রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেয় শাহাদাত

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেয় শাহাদাত হোসেন শামীম। ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিচ্ছেন মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামি। এই দুই আসামি হলেন নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন। শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

এ সময় পিবিআই এবং পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বনজ কুমার মজুমদার জানান, গত ৪ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার সঙ্গে কারাগারে দেখা করে কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ কয়েকজন। এ সময় রাফিকে হত্যার নির্দেশ দেয় সিরাজ। রাফিকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেয় শামীম। কীভাবে পোড়ানো হবে সে বিষয়ে নূরউদ্দিন ও শামীমের নেতৃত্বে তার বিশদ পরিকল্পনা করা হয়।



পিবিআই প্রধান জানান, গত ২৭ মার্চ নূরসাতকে শ্লীলতাহনির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ কারাগারে যান। তাকে বাঁচানোর জন্য মাকসুদ আলম, নূর উদ্দিন এবং শামীমসহ অনেকে নানা প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দেয়ার পর ৪ এপ্রিল নূর উদ্দিন, শামীম, জাবেদ এবং কাদেরসহ কয়েকজন কারাগারে গিয়ে সিরাজ উদ্দৌলার সঙ্গে দেখা করেন। পরদিন ৫ এপ্রিল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায় মাদ্রাসার পশ্চিম হোস্টেলে বসে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।

তিনি বলেন, সেখানেই রাফিকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকে যারা ছিলেন তারা বিষয়টি আরও ৫ জনের কাছে শেয়ার করে। এদের মধ্যে দুইজন মাদ্রাসাছাত্রী। এদের মধ্যে এক ছাত্রীর দায়িত্ব পড়ে ৩টি বোরকা আনা এবং কেরোসিন সরবরাহ করা। এরআগে শুক্রবার রাতে নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে আটক করে পিবিআই। সে মাদ্রসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার তৃতীয় আসামি।

ঘাটাইলে নানা আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: রোববার পহেলা বৈশাখ বাংলা বর্ষপঞ্জী বঙ্গাব্দতে যুক্ত হয়েছে নতুন বছর ১৪২৬ সাল। ঢাকা সহ সারা বাংলাদেশ জুড়ে বর্ষবরণের ছিল নানা আয়োজন। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উপলক্ষে আজ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রোববার সকালে উপজেলা পরিষদের সামন থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ব্যানার, ফেস্টুন-কার্টুন ও বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।

শোভাযাত্রটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত পানতা উৎসবে যোগ দেয় অতিথীরা।

এ সময় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত বর্ষবরণের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আতাউর রহমান খান, নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম, ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান ,অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, ডেপুটি কমন্ডার এনএম শাহনেওয়াজ, নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা শিল্পী, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আমন্ত্রিত অতিথীরা।

সবার জীবন শুভ হোক, সমৃদ্ধ হোক: শেখ হাসিনা

দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে যে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে তিনি দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।


রোববার গণভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শেখ হাসিনা বলেন, সবার জীবন শুভ হোক, সুন্দর হোক, সমৃদ্ধ হোক। নববর্ষে এই কামনা করি।

তিনি বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ে তোলা। যে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, তা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে গড়ে উঠবে সুখী-সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ।

আর এজন্য সবাইকে যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়া ভুলে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।

এছাড়া ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে সুযোগ দেয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সামরিক-বেসামরিক আমলা, বিচারপতি, কূটনীতিক, দলীয় নেতাকর্মীসহ বিপুল পরিমাণ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

ঘাটাইলে গণপিটুনিতে গরু চোর নিহত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গণপিটুনীতে এক গরু চোর নিহত হয়েছে। আজ রোববার (১৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার দেউলাবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গরু চোরের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাকসুদুল আলম জানান, আজ রোববার ভোর তিনটার দিকে গরু চোরের দল উপজেলার দেউলাবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয়। গোয়াল ঘর থেকে গরু চোররা গরু নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন ডাক চিৎকার দেয়। এসময় গ্রামবাসী এগিয়ে এসে চোরের দলকে ধাওয়া দেয়। তারা এক গরু চোরকে আটক করে গণপিটুনী দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ধাওয়া খেয়ে চোরের দলের অপর সদস্যরা দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সকালে নিহত গরু চোরের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।

