মঙ্গলবার, জুলাই ০৯, ২০১৯

মুক্তি পেয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রানা

প্রায় চার বছর কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্ত হয়েছেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে দুই দফায় নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা।মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আমানুর রহমান খান রানা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়ার জন্য সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর ১২টা তিনি ধানমন্ডিতে পৌঁছান তিনি। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তর্বক অর্পন করেন। । এ সময় তার সাথে বিপুল সংখ্যাক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ধানমন্ডি থেকে সাবেক সাংসদ রানা  তার পিতা ঘাটাইলের বতমান সাংসদ আতোয়ার রহমানের ন্যাম ভবনস্থ ফ্যাটে অবস্থান করেবেন। শাররিক অসুস্থতার কারনে তিনি বেশ কিছু দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে তার মুক্তির সময় টাঙ্গাইল কারাগার গেটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। পুলিশ ও কারারক্ষীরা কারাগারের আশপাশে কাউকে ভিড় করতে দেয়নি। তবে সকাল থেকেই রানার কর্মী ও সমর্থকরা কারাগার গেটে ভিড় জমায়। এ সময় কারারক্ষী ও পুলিশ তাদের দূরে সরিয়ে দেয়।

ঘাটাইলে চিমনি ছাড়া এসিডের ব্যবহার

নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল: সোনা গলাতে পোড়ানো হয় নাইট্রিক এসিড। আর গয়নার সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয় সালফিউরিক এসিড। এই এসিড পোড়াতে চিমনি ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে, যা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সোনার অলংকার ব্যবসায়ীরা মানে না। এটা ২০০২ সালের এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলায় রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রায় শতাধিক সোনার দোকান। এসব দোকানের পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেই। দোকানগুলোতে সোনা পোড়ানোর কাজে অবাধে এসিড ব্যবহৃত হলেও দেখার কেউ নেই। যত্রতত্র এসিড দিয়ে সোনা গলানোর কারণে আশপাশের লোকজন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সোনার দোকানে এসিড ব্যবহারের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, এসিড পোড়ানোর জন্য আলাদা কক্ষ ও চিমনি ব্যবহার করতে হবে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের প্রায় ৮০টি দোকানে তা দেখা যায়নি। এর ফলে উন্মুক্ত স্থানে নাইট্রিক এসিড পোড়ানোর কারণে তা জনসাধারণের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবাধে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করায় বিষাক্ত ধোঁয়ায় সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান বলেন, ‘নাইট্রিক অ্যাসিডে নাইট্রোজেন-ডাই অক্সাইড আছে, যা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সালফিউরিক এসিডেও প্রায় একই রকম ক্ষতি হয়। এর ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ছাড়াও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।’

ঘাটাইল পৌর স্বর্ণকার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল চন্দ এসিড পোড়ানোর ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘পৌর এলাকায় এসিড দিয়ে সোনা পোড়ানোর জন্য তিনটি কারখানা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত কারখানাতেই সোনা পোড়ায়। কারখানাগুলোতে লম্বা পাইপ দিয়ে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. নুর নাহার বেগম বলেন, ‘নীতিমালা মেনেই স্বর্ণকারদের ব্যবসা করতে হবে। নীতিমালা ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ নম্বর ধারায় এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেলসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।’

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক এমপি রানা

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন টাঙ্গাইলের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা।

দুটি হত্যা মামলায় প্রায় তিন বছর আটক থাকার পর আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেলার আবুল বাশার।

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় রানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন গত ১ এপ্রিল আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। কিন্তু টাঙ্গাইলের যুবলীগের দুই নেতা হত্যার মামলায় জামিন না হওয়ায় তার মুক্তি মিলছিল না।

ওই মামলাতেও টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন সোমবার বহাল রেখে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। সেই জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছানোর পর মুক্তি মিললো আলোচিত এই আসামির।

মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সাবেক এমপি রানা। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোমবার, জুলাই ০৮, ২০১৯

রিকশাচালকদের গ্রামে গিয়ে ধান কাটতে বললেন মেয়র

রাজধানীর কয়েকটি রুটে রিকশা চলাচল বন্ধ হওয়ার পর রিকশাচালকদের কর্মসংস্থানের জন্য গ্রামে গিয়ে ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, ‘দুজন-তিনজন যাত্রী নিয়ে তারা কত কষ্ট করে রিকশা চালাচ্ছে। এটা অনেকটা অমানবিকও বটে। বিকল্প কর্মসংস্থান আছে। আজকে আমাদের গ্রামে ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না। রিকশাচালক ভাই যারা আছেন, তারা কিন্তু সহজেই সেখানে গিয়ে কাজটা করতে পারেন। আমরা তো একটা জায়গায় আটকে থাকতে পারি না।’

