ২০১৯

ঘাটাইলে আয়কর আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

ঘাটাইল, ভুয়াপুর ও কালিহাতী নিয়ে গঠিত গাজীপুর সার্কেল ২২-এর উপ-কর কমিশনার অফিস ঘাটাইল। এ তিন উপজেলার প্রায় দুই হাজার ৯৫১ জন শিক্ষক রয়েছেন আয়করের আওতায়। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে এসব শিক্ষকের কাছ থেকে আয়কর দাখিল ও রিটার্নের নামে রসিদ ছাড়াই হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। 

আয়কর জমা দেওয়ার জন্য তিন উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন এ অফিসে। জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেল অনুসারে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে- সরকার থেকে এমন পরিপত্র জারি করে প্রায় দুই বছর আগে। দুই বছর আগে এ পরিপত্র জারি হলেও মূলত ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিন নম্বর) খুলে চলতি বছরের আয়কর নিচ্ছে অফিস। বিশেষ বিবেচনায় আগের দুই বছরের আয়কর শিক্ষকদের জন্য মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ঘাটাইলের সহকারী কর কমিশনার মো. শওকত আলী।

শিক্ষকদের অভিযোগ, জমা দেওয়া পুরো টাকার রসিদ অফিস দিচ্ছে না। যাদের বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা, তাদের কাছ থেকে আয়কর ও দাখিল বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। যাদের ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেলে শুধু আয়কর দাখিল বাবদ নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা। ২২ হাজার বা তার ঊর্ধ্বে বেতন স্কেলে কিছু টাকার রসিদ দিলেও ১৬ হাজার টাকা স্কেলের কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। উপজেলার মমরেজ গলগন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, আমার কাছ থেকে চার হাজার ৮০০ টাকা জমা নিয়ে রসিদ দিয়েছে তিন হাজার ১৮০ টাকার। 

আবু হানিফের মতো সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে একই ধরনের রসিদ পেয়েছেন ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জান এবং সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। বাবুল নামে এক শিক্ষক জানান, ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেলে আমার কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে, এক টাকারও রসিদ দেয়নি। মামুন নামে এক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষক, মানুষ গড়ার কারিগর। আমাদের কাছ থেকেও আয়কর অফিস ঘুষ নেয়। 

রসিদ ছাড়া প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ করে টাকা নিলেও শিক্ষক সংখ্যা অনুসারে এর অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। তিন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় দুই হাজার ৯৫১ জন শিক্ষক রয়েছেন আয়করের আওতায়। এ মধ্যে ঘাটাইলে এক হাজার, ভুয়াপুর ৯৫৩ ও কালিহাতীতে ৯৯৮ জন। 

রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ে সরকারের কোনো বিধিবিধান আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ঘাটাইলের সহকারী কর কমিশনার মো. শওকত আলী। উল্টো ওপরের মহল থেকে ফোন করিয়ে প্রতিবেদকে নিউজ করা থেকে বিরত থাকতে বলেন।

বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯

ঘাটাইলে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আজ ২৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে ঘাটাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির এক সভা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু। এতে মাদক, বাল্য বিবাহ, যানজটসহ আইন শৃঙ্খলার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদ সরকার, ঘাটাইল ইউপি চেয়ারম্যান হায়দার আলী, জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামীম খান, দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাম মামুন, দিঘলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সাহা, অধ্যাপক মতিয়ুর রহমান, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ্যে সড়কে রিফাত শরীফ (২৩) নামে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে তা ভাইরাল হওয়ার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিফাত শরীফ ও আয়েশা কলেজ থেকে বের হওয়ার সময়ই চার-পাঁচ জন তাদের ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে দুজন রিফাতকে রামদা হাতে একের পর এক আঘাত করে চলেছেন। স্ত্রী আয়েশা হামলাকারীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারছিলেন না। রিফাতকে বাঁচানোর জন্য তার স্ত্রী চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। হামলাকারী যুবকরা রিফাতকে রক্তাক্ত করে সবার সামনে দিয়েই চলে যায়।

পরে আহত অবস্থায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রিফাতকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। সেখানে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মূলত খুন হয়েছেন স্বামী রিফাত শরীফ।

নিহত রিফাতের পরিবার জানায়, স্ত্রীর সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রিফাতের সঙ্গে দুই মাস আগে পুলিশ লাইন্স সড়কের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি নামের এক মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নয়ন নামে এক যুবক মিন্নিকে তার প্রেমিকা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিতে থাকে। সেই সঙ্গে রিফাতের স্ত্রীর সঙ্গে নয়নের পরকীয়া সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করে নয়ন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নয়নকে নিষেধ করে রিফাত। এরপরও শোনেনি নয়ন। এক পর্যায়ে প্রতিবাদ করে রিফাত। সেই জেরেই তাকে খুন করা হয়।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র ছেলেকে যারা দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।



নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন বলেন, পরকীয়ার জেরে একবার রিফাত শরীফকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছিল নয়ন বন্ড। এ সুযোগে নয়ন বন্ড রিফাতের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করে। যা আমিসহ আমাদের আরও কয়েক বন্ধু দেখেছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার রিফাতের সাথে নয়নের দ্বন্দ্ব হয়েছে, এরপরও থামেনি নয়নের পরকীয়া। অবশেষে আজ পরকীয়ার কারণে রিফাতকে লাশ হতে হলো।

মঞ্জুরুল আলম জন আরও বলেন, বুধবার সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়নসহ কয়েকজন রিফাতের ওপর হামলা চালায়।

তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে নয়ন ও তার সহযোগীরা। রিফাতের স্ত্রী মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড ও তার প্রতিবেশী দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী এবং রাব্বি আকন আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। আমার সামনে ওই সন্ত্রাসীরা রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি শত চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করবে পুলিশ।

বুধবার, জুন ২৬, ২০১৯

ঘাটাইলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী র‌্যালী ও আলোচনা সভা

”সুস্বাস্থ্যেই সুবিচার, মাদক মুক্তির অঙ্গিকার”- এই প্রতিপাদ্যে সারা দেশের মতো টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আর্ন্তজাতিক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ বুধবার দুপুরের উপজেলা পরিষদের হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান আজাদ, ঘাটাইল থানা অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) এনামুল কবির চৌধুরী,সহ এসময় বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের শহর প্রদক্ষিণ শেষে একই জায়গায় এসে শেষ হয়।

মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৯

ঘাটাইলে যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরের যানজট নিরসন কল্পে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার (২৪ জুন) বিকালে এ অভিযান পরিচলনা করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

কলেজ মোড় চত্বর ও কলেজ রোডে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে চা স্টলসহ বিভিন্ন দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিল দখলদাররা। এ কারনে কলেজ মোড় চত্বরে সব সময় যানজট লেগে থাকত। যানজট দুর করতেই এ উদ্যোগ গ্রহন করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় পনেরটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান, শামীম খান, হেকমত সিকদার প্রমুখ।

এ সময় সাংবাদিক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারীর পুকুর দখল করে লাল নিশান

ব্রিটিশ শাসনামলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কুলিয়া গ্রামে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর বিশাল আকারের একটি পুকুর খনন করেন পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী। স্থানীয়দের কাছে পুকুরটি আন্দাদীঘি নামেও পরিচিত। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, খাস জলাশয় হিসেবে এটি সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত ১৯৬২ সালে এবং হালনাগাদও হয়েছে সরকারের নামে। কিন্তু পুকুরটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা বহু পুরনো। বিরাহিমপুর গ্রামের মান্নান মিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে মাহফুজ আরিফ ও ফুয়াদ আরিফ গং দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের মালিকানা দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি দখলে যেতে সালাম, আনছার আলী, সোহরাব হোসেনকে দিয়ে পুকুরে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছেন। মালিকানা নিয়ে সরকারের পক্ষে এলাকাবাসী ও অপর পক্ষের সঙ্গে প্রায় ৪৭ বছর ধরে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলা। ফলে তিন বছর ধরে বন্ধ আছে সরকারিভাবে প্রদান করা লিজের কার্যক্রম।

জানা যায়, সুপেয় পানির অভাব থাকায় প্রজাদের সুখের কথা ভেবে পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী পুকুরটি খনন করেন। জনকল্যাণকর কাজের জন্য তিনি মহারানী খেতাব পেয়েছিলেন। সেই থেকে ওই এলাকার মানুষ পুকুরটি সুবিধা ভোগ করে আসছিল। কিন্তু ১৯৭২ সালে পুকুরের মালিকানা দাবি করে বসেন আব্দুল মান্নান মিয়া। দখলে যেতে চাইলে এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের সংর্ঘষ হয়। পরে পুকুরটি উদ্ধারে সরকারের পক্ষে মামলা করে এলাকাবাসী। মামলার বিবরণে জানা যায়, পাকিস্তান শাসনামলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোনায়েম খাঁর কাছ থেকে মান্নান মিয়া ভূমি বন্দোবস্ত করেন। পুকুরটি সেই সময় কৃষি জমি দেখিয়ে তারা এ কাজ করেন। বন্দোবস্ত গ্রহণ করলেও কোনো দিন ভোগদখলে যেতে পারেনি। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রথমে নিম্ন আদালত ও পরে ২০০০ সালে হাইকোর্ট এলাকাবাসীর পক্ষে রায় দেন। ২০০০ সাল থেকে পুকুরটি সরকারি জলাশয় হিসেবে জেলে সমিতির মাধ্যমে লিজ দেওয়া হয়। পরে বিবাদী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। প্রায় ১৬ বছর পর ২০১৬ সালে আদালত আবার বিবাদীর পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার বাদী হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ওই সময়ই জেলা প্রশাসক পুকুরে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধজ্ঞা জারি করে দুই পাশে তিনটি সাইনবোর্ড দেন। কিন্তু কিছুদিন পরই সেই সাইনবোর্ড রাতের আঁধারে পুকুরপাড় থেকে উধাও হয়ে যায়। এ নিয়ে থানায় জিডি করেন ঘাটাইল ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা। এলাকাবাসী জানায়, পুকুর উদ্ধারে আমরা শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। প্রায় তিন বছর ধরে লিজের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আবার দখলদাররা তাদের দখলে নিয়ে যেতে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছে। এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় দু'পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ বাধতে পারে।

