রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯

মধুপুরে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে আনারস

টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস অধিক লাভের আশায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আনারস পরিপক্ক না হলেও কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে খুব সহজেই তা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। দেখতে ঠিক পাকার মতো মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে আনারসগুলো আরও তিন থেকে চার মাস পর পরিপক্ব হবে। এসব আনারস কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর ফলে আনারসের আসল স্বাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এগুলো খেলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জানা যায়, জেলার মধুপুর ও ঘাটাইলের আশপাশের বাজারগুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এসব বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত আনারস।
সরেজমিনে মধুপুরের মোটের বাজার এলাকার আনারস চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব কাঁচা আনারস পাকানোর জন্যে প্রতি ১৬ লিটার পানিতে ৪টা রাইপেন-১৫, লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করে কয়েক দিন খেতের ভিতর রেখে দেওয়া হয়। বিস্বাদ হওয়ার কারণে কেউ এগুলো চুরি পর্যন্ত করে না।


আরো জানা যায়, কেমিক্যাল একবার দেওয়ার পর না পাকলে পুনরায় আবার দেওয়া হয়। দুই দফায় আনারসে কেমিক্যাল দেওয়ার ফলে অপরিপক্ক আনারসও হলুদ রং ধারণ করে। চাষি ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আনারস পাকানোর জন্য রাইপেন-১৫-এর পাশাপাশি হারবেস্ট, প্রমোট, সারাগোল্ড, ইটিপ্যাস, এলপেনসহ লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আউশনারা এলাকার এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী বলেন, আমরাও জানি কেমিক্যাল ব্যবহার করা ঠিক না। কিন্তু চাষিদের চাহিদা বেশি থাকায় আমাদের বিক্রি করতেই হয়। আমরা বিক্রি না করলে কি হবে কেউ না কেউ বিক্রি করেই। একই এলাকার আনারস চাষি সাহাদত হোসেন বলেন, মেডিসিন ছাড়া আনারস বাজারে তোলার পর তা বিক্রি হয় না।

আমরা চাষিরা ব্যবহার না করেই বা কি করব? আমরা তো অসহায়! কেমিক্যাল ছাড়া আনারস কেনে না কেউ, কেমিক্যাল ছাড়া আনারস দেখতে ভালো লাগে না, একটু চাপ লাগলেই গলে যায়। আর মেডিসিন দেওয়া আনারস দেখতে হলুদ-পাকার মতো, বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তাই আমরা ওটাই কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাই।

এলাকাবাসীর দাবি, যে হারে কাঁচা আনারস ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে মধুপুরের আনারসের যে সুনাম তা খুব অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে। তাই এখনই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

বিশ্বের যে পাঁচটি মসজিদ দেখলে চোখ জুড়োয়ে যায়

পৃথিবীতে ইসলামিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন মুসলমানদের ইবাদতের পবিত্র জায়গা মসজিদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই রয়েছে নয়নাভিরাম অনেক মসজিদ। সেগুলো থেকে ৫টি মসজিদের সংখিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো-

বাদশাহি মসজিদ, পাকিস্তান

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৬৭১-১৬৭৩ সালের মধ্যে পাকিস্তানের লাহোরে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ওই সময় এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। সামনের সুবিশাল চত্বরসহ মসজিদের আয়তন প্রায় দুই লাখ ৭৬ হাজার স্কয়ার ফুট। ১৯৬ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন আটটি মিনার ও তিনটি গম্বুজ মসজিদটিকে বেশ দৃষ্টিনন্দন করেছে। লাল মার্বেল পাথরে তৈরি মসজিদটি এতটাই সুদর্শন যে, ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে তা সহজেই স্থান করে নিয়েছে।


মসজিদের রাজকীয় সিঁড়ির ২২টি ধাপ পেরিয়ে মূল ফটকে পৌঁছতে হয়। আর মূল ফটকে ক্যালিগ্রাফিতে মসজিদের নাম লেখা রয়েছে, ‘মসজিদ আবুল জাফর মহিউদ্দিন মুহাম্মাদ আলমগীর বাদশাহ গাজী।’ ভেতর আর আঙিনা মিলে এই মসজিদের ধারণক্ষমতা এক লাখ মুসল্লি।

