শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮

সেই প্রতিবন্ধী সাইফুলের পাশে ঘাটাইলের ইউএনও দিলরুবা আহম্মেদ

আমার সংবাদ ডেস্ক:  অবশেষে শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুলকে ভাতা কার্ড করে দিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ।

সেই সাথে সাইফুলের থাকার জন্য ঘর ও তার চিকিৎসার আশ্বাস দেন ইউএনও। ২০ বছর ধরে শিকলে বন্দি সাইফুল শিরোনামে আমাদের ঘাটাইল ডটকম সহ কয়েকটি পিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গত ১৪ আগস্ট একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি ইউএনও’র নজরে আসে। পরে ইউএনও দিলরুবা আহম্মেদ উপজেলা সামাজ সেবা অফিসার সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর মোসা.রাশিদা বেগম সাইফুলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সাইফুলকে শিকলে বন্দি অবস্থায় দেখতে পান। পরে ইউএনও তাৎক্ষণিক সাইফুলকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করেন। সেই সাথে সাইফুলের থাকার জন্য ঘর ও তার চিকিৎসার আশ্বাস দেন ইউএনও।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধারিয়াল গ্রামের মৃত বহর আলী মন্ডলের ছোট ছেলে সাইফুল শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাকে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। মা রহিমা বেগম তার দেখাশোনা করে। গত ৩০ বছর আগে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই সাইফুলের জন্ম হয়। বয়স বারার সাথে সাথে সাইফুলের পাগলামী বেড়ে যায়। 

একাধিকবার সে হারিয়েও যায়। এর পর ১০ বছর বয়সে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে তার শিকলে বন্দি জীবন। এই ৩০ বছরে প্রতিবন্ধী সাইফুলের কপালে জোটেনি কোনও সরকারি ভাতা। সাইফুলের মা রহিমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ, টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারিনি। চিকিৎসা করতে পারলে হয়তো আমার ছেলে ভালো হতো। তার ছেলের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেয়ায় এবং সাইফুলের চিকিৎসার আশ্বাসে তিনি অত্যন্ত খুশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহম্মেদ বলেন, পত্রিকায় সংবাদ পড়ে বিষয়টি জানতে পেরে সাইফুলের জন্য ভাতা কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তার থাকার জন্য একটি ঘর ও তার চিকিৎসার ব্যাপারেও প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮

সড়কে আইন মানাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী উঠানামা করা যাবে না। স্টপেজ ছাড়া অন্যত্র বাসের দরজা বন্ধ থাকবে। বাসের দুটি দৃশ্যমান স্থানে চালক ও কার সহকারীর ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স নম্বর ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।

গণপরিবহন বিশেষ করে বাসের চালক, মোটরসাইকেল আরোহীর পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে চলাচলকারী পথচারীকেও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী ২০ আগস্ট থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু করে।

গত ২৯ জুলাই ঢাকারর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দু্ই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়, তাতে নগরীতে চলাচলের ক্ষেত্রে যেসব নৈরাজ্য আছে, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি জানিয়েছে, সরকার সেগুলোর আলোকে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। পরিবহন মালিকরাও এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নগরীতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তিতে বাস চালানোর বদলে নির্ধারিত বেতনে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছে। এরই মধ্যে এটি কার্যকর হয়েছে আর এতে যাত্রীর জন্য হাকডাকও কিছুটা কমে এসেছে।



তবে রাজধানীতে চলাচলে বিশৃঙ্খলার আরও নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে আছে যেখানে যেখানে যাত্রী উঠানামা, পথচারীদের বিশৃঙ্খল চলাচলও এর পেছনে দায়ী।

সদ্য সমাপ্ত ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া হতাশা ভরা কণ্ঠে বলেন, নগরের ৯০ শতাংশ অধিবাসী ট্রাফিক আইন মানতে চায় না।

এর মধ্যে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন’ বিষয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২০ আগস্ট থেকে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দুজন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট পরা এবং সিগন্যালসহ সব ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করতে হবে।

মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসে চালক এবং যাত্রীর সিট বেল্ট ব্যবহার করতে হবে। ঢাকায় যেসব স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস আছে সেসব স্থানে উভয় পাশে ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

ঢাকার সব জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা, ফুটপাথ হকারমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগনাল ব্যবস্থা চালু করে তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বুঝিয়ে দিতে হবে। একই সময়ের মধ্যে ঢাকায় রিমোট কন্ট্রোলের অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং চালু করতে হবে।