সোমবার রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির লক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে চান। এসময় এক শিক্ষার্থী রিকশা বন্ধ হওয়ায় অসুবিধার কথা জানালে মেয়র কম দূরত্বের পথ ফুটপাতে হেঁটে চলাচলের পরামর্শ দেন।

সারা শহর থেকে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি জানিয়ে মেয়র বলেন, শুধু গাবতলি থেকে আজিমপুর ও কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সায়দাবাদ এই দুটি রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এমআরটির (মেট্রোরেল) কাজ চলার কারণে রাস্তাগুলোতে যানজট প্রকট হয়ে গেছে। এজন্য এই দুটি রুটকে আপাতত রিকশামুক্ত করা হয়েছে। এ রাস্তাগুলোতে চলাচলের জন্য রাইড শেয়ারিং ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

পৃথিবীর কোনো দেশের রাজধানী শহরে রিকশার মতো যানবাহন চলাচল করে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা তো একটা জায়গায় আটকে থাকতে পারি না। আমরা দেখতে পাই পাঁচশ গজ দূরত্বে যেতেও রিকশায় চেপে বসি। আমরা যদি একটু হাঁটি, আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, ওজনও একটু লুজ হবে। আমাদের হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।’

এর আগে মেয়র ডেঙ্গু-চিকুগুনিয়া নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের সামান্য সচেতনতাই আমাদের জীবনকে নিরাপদ করবে। আপনাদের সচেতনতা এবং আমাদের উদ্যোগের সমন্বয়েই আমরা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখবো।’ 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমি জেনে শুনে বলছি এটাতে প্রাণঘাতি তেমন কিছু নাই।  ৭-১০ দিনে এটি ভালো হয়ে যায়। বাসায় বসে থেকেও এর চিকিৎসা করা যায়। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শও নিবেন।’

১৫ জুলাই থেকে ডিএসসিসির ৫৭টি ওয়ার্ডে মেডিক্যাল টিম থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। একটা হটলাইন হবে। একটা ফোন কলে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী আপনার বাসায় চলে যাবে।

১০০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলাম, ঘুষ খাব না কথা দিলাম

কোনো ধরনের ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা ছাড়াই পুলিশে নিয়োগের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তার বাস্তবায়ন করলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ১৩৬ জনকে চাকরি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেখালেন তিনি।

গত ১ জুলাই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে বিভিন্ন ধাপে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সর্বশেষে ৭ জুলাই যোগ্য এবং মেধাবী প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হয়।

নির্বাচিত ১৩৬ জনের মধ্যে সাধারণ পুরুষ ৮১ জন, সাধারণ নারী ২৭ জন, পুরুষ মুক্তি ১৫ জন, নারী মুক্তি পাঁচজন, পুলিশ পোষ্য পুরুষ পাঁচজন, পুলিশ পোষ্য নারী একজন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পুরুষ দুইজন।

এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র ও দিনমজুরের সন্তান। তাদের একজন রুনা। জানতে চাইলে রুনা বলেন, আমার বাবা ভ্যানচালক। তিনি ভ্যান চালিয়ে এবং মাঝেমধ্যে স্থানীয় বাজারে কলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আমার মা অভিরন বেগম আগে অন্যের বাসায় কাজ করতেন। বর্তমানে কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় কাজ করতে পারেন না।

রুনা বলেন, ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরি হবে তা জীবনে কল্পনাও করতে পারিনি। ভ্যানচালকের মেয়ে বলে টাকার অভাবে লেখাপড়া করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

কথা বলতে বলতে চোখে পানি চলে আসে রুনার। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, চাকরিটা আমার খুব দরকার ছিল। চাকরি পেয়ে আমি অনেক খুশি। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় এবং বাবা-মা অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের দেখাশোনা ও ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে চাই আমি। সৎভাবে চাকরি করে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চাই। কথা দিলাম ঘুষ খাব না, অসৎপথে যাব না। ১০০ টাকায় চাকরি পাওয়ায় পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই আমি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে এক মাস আগ থেকে প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার টাঙানোর ব্যবস্থা করা হয়। এবার আর্থিক লেনদেনসহ সব অনিয়ম ও সুপারিশ পরিহার করে সুষ্ঠুভাবে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়টি সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরে খুব ভালো লাগছে আমার

মির্জাপুরে ছাত্রীদের পর্ণ ভিডিও দেখালো শিক্ষক, পুলিশে সোপর্দ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছাত্রীদের পর্ণ ভিডিও দেখানোর অভিযোগে এক শিক্ষককে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। 

সোমবার সন্ধায় উপজেলা সদরের কলেজ রোডে এই ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষকের নাম পারভেজ হাসান। বাড়ি উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের চামুটিয়া গ্রামে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, আটককৃত পারভেজ উপজেলা সদরের ইউনিয়ন পাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্কুল ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান। 