সরকারি সেতুতে লোহার গেট

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলীয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কাশীপুর হিন্দুপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন মৃত জগদীশ বিশ্বাস। তার বাড়ির পশ্চিম পাশে রয়েছে খাল। খালের ওপার শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। ওই গ্রামবাসীর কথা চিন্তা করে সরকারি অর্থ খরচ করে খালের ওপর একটি সেতু তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেই সেতুটি মৃত জগদীশ বিশ্বাসের চার ছেলে ব্যবহার করছেন। তারা সেতুটিতে গত ফেব্রুয়ারিতে লোহার গেট করেছেন। যা বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে।

এলাকাবাসী ও সেতুটির নেম প্লেট থেকে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭৫ টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার চিতলীয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কাশীপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ির সামনে একটি সেতু তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট। প্রকল্পটির নাম রাখা হয় ‘কাশীপুর ডাক্তার জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ির নিকট খালের ওপর সেতু নির্মাণ’। শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কাশীপুর হিন্দুপাড়া গ্রামে বেশিরভাগই হিন্দু ধর্মের পরিবার বসবাস করে। গ্রামটিতে সরকারি অর্থে অন্তত পাঁচটি সেতু তৈরি করা হয়েছে। গ্রামটিতে পল্লী চিকিৎসক মৃত জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ি। গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য জগদীশের বাড়ির প্রবেশ দ্বারে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। এটির পাশে কোনো রাস্তা নেই। সেতুটির শেষ ভাগে অর্থাৎ জগদীশের বাড়িতে ঢোকার প্রান্তে একটি লোহার গেট রয়েছে। গেটটি সেতুর রেলিংয়ের সঙ্গে জোড়া লাগানো। যাতে করে জগদীশের ওই বাড়িতে বহিরাগত এবং গবাদি পশু ঢুকতে না পারে। জগদীশের চার ছেলের পরিবার ব্যতীত অন্য কেউ যেন সেতুটি ব্যবহার করতে না পারে। তার জন্য সেতুটির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে লোহার গেট। তাছাড়া লোহার গেট ঘেঁষে সেতুর ওপর রয়েছে সরকারি অর্থে দেয়া সৌর বিদ্যুতের স্ট্রিট লাইট। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা।

কোনো বহিরাগত এবং গবাদি পশু যাতে বাড়িতে ঢুকতে না পারে, তাই গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ির সেতু দিয়ে অন্য কোনো বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ নেই। একক ব্যবহারের জন্যই মনে হয় নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। অবশ্য সেতুটির ৬০০ গজের মধ্যে আরও দুটি সেতু রয়েছে। যা দিয়ে এলাকার জনসাধারণ যাতায়াত করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগদীশ বিশ্বাসের ছেলে দুলাল বিশ্বাস শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের এপিএসর দায়িত্ব পালন করছেন।

জগদীশ বিশ্বাসের নাতি জয় বিশ্বাস জানান, আমার দাদা জগদীশ বিশ্বাস সাবেক সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হকের পারিবারিক ডাক্তার ছিলেন এবং এমপির বাড়িতে পড়াতেন। এমপি আমার দাদাকে অনেক ভালোবাসতেন। তাই এমপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, গ্রামবাসীর জন্য জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ির সামনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। চুরি ডাকাতি ঠেকাতে এবং গরু-ছাগল যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য লোহার গেটটি দিয়েছে জগদীশের ছেলেরা।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, সরকারি সেতুর উপর লোহার গেটের কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জগদীশ বিশ্বাসের ছেলেদের গেটটি সরিয়ে দিতে বলেছি। তিনদিনের মধ্যে গেটটি সরিয়ে না নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‍‍`মুছে যাক গ্লানি, ঘুঁচে যাক জরা‍‍`

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুঁচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’- সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে শুচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ।

শনিবার বছরের শেষ দিনের রক্তিম সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হারিয়ে গেছে বাংলা বছর ১৪২৫। রোববার ভোরের সূর্য স্বাগত জানালো বাংলা নববর্ষ ১৪২৬'কে। নতুন বছরের প্রথম দিনটি চিরায়ত আনন্দ-উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে হাজির হবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে।