পুকুরের দাবিদার মাহফুজ আরিফ বলেন, হাইকোর্ট থেকে রায় এনে আমরা পুকুর দখল নিয়ে লাল নিশান দিয়েছি। 

সরকারি রেকর্ডভুক্ত পুকুর দখলে যেতে লাল নিশান টানানোর বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোছা. নুরনাহার বেগম বলেন, পুকুরটি খাস হিসেবে সব রেকর্ড সরকারের নামে। যদি কেউ দখল করে নিশান দিয়ে থাকে তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। অতিদ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিকানা নিয়ে সরকারের মামলা চলছে, আমরা সরকারের পক্ষে লড়ছি।

সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯

ঘাটাইলে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিফট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গিফট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে আর্ন্তজাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির আয়োজনে গিফট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম খান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোছা. রুবি খান, ইউপি সদস্য হাজী চাঁন মিয়া, গুডনেইবারস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. হোসনে আরা পারভীনসহ সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীএবং অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১১৫২ জন শিশুদের মাঝে ৫টি কলম, ৫টি খাতা, ১ লিটার সয়াবিন তৈল,৩০০ গ্রাম গুরো দুধ, ১ পেকেট বিস্কুট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঘাটাইল সিডিপির প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার ।

ঘাটাইলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী গণধর্ষণ!

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এঘটনায় অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হল, উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামের সোহরাব আলী তালুকদারের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫) ও মৃত আমীর আলীর ছেলে হামিদ এলাইস আলফিন। গত শুক্রবার (২১ জুন) উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে আজ সোমবার (২৪ জুন) সকালে ওই দুইজনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ ধর্ষক আলমগীর ও হামিদকে গ্রেপ্তার করে সোমবার টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ ও মেয়েটির মা জানায়, উপজেলার লোকের পাড়া ইউনিয়নের দশআনী বকশিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। গত শুক্রবার ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে তার বন্ধুর সাথে দেখা করতে বের হয়। এসময় ধর্ষক আলমগীর ও হামিদ তাকে বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য সহযোগিতা করবে বলে জানায়। পরে ওই ছাত্রীকে কৌশলে নিয়ে গিয়ে দুইজন মিলে গণধর্ষণ করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। পরে তার মা বাদী হয়ে আজ সোমবার সকালে দুইজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রীটির মা বাদী হয়ে সোমবার সকালে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ওই দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরন করা হয়। পরে আদালত তাদের প্রত্যেককে সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এছাড়া ওই ধর্ষিত মেয়েটাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার, জুন ২৩, ২০১৯

ঘাটাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আ.লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

রোববার (২৩  জুন) সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈকিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী জাকজমকপুর্নভাবে উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে দলীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা চত্বর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের সমন্বয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু এর সভাপতিত্বে উপজেলা চত্বরে আলাচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান।

এতে উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাডঃ
শাহেনশাহ সিদ্দিকী (মিন্টু), উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, জিবিজি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মনি, জামুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস, আওয়ালীগ নেতা মোতালিব হোসেন, আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান আজাদ প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষ

ঘাটাইলে ছাত্রকল্যাণ পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা শাখার ছাত্র কল্যাণ পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড় সংলগ্নে ও জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অফিসে এই কমিটি হয়।

এসময় মো: আবু সাইদ রুবেল আহবায়ক এবং রবিউল ইসলাম তমাল, মোঃ রঞ্জু আহমেদ, আবিদ হাসান সহ নয়জনকে যুগ্ম আহবায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। আগামী তিন মাসের জন্য ১০৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মনির শিকদার, সহ-সভাপতি মো: জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো: সোহেল রানা, সহ-সম্পাদক কাওসার ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক অমিত আনোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোয়াব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, বৈশিষ্ট্য সমাজসেবক জামিল হাসান, সরকারি সা’দত কলেজ করটিয়া শাখার যুগ্ম আহবায়ক মো: মামুনসহ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সকল নেতাকর্মী।