ফয়সাল মসজিদ, পাকিস্তান

ফয়সাল মসজিদ পাকিস্তানের বৃহত্তম মসজিদ। রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত এ মসজিদ ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শিল্প-নকশা করেন তুর্কি স্থপতি ভেদাত ডালোকে। দেখতে মসজিদটি অনেকটা মরুভূমির বেদুঈনদের তাঁবুর মতো। বিশ্বে ইসলামাবাদের প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

মসজিদটি নির্মাণে সমর্থন এবং আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করেন সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ। তাই এই মসজিদটি বাদশাহ ফয়সালের নামে নামকরণ করা হয়। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এটি পৃথিবীর (মক্কা-মদিনার পর) বৃহত্তম মসজিদ ছিল। পরবর্তীতে মরক্কোর হাসান-২ মসজিদ নির্মাণ হলে ফয়সাল মসজিদ দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে।

জহির মসজিদ, মালয়েশিয়া  

জহির মসজিদ মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে অবস্থিত। এটি মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। সুলতান তাজউদ্দিন মুকারাম শাহর ছেলে টুংকু মাহমুদের অর্থায়নে ১৯১২ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। মূলত ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার আজিজি মসজিদের আদলে ও স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে এটি নির্মাণ করা হয়। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের কথা মাথায় রেখেই মসজিদটিতে পাঁচটি গম্ভুজ নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদের প্রাঙ্গণে প্রতি বছর বার্ষিক কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

তাজুল মসজিদ, ভারত

তাজুল মসজিদ ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ এবং বিশ্বের অন্যতম বড় মসজিদ। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের শাসনামলে নবাব শাহজাহান বেগম কর্তৃক নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে আল্লামা মুহাম্মাদ ইমরান খান নদভী আজহারি এবং মাওলানা সাইয়্যেদ হাসমত আলী সাহেব ১৯৮৫ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। মসজিদের তিনটি গম্বুজ ও দু্ইটি সুউচ্চ মিনার এবং সামনে বিশাল চত্বর রয়েছে।

মসজিদের ভেতর-বাইরে এক লাখ ৭৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। ৪৩ লাখ স্কয়ার ফুটের এই মসজিদটির চত্বরের মাঝখানে রয়েছে বিশাল পানির হাউস।

সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ, ব্রুনেই

১৯৫৮ সালে ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এটি ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে অবস্থিত। মসজিদের প্রধান গম্বুজের বাইরের অংশ সম্পূর্ণ খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত এ মসজিদের ভেতরের অংশে একসঙ্গে তিন হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি নির্মাণে অত্যন্ত মূল্যবান গ্রানাইট, মার্বেল ও ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হয়।

শনিবার, জুন ১৫, ২০১৯

সুস্বাগতম হে বর্ষা!

‘আবার এসেছে আষাঢ়, আকাশ ছেয়ে, আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।’ আজ পহেলা আষাঢ়। বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন। আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে রাজধানী ভিজছে স্বস্তির বৃষ্টিতে। দীর্ঘ কয়েকদিনের তাপতাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বর্ষার প্রতীক্ষায় ছিলো রাজধানীবাসী। তাদের মন রাঙাতেই যেন বর্ষা হাজির তারা বৃষ্টির ঝাঁপি নিয়ে।


বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে রাজধানী ঢাকার ধুলোমলিন বৃক্ষরাজি সেজেছে ঘন সবুজে শাড়িতে। কদিন পরেই হলুদ সাদা ফুলে ভরে যাবে শহরের কদম গাছগুলো। তখন হয়তো কোনো কবির সুরে গুনগুনিয়ে প্রেমিকা গেয়ে উঠবে, ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান/ মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে/এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।’

ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশে বর্ষাকালের মেয়াদ আষাঢ়-শ্রাবণ। তবে জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ থেকেই শুরু হয় বৃষ্টির মুখরতা, চলে ভাদ্র মাসের শেষ পর্যন্ত। তখন গাছপালা সুশোভিত হয়ে উঠে ফুলে ফুলে। শুধু বাগান নয়, রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়েও ফুটে থাকা কত না দৃষ্টিনন্দন অজানা ফুল। তই বর্ষা মানেই বাহারি রঙের সুগন্ধি ফুলের সমাহার। বর্ষা যেন আমাদের প্রকৃতিকে আপন মনে বিলিয়ে দেয় এবং এর ফুলের সৌন্দর্য আমাদের করে তোলে বিমোহিত। বর্ষার যে ফুলগুলো আমাদের আকৃষ্ট করে তা হলো: কদম, বেলি, টগর, হাস্নাহেনা, বকুল, শাপলা, পদ্ম, দোলনচাঁপা, কেয়া, কামিনী, রঙ্গন, দোপাটি, কলাবতী, সন্ধ্যামালতি,সোনাপাতি (চন্দ্রপ্রভা), বনতুলসী, কলমিসহ আরো নাম না জানা কত ফুল। বর্ষা ঋতু যেন ফুলের জননী।

আর এভাবেই গ্রীস্মের প্রচণ্ড তাপদাহে মলিন হয়ে যাওয়া প্রকৃতিকে যৌবনাবতী করে তুলে বর্ষা ঋতু। হয়তোবা একারণেই বাংলার কবি সাহিত্যিকদের কাছে বর্ষা এত প্রিয়। বর্ষা তাদের কাছে প্রেমের ঋতু, ভালোবাসার ঋতু। মনের মাধুরী দিয়ে কবিতা লেখারও সময়। এই ঋতু নিয়ে আমাদের কবিরা কত যে কবিতা লিখেছেন এবং এখনও লিখে চলেছেন।

এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতাকে ধুয়ে গাঢ় সবুজের সমারোহে সেজেছে প্রকৃতি। বৃষ্টি এলেই তাই নাগরিক মনে সাড়া পড়ে যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বর্ষার গান-ছবি। আর প্রেমিক মন গেয়ে ওঠে ,‘এমন দিনে তারে বলা যায়/ এমন ঘনঘোর বরষায়’।

বর্ষা যেমন আনন্দের, তেমনি কষ্টেরও। বৃষ্টি হলে গ্রামের নদী নালা পুকুরে জল জমে থৈ থৈ করে। নদীর তীর উপচে কখনও বা ধেয়ে আসে বন্যা। তখন গ্রামের সাধারণ লোকজনের কষ্টের শেষ থাকে না। তারপরও গ্রীস্মের তাপদাহ এড়িয়ে বর্ষায় বারিধারায় শান্তি খুঁজে পায় বাঙলার মানুষ। সবুজের সমারোহে, মাটিতে নতুন পলীর আস্তরণে আনে জীবনেরই বারতা। সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা বাংলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। সারা বছরের খাদ্য-শস্য-বীজের উন্মেষতো ঘটবে বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকে। তাই বর্ষা বাঙালির প্রাণের ঋতু। সুস্বাগতম হে বর্ষা!

গোপালপুরে মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পুরাতন মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৫ জুন) সকাল ৮টার পরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত আসছে…

শুক্রবার, জুন ১৪, ২০১৯

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করায় স্বামীকে মেরে ফেললেন ২য় স্ত্রী

ময়মনসিংহে যুবলীগ কর্মী শফিকুল ইসলাম সপু হত্যা মামলার প্রধান আসামি দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শেখ ইতি।

শুক্রবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবা আক্তার এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই মনিরুজ্জামান জানায়, শফিকুল পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে এবং প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার শর্তে এক বছর আগে ইতিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতেই বসবাস করতো শফিকুল। মাঝে মধ্যে লুকিয়ে প্রথম স্ত্রী মাহমুদার সঙ্গে দেখা করতেন তিনি। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি। গত ১০ জুন সকালে শফিকুলকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে সেখানে দুজনকে এক সঙ্গে দেখতে পায় ইতি। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার পর নিজ বাড়িতে চলে আসেন তিনি।