সড়ক ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে উপর বা নিচ দিয়ে চলাচল করা না যায়। মহাখালী ফ্লাইওভারের পর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ন্যূনতম দুটি স্থানে স্থায়ী মোবাইল কোর্ট/আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে যানবাহন ও ফিটনেসের লাইসেন্স পরীক্ষা করা হবে।

ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী, স্কাউট এবং বিএনসিসির সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তর এসব সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে কার্যকর করবে বলে সভায় বলা হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৮ আগস্টের মধ্যে ঢাকা শহরের সড়কের যেসব স্থানে ফুটওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস রয়েছে সেসব জায়গার ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

২০ আগস্ট এরমধ্যে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডার পাসে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি লাইট, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

৩০ আগস্টের মধ্যে আন্ডারপাসের বাইরে আয়নার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ এসব ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল যারা তাদেরকে ‘প্রশংসাসূচক’ সম্বোধনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে যেসব কার্যক্রম চলেছিল সেগুলো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহৃত রাখতে হবে।

অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং গাড়ির ফিটনেস দেয়ার সময় অবশ্যই পরিবহন দেখে তারপর ফিটনেস দিতে হবে। রুট পারমিট বা ফিটনেস বিহীন যানবাহন দ্রুত ধ্বংস করার সম্ভাবতা যাচাই করতে হবে।

শিক্ষানবিশ লাইসেন্স দেয়ার সময় তিনি গাড়ি চালাতে যানেন কি না, সেই পরীক্ষা নিতে হবে এবং উত্তীর্ণদের দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স দিতে হবে। এসব কাজের জন্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ঘাটতি থাকলে যথাযথ কর্তপক্ষের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘এখনও নতুন নির্দেশনার বিষয় আমাদের কাছে আসেনি। বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে আমাদের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা ছিলেন। নির্দেশনা পেলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬, ২০১৮

খালেদার স্বীকারোক্তি: ১৫ আগস্ট জন্মদিন না

কারান্তরীণ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন কারা চিকিৎসকরা। আজ বুধবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি মোটামুটি সুস্থ ও ভালো আছেন। মাঝে মাঝে তাঁর শরীরে সামান্য ব্যথা অনুভূত হয়। চিকিৎসকরা বেগম জিয়াকে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ দেন। প্যারাসিটামল ছাড়া আপাতত তাঁর আর কোনো ওষুধ দরকার নেই বলেই জানান চিকিৎসকরা। এসময় একজন কারা কর্মকর্তা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান, আজ তো আপনার জন্মদিন, জন্মদিন উপলক্ষে আপনার জন্য বিশেষ কিছুর আয়োজন করবো? উত্তরে খালেদা জিয়া স্পষ্ট ভাবে বলেন, ‘আজ আমার জন্মদিন না। আমার জন্মদিন সেপ্টেম্বর মাসে।’
১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করে আসছেন। একাধিক সূত্রে বেগম জিয়ার বেশ কয়েকটি জন্মদিনের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরীক্ষার মার্ক-শিট অনুসারে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। বিয়ের কাবিননামা অনুসারে তাঁর জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৯ আগস্ট। পাসপোর্ট অনুসারে তাঁর জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। কোথাও ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন বলা হয়নি। এরপরও বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই শোক দিবসে জন্মদিন পালন করেছেন। জাতীয় শোক দিবসের মহিমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও কটাক্ষ করতে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে তিনি এই নকল জন্মদিন পালন করেন।
অতিসম্প্রতি বেগম জিয়ার পৈশাচিক নকল জন্মদিন আয়োজনে ভাটা পড়েছে। গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক কারণেই বেগম জিয়া শোক দিবসে নকল জন্মদিন পালন করছেন না। আর এবার তো কারাগারে তাই ঘটনা করে জন্মদিন পালনের কোনো উপায়ই নেই।
১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার নকল জন্মদিন পালন নিয়ে অনেক বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা গেছে। তবে বর্তমানে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া তাঁর প্রকৃত জন্মদিনের কথা বলে, সত্য কথা স্বীকার করে নিলেন।
কথায় আছে, বিপদে পড়লে মানুষ সত্য কথা বলে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ খালেদা জিয়া। গত ছয়মাস ধরে কারাগারে থেকে ঘোর বিপদে তাঁর মুখ খুলেছে। আর এবার ওই খোলা মুখ থেকে কিছু সত্যও পাওয়া যাচ্ছে, যা কিছুটা বিরলই বলে মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে স্বীকারোক্তির পর দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে বঙ্গবন্ধুর জন্যই খালেদা জিয়ার সংসার টিকেছিল, তাঁর মৃত্যু দিবসকেই হেয় করতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কেউ পৈশাচিক আনন্দ কেউ করতে পারে। যদি এমন কাজ কেউ করে, তাহলে সে কেমন মানুষ?