প্রায় ১০ দিন আগে তার কাছে পড়তে আসা দুই ছাত্রীকে পর্ণ ভিডিও দেখান। বিষয়টি ওই ছাত্রীরা তাদের অভিভাবকদের জানায়। 

এরপর সোমবার সন্ধার দিকে ছাত্রীর অভিভাবকেরা তাকে কলেজ রোডে দেখে ছাত্রীদের পর্ণ ভিডিও দেখানোর কারণ জানতে চান। কিন্তু তিনি সদুত্তর না দিতে পারায় ক্ষিপ্ত হন স্থানীয়রা। পরে তাকে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

মির্জাপুর থানার উপপরির্শক (এস আই) মুরাদ জানান, পারভেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন। 

দেশে বেকার ২৬ লাখ ৭৭ হাজার

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন (২০১৬-১৭) অনুযায়ী দেশে শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিতের (যাদের বয়স ১৫ বছর ও তদুর্ধ) সংখ্যা ২৩ লাখ ৭৭ হাজার এবং অশিক্ষিত বেকার ৩ লাখ।

সোমবার সংসদে ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীর (পিরোজপুর-৩) এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।


মন্ত্রীর দেয়া তথ্যে দেখা যায়, শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ লাখ অশিক্ষিত বেকারের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার পুরুষ এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার নারী। শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষিত চার লাখ ২৮ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ দুই লাখ দুই হাজার এবং নারী দুই লাখ ২৬ হাজার, মাধ্যমিক শিক্ষিত ৮ লাখ ৯৭ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ চার লাখ ২২ হাজার এবং নারী চার লাখ ৭৪ হাজার। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষিত বেকার ছয় লাখ ৩৮ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ তিন লাখ ৫৩ হাজার এবং নারী দুই লাখ ৮৫ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বেকার ৪ লাখ পাঁচ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৩৪ হাজার এবং নারী এক লাখ ৭১ হাজার এবং অন্যান্য পুরুষ নয় জন।

১২ বছরে ২ কোটি লোকের নতুন কর্মসংস্থান : 
সংরক্ষিত নারী এমপি বেগম হাবিবা রহমান খানের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০৫-০৬ সালে দেশে কর্মে নিযুক্ত জনসংখ্যা ছিল চার কোটি ৭৪ লাখ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি আট লাখ। এ সময়ে দেশে প্রায় দুই কোটি লোকের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৫ বছরের ঊর্ধ্ব কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫৮ দশমিক দুই শতাংশ। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্য বেশির ভাগ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। যার পরিমাণ ৪০দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত লেবার ফোর্স সার্ভে, ২০১৬-১৭ এর হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বেকারের হার মোট শ্রমশক্তির চার দশমিক দুই শতাংশ।

ঘাটাইলে এসডিজি বাস্তবায়নে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যেতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুলাই) ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ হল রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন মো. শহীদুল ইসলাম।

উক্ত কর্মশালায় স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষন কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সেলিম আহমেদ।

বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেএলার চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু, সহকারী কমিশনার ভূমি মোসা. নুরনাহার বেগম, পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান প্রমুখ।

কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, জন প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সমাজকর্মী, সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের, এবার হলেন আ’ লীগের উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লিগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হলেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী। রোববার রাতে এক স্বাক্ষরিত বিবৃতি মারফৎ এই খবর জানিয়েছেন দলের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

ইনাম আহমেদ চৌধুরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তবে ওই সময়ে দলীয় কোনো পদে রাখা হয়েছিল না তাকে।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিগত ২২ ও ২৩ অক্টোবর, ২০১৬ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেছেন।

অতীতে ইনাম আহমেদ চৌধুরী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে বহাল ছিলেন। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে তিনি বিএনপি মনোনয়ন পাবেন ভেবে প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীক পান খন্দকার আবদুল মুকতাদির।

বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে গণভবনে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লিগে যোগ দেন চৌধুরী। ওর আগে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বইও লিখেছেন।

অবশেষে সাবেক এমপি রানার জামিন বহাল,মুক্তিতে আর বাধা নেই

টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানাকে যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায়  হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। ফলে এখন তার মুক্তিতে বাধা থাকলো না। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে সোমবার (০৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশিরউল্লাহ। অপর দিকে রানার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও রুশো মোস্তফা।

১৯ জুন রানার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানি শেষে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

হাইকোর্টের জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারাপতি মো. নূরুজ্জামান ১ জুলাই পর্যন্ত তার জামিন স্থগিত করেন। ওইদিন আরও এক সপ্তাহ স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৎকালীন এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২/১২০/৩৪ ধারায় এমপি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত।

বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় গত ১ এপ্রিল আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রেখেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৬ জুলাই নিখোঁজ হন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন। পরদিন ১৭ জুলাই শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে।

এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরণ মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন এমপি আমানুর রহমান খান রানার দিক-নির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।