ওইদিন দুপুরে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আসে শফিকুল। বিকেলে পার্শ্ববর্তী হাবুন বেপারীর মোড়ে বিশ্বকাপ খেলা দেখে রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘুমের মধ্যেই দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি তার গলায় উড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ভোর হওয়ার আগেই মরদেহটি বিছানার চাদরে করে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ডোবায় কচুরিপানার নিচে পুতে রাখে।

পরদিন ১১ জুন ইতি তার স্বামী শফিকুল ইসলাম শপু নিখোঁজ হওয়ার কথা উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে বলা হয় যে, ১০ জুন রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে শফিকুল আর বাসায় ফিরে আসেনি।

নিখোঁজের তিনদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ইতির বাসা সংলগ্ন সেই ডোবায় শফিকুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে আফরোজা শেখ ইতিকে প্রধান, অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। রাতেই পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে মামলাটি হস্তান্তর করে এবং ওই রাতেই ইতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাজেটে ১০ সুসংবাদ

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)। প্রস্তাবিত বাজেটের ১০টি সুসংবাদ তুলে ধরা হলো:

১. শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার ঘোষণা। এক্ষেত্রে জাপানের সম্রাট মেইজির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হতে পারে।

২. শ্রমিক শ্রেণির জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৩. আগামী ১১ বছরের (২০৩০ সাল) মধ্যে দেশে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটানোর চেষ্টা।

৪. যুবক উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ১০০ টাকা বরাদ্দ রাখা।

৫. সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং পরিবহন খাতের উন্নয়নে ১ লাখ দক্ষ পেশাদার গাড়িচালক তৈরির বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেয়া।

৬. যেসব এলাকা নদীভাঙন কবলিত ওইসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৭. নারীদের অগ্রযাত্রা তরান্বিত করতে নারী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা করা।

৮. যেকোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার দেয়া। প্রতিবন্ধীদের এই সুবিধা দিলে সেই প্রতিষ্ঠানকে করের ৫ শতাংশ রেয়াত দেয়া।

৯. নারী উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনার জন্য শোরুম করলে শোরুম নির্মাণের ওপর মূসক অব্যাহতি প্রদান।

১০. বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনসাধারণের প্রতিরক্ষার জন্য লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা।

সেই মসজিদের তালা খুলে দিয়েছে ঘাটাইলের প্রশাসন

কখনও শুধু ইমাম আবার কখনও দুই-তিনজন মুসল্লির নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে চলছে মসজিদের প্রতিদিনের কার্যক্রম। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চরবকশিয়া গ্রামে মসজিদের মালিকানা দাবি করে তালা দেওয়ায় এ অবস্থা চলছে প্রায় দুই মাস ধরে। এ নিয়ে গত সোমবার অনলাইন এবং মঙ্গলবার প্রিন্ট ভার্সনে 'মালিকানা দাবি করে মসজিদে তালা' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে সমকাল। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম উভয়পক্ষকে ডেকে তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তালা খুলে দেওয়ার পরও নামাজে আসছেন না মুসল্লিরা।

বুধবার মাগরিবের নামাজের সময় হলেও আজান দিয়ে শুধু ইমামকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। মূলত ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মসজিদটি নিজের দাবি করতে থাকে দুবাই প্রবাসী বেলাল এবং ভাই আব্দুস সালামের মাধ্যমে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আর সে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে পুরো সমাজে। বেলালরা ছয় ভাই। সবার ছোট বেলাল। ছয় ভাইয়ের পৈতৃক সম্পত্তি ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয় মসজিদ। বড় দুই ভাই আবুল কাশেম ও আব্দুল বাছেদ জানান, আমরা তিন ভাই মসজিদের নামে জমি ওয়াকফ করে দিলেও অন্য তিনজন দেয়নি। মসজিদের জমি ওয়াকফ করার দরকার নেই- এমন ফতোয়া দিয়ে মালিকানা দাবি করা বেলাল অন্য ভাইদের মগজ ধোলাই করেন। কুয়েত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত মসজিদের নকশাও পরিবর্তন করেন তিনি। তার মন মতো নকশা করেন। দুই মাস আগেও মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১৫-২০ এবং জুমার নামাজে ৫০-৬০ জন লোক নামাজ আদায় করতেন।

উৎস : সমকাল।

১০০ টাকার কথা বললে ২৭ টাকা ট্যাক্স!