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

ঘাটাইলে হিরোইনসহ গ্রেফতার ৩

টাঙ্গাইল টাইমস ডেস্ক:  টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানায় কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে জহের বয়াতীর চা ও পানের দোকানের সামনে থেকে ২৮ গ্রাম হেরোইন, ০৩ টি মোবাইল,নগদ ৩ হাজার সতের টাকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১২।

বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন ঘাটাইল উপজেলার ১। মোঃ মীরগাজী (৩৫),মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৬), মোঃ আলাল ব্যাপারী ।

র‌্যাবসূত্রে জানা যায় র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদর রবিউল ইসলাম এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ঘাটাইল থানায় কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে অভিযান পরিচালনা করে ২৮ গ্রাম হেরোইন, ০৩ টি মোবাইল,নগদ ৩ হাজার সতের টাকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে মাদক দ্রব্য হেরোইন সংগ্রহ করে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানাসহ আশপাশের থানা এলাকায় মাদকের খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট তাদের চাহিদা অনুযায়ী হেরোইন বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন মাদক সেবীদের নিকট তাদের চাহিদা অনুযায়ী হেরোইন সরবরাহ করে যুবকদের মাদক সেবনে উদ্ভুদ্ধ করে আসছে।

র‌্যাবের এ ধরনের মাদক বিরোধী আভিযানিক কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে। আইন শৃংখলা বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা বাংলাদেশকে একটি মাদকমুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

এমপি রানার পক্ষে ঘাটাইলে বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন

ঘাটাইল ডটকম ডেস্ক : টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানা রানার পক্ষে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৫ আগস্ট) ঘাটাইলে শোক র‍্যালি ও সর্বস্তরের জনগণের জন্য কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়।
শোক র‍্যালি ঘাটাইল পৌরর ৩ নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে সরকারি জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে গরীব দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
এ সময় ঘাটাইল জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কবির হোসেন জাহিদ, সহ- সভাপতি সালেহ আহমেদ সোহাগ সহ অন্যান্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে সুুনটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে রচনা প্রতিযোগীতা

ঘাটাইল ডটকম ডেস্ক:  জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৫ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলের সুনটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু জীবনীর উপর রচনা প্রতিযোগীতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.শাহান শাহ সিদ্দিকী মিন্টু। বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস ছামাদ, ব্যাবসায়ি রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল আজিজ, মো.কামাল হোসেন, মো.ফতেহ আহম্মেদ, সুলতান আহম্মেদ, সুনটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় প্রধান অতিথী বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে কোন দেশ প্রতিষ্ঠিত হতো না। বর্তমানে মাননীয় প্রধান প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট এদেশের স্বাধীনতা বিরুদ্ধী চক্র ও কিছু বিপদগামী সেনা সদস্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে মুছে দেয়ার জন্য জাতীর জনকসহ তার পরিবারের সদস্যদের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

ঘাটাইলের হামিদপুর জাতীয় শোক দিবস পালিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের হামিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৪৩ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

 বুধবার সকাল ৯টায় দিঘর ও দিঘলকান্দী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে একটি শোক র‌্যালি বের করা হয়।
র‌্যালি শেষে এক আলোচনা সভায় হামিদপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেন খান রতনের  ভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলিগনেতা আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান ।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,কালিয়াগ্রামের কৃতি সন্তান তরুন,ত্যাগি,সাংগঠনিক ব্যাক্তিত্ব ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো.রাসেল খান, যুবলীগনেতা মামুন খান,সাবেক ইউপি সদর্স শহিদুল ইসলাম খান গুঠু,খন্দকার আসাদুজ্জামান সাহেথ,ফারুক হোসেন খান ফনি,শহিদুল তালুকদার,আবুল হোসেন খান,মানিক মন্ডল,রনক খান,উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক মো.স¤্রাট খান প্রমুখ ।