বছরের এ প্রথম দিনে গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালি মিলিত হবে তার সর্বজনীন এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। দেশের পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা। ঢাকায় রমনার বটমূল থেকে উৎসবের শুরু হয়ে শাহবাগে মঙ্গল শোভাযাত্রা, পাড়ায়-মহল্লায়, বাসা-বাড়িতে, পার্কে-রাস্তায় সবখানে শোনা যাবে একই সুর; সবার গলায় একই আহবান- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’

১৪২৬ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে রোববার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা একসঙ্গে গলা মিলিয়ে গেয়ে উঠেন ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো।’

১৪২৬ বঙ্গাব্দ। রোববার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রাগ ললিতের মধ্য দিয়ে সূর্যকে আহ্বান করা হয়। অসীম কুমারের পরিবেশনায় এই রাগ ললিত চলে প্রায় ১৩ মিনিট।

রাগ ললিতের পর সম্মিলিতভাবে গাওয়া হয় ‘মোরে ডাকি লয়ে যাও মুক্তদ্বারে তোমার বিশ্বের সভাতে/ আজি এ মঙ্গলপ্রভাতে…’ গানটি। এরপর ‘আপনারে দিয়ে রচিলি রে কি এ আপনারই আবরণ!/খুলে দেখ দ্বার, অন্তরে তার আনন্দনিকেত…’সহ দুটি পরপর একক সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর আবার সম্মিলিত সংগীত। এভাবে চলতে থাকে ছায়ানটের অনুষ্ঠান। আবৃত্তি করা হয় কবিতা।

নববর্ষকে বরণ করতে ১৯৭৪ সাল থেকে ছায়ানটে এই আয়োজন চলছে। প্রতি বছরের মতো একটি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’।

কবিতা আবৃত্তি, একক সংগীত, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ছায়ানটের এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান দেখতে সকাল থেকে ভিড় করতে থাকেন দর্শনার্থীরা।

বাংলা নববর্ষে গুগলের শুভেচ্ছা ডুডল

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ শুভেচ্ছা ডুডল প্রকাশ করেছে। গুগলের হোমপেজে এ বিশেষ ডুডল প্রদর্শিত হচ্ছে।

এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। সবুজ জমিনের ওপর রঙিন শোভাযাত্রাটি রাজধানীর চারুকলা থেকে বের হওয়ার আদলে ডুডলে শোভা পেয়েছে। দেখা যাচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতির শোভাযাত্রা। সেইসঙ্গে শোভা পাচ্ছে কাগজের তৈরি ঘোড়া, যা আবহমান বাঙলা সংস্কৃতির অংশ।

প্রসঙ্গত, বিশেষ কোনো দিন বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির জন্য সার্চ বক্সের ওপরে নিজেদের লোগো বদলে বিশেষ দিনটির সঙ্গে মানানসই নকশার যে লোগো তৈরি করা হয় তাকে ডুডল বলা হয়। গুগল বিভিন্ন উৎসব ও দিবসে ডুডল বিশেষ ডুডল প্রকাশ করে থাকে।

শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ - নব আনন্দে জাগো

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলা নববর্ষকে কবিতার পঙ্ক্তিতে আবাহন করেছিলেন। লিখেছিলেন- ‘ওই যে পূর্ব তোরণ-আগে/দীপ্ত নীলে, শুভ্র রাগে/প্রভাত রবি উঠল জেগে/দিব্য পরশ পেয়ে,/নাই গগনে মেঘের ছায়া/যেন স্বচ্ছ স্বর্গকায়া/ভুবন ভরা মুক্ত মায়া/মুগ্ধ- হৃদয় চেয়ে।’ আজ বাংলার আকাশে উঠেছে নতুন বছরের নতুন সূর্য।

আজ পহেলা বৈশাখ। বঙ্গাব্দ ১৪২৬-এর প্রথম দিন। আজ স্বপ্ন দেখার দিন, নব আনন্দে জেগে ওঠার দিন, নতুন আলোয় হারিয়ে যাওয়ার দিন। কবি রফিক আজাদ যেভাবে বলেছেন, ‘পহেলা বৈশাখ তুই বুক বেঁধে আশার আঁচলে/নতুন দিনের স্বপ্ন মগ্ন হোস বিদ্যুৎ বিভায়।’ বাংলার ঘরে ঘরে আজ উৎসবের আমেজ। এই উৎসব যে একান্তই বাঙালির। শুধু তা-ই নয়, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। হাজার বছরের ঐতিহ্যের বহমানতায় আজ বাঙালি হারিয়ে যাবে বাঁধাভাঙা উল্লাসে। লাখো মানুষ আজ ঘরের বাইরে ছুটে আসবে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাততে।

আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে যাবে বাংলার মাঠ-ঘাট-প্রান্তর। আজকের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সব জরা-গ্লানিকে মুছে ফেলে সবাই গেয়ে উঠবে নতুন দিনের গান। ১৪২৫-এর আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার হিসাব চুকিয়ে শুরু হবে নতুন এক পথচলা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বজনীন উৎসবে নববর্ষ উদযাপনে একসঙ্গে গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। বাংলার গ্রাম, শহর, বন্দর, পথ, ঘাট- সব জায়গায় আজ দোলা দেবে পহেলা বৈশাখ। নাচে-গানে, ঢাকে-ঢোলে, শোভাযাত্রায় পুরো জাতি বরণ করবে নতুন বছরকে। নগরে থাকবে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার উৎসব। জোয়ান-বুড়ো সবাই মাতবে মুড়ি-মুড়কি, মণ্ডা-মিঠাইয়ের সঙ্গে। খোলা হবে বছরের নূতন হিসাব নিয়ে হালখাতা। চলবে মিষ্টিমুখ।

নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও নেতারা। পহেলা বৈশাখ মানেই পুরাতন, জরাজীর্ণকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া। জাতির জীবনের নানা পর্যায়ের বিগত ক্লান্তি, ক্ষোভ, দুঃখ, হতাশা ভুলে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেবে সবাই।

অসাম্প্রদায়িকতার দীক্ষা নিয়ে সব আস্ফালনের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার সংকল্প ব্যক্ত করবে। পহেলা বৈশাখ পালনের হাজার বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। এটি সারা দেশে ছড়িয়ে গেলেও এ উৎসব মূলত এসেছে গ্রামবাংলার মাটির কোল থেকে। তবে বাঙালি এখন বিশ্ববাঙালি। বিশ্বের যেখানেই থাকুক বাঙালি, আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠবে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নিতে। পহেলো বৈশাখ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। অন্যান্য বছরের মতো এবারও সরকারিভাবে পালন হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও সব উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আলোচনা সভা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপন করছে। সেই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। নববর্ষের প্রথম দিনে সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ও কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে এবং কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদি প্রদর্শন করা হবে। জাতীয় জাদুঘর, লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের ব্যবস্থাপনায় জাদুঘর ও প্রত্নস্থানগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে (শিশু-কিশোর, প্রতিবন্ধী ও ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা টিকিটে)। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে ক্রোড়পত্র ও বিশেষ নিবন্ধ।

বাঙালির বর্ষবরণ মানেই ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। সামাজিক সব অনাচারের বিরুদ্ধে মানুষের মনে শুভবোধ জাগিয়ে তোলার মানস নিয়ে ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে বরণ করবে ছায়ানট। ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’- এ আহ্বান নিয়ে সাজানো হয়েছে রমনার বটমূলের প্রভাতী আয়োজন। যথারীতি ভোর সোয়া ৬টায় বছরের প্রথম সূর্যোদয়কে স্বাগত জানানো হবে রাগালাপ দিয়ে।

প্রত্যুষে থাকছে প্রকৃতির øিগ্ধতা ও সৃষ্টির মাহাত্ম্য নিয়ে ভোরের সুরে বাঁধা গানের গুচ্ছ। পরের ভাগে থাকছে অনাচারকে প্রতিহত করা এবং অশুভকে জয় করার জাগরণী সুরবাণী, গান-পাঠ-আবৃত্তিতে দেশ-মানুষ-মনুষ্যত্বকে ভালোবাসার প্রত্যয়। বর্ষবরণ ১৪২৬ সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার। বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে দেখা যাবে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে (bit.ly/chhayanaut)।

শিক্ষার্থী-প্রাক্তনী-শিক্ষক নিয়ে, ছোটবড় মিলিয়ে এবারের অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান পরিবেশন করবেন শ’খানেক শিল্পী