কথায় বাড়লো কর। মোবাইল ফোনে কথা বললে আগের চেয়ে বেশি হারে কর দিতে হবে সরকার। নতুন করে আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করায় বাড়ছে কলরেট। এখন থেকে প্রতি ১০০ টাকার কথা বললে স্বয়ক্রিয়ভাবে ২৭ টাকা চলে যাবে সরকারের পকেটে।

বর্তমানে মোবাইল ফোনে কথার বলার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা আছে। যাতে করে গ্রাহককে মোবাইলে কথা বলতে হলে সরাসরি ২২ শতাংশ কর দিতে হয়। আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হওয়ায় তা হবে ২৭ শতাংশর কিছু বেশি। অর্থাৎ প্রতি একশো টাকা কলরেটে বসলো ২৭ টাকা ট্যাক্স।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট।

নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বেশি। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

মির্জাপুরে ইজতেমা বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মাওলানা সা’দ পন্থীদের উদ্যোগে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের অনুমতি না নেয়ার অভিযোগে এ ইজতেমা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর থেকে মির্জাপুর পৌরসভার কুতুব বাজার সংলগ্ন মাঠে দিল্লী নিজাম উদ্দিন বিশ্ব মারকাসের অনুসারী মাওলানা সা’দ অনুসারীরা তিন দিনব্যাপী ইজতেমার আয়োজন করেন।


রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন ইজতেমা মাঠে খুঁটি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৮-১০টি টিউবওয়েল, অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট স্থাপন ও মাইক লাগানোসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।



বুধবার থেকে এ ইজতেমায় দেশ-বিদেশের তাবলিগ জামাতের সদস্যরা আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়া কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন ইজতেমা মাঠে অবস্থান নেয়।

এছাড়া ইজতেমার জন্য নির্মিত প্যান্ডেলের বাঁশ, খুঁটি ও তাঁবু সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় সেখানে টাঙ্গাইলের অতিরক্তি পুলিশ সুপার আহাদুজ্জামান মিয়া, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, জেলা প্রশাসন অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাঈনুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার মির্জাপুর সার্কেল দীপঙ্কর ঘোষ ও মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, ইজতেমা মাঠে অবস্থান নেয়া তাবলিগ জামাতের সদস্যদের সরিয়ে দিলে তারা পাশের কাণ্ঠালিয়া ঈদগাহ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান নেন।

এর আগে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগের সাথীর ব্যানারে অপর একটি পক্ষ গত কয়েকদিন ধরে এ ইজতেমা বন্ধের জন্য সভা-সমাবেশ করা ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন।



সুনামগঞ্জ থেকে ইজতেমায় অংশ নিতে আসা ময়না মিয়া জানান, তারা ২২ জন সাথী এক চিল্লায় বের হয়েছেন। বুধবার মির্জাপুর ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের লোকজন তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তাবলিগ জামাতের সদস্য আব্দুর রহমান শামীম ও মো. রাসেলসহ কয়েকজন জনান, মির্জাপুরের এমপি মো. একাব্বর হোসেন রোববার ইজতেমা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইসলামের দাওয়াতের কাজে আয়োজিত ইজতেমায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহায়তা করা হয়। কিন্তু মির্জাপুরে ইজতেমা করতে সহযোগিতা না দেয়ার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন, আয়োজকরা অনুমতি না নিয়ে ইজতেমার আয়োজন করেছেন। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯

টাঙ্গাইলে খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৭ নং দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যাকারী খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন- নিহত ফারুক আহমেদের ভাই ও বর্তমান দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাভু, ইউপি সদস্য শাহজাহান সাজু, মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে দাইন্যা চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাভু বলেন, সাড়ে ৫ বছর আগে ফারুক আহমেদকে টাঙ্গাইল শহরের বটতলা কাঁচা বাজারের দিবালোকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। তারপর থেকে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, স্বারকলিপি দেয়া হয়েছে।

তারপরও প্রধান আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাই দ্রুত সময়ে খুনীদের গ্রেফতার করে বিলম্বে ফাঁসি দাবি করছি।