পরে দোয়া মাহফিলে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ঘাটাইলের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমানুর রহমান খাঁন রানার জন্য দোয়া প্রার্থনা এবং কাঙ্গালী ভোজসহ নানা আয়োজন করা হয়।

ঘাটাইলে হামদর্দের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ঘাটাইল ঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে  বুধবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল হামদর্দ শাখার উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

 এতে প্রায় অর্ধ শতাধিক অসহায় দুস্থ্য ও গরীব রোগীদের মাঝে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম , সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা , সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও মাসুম মিয়া, হামদর্দ ঘাটাইল শাখার  ভারপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক মহব্বত হোসেন, চিকিৎসক হাকীম মোঃ মাসুদুর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।   

ঘাটাইলে জাতীয় শোক দিবস পালিত


ঘাটাইল:  বুধবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যথাযথ মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদৎ পালিত হয়েছে।

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অপর্ণ, শোকর‌্যালি, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, মিলাদ মাহফিল, চিত্রাংকন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা ।

এ উপলক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সকালে  শোক র‌্যালি বের হয়। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, আমাদের ঘাটাইল ডটকম এর সম্পাদক ও সিইও এডভোকেট এস আকবর খান, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আরিফ হোসেন, উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, সোনালী ব্যাংক লিঃ পরিচালনা পরিষদের পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল আলম তালুকদার, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল্লাহ তুহিন, তানভীর রহমান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া সুলতানা প্রমূখ। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ

আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের সেই কালরাতে নিজ বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য।


বঙ্গবন্ধু ছাড়াও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আরও যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন তারা হলেন : বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে। ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলেও সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

কোটি বাঙ্গালির প্রাণের নেতার মৃত্যুতে সেদিন যে ক্ষতি সাধিত হয়েছিল, আজও তার ক্ষত বয়ে চলেছে বাংলাদেশ। দেশবাসীর কাছে আগস্ট মাসটি তাই শোকের মাস, বেদনার মাস। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট আসে বাঙালির হূদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে। বাঙালি জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে আজ পালিত হবে জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকী।

সেদিন যা ঘটেছিল

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট অতিপ্রত্যুষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালায় ঘাতক দল। সে নারকীয় হামলার পর দেখা গেছে, ভবনটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে আছেন চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ। তাঁর তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। পাশেই পড়ে ছিল তাঁর ভাঙা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নীচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবির ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ। লুঙ্গিতে জড়ানো শিশু রাসেলের রক্তভেজা লাশ দেখে খুনিদের প্রতি চরম ঘৃণা-ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পান না মানবতাবাদী বিশ্বের কোনো মানুষ। এভাবেই নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

স্বাধীন দেশে কোনো বাঙালি তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে না—এমন দৃঢ়বিশ্বাস ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেজন্যই সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে তিনি থাকতেন তাঁর প্রিয় ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমন্ডির অপরিসর নিজ বাসভবনেই। বাঙালির স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার এ বাড়িটি অসম্ভব প্রিয় ছিল বঙ্গবন্ধুর। এখানে থেকেই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। সেদিন ঘাতকদের মেশিনগানের মুখেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন অকুতোভয়। প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম, একটি ইতিহাস। তার জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। সংগ্রামের মধ্যেই তিনি বড় হয়েছিলেন। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তত্কালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ৬ দফার প্রণেতাও ছিলেন। ৭০’র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এদেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন।

পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলে ষাটের দশক থেকেই তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়কে পরিণত হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রদৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত জাতি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পাঠ করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এই স্বাধীন বাংলাদেশ।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ প্রমুখ।



শোক দিবসের কর্মসূচি

আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে আজ। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে গিয়ে শহীদ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ, বিশেষ মোনাজাত এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ দুটি স্থানেই তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুর প্রতি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করবে।

বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানসমূহ সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। সচিত্র বাংলাদেশ এর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: আজ সূর্য উদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ছয়টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মোনাজাত, ৬টা ৪০ মিনিটে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল।
বাদ আছর দেশের সর্বত্র মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সকল মন্দির, গীর্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করবে। এছাড়া জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, সুইড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাবে। মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। 
তথ্যসূত্র : পূর্বপশ্চিম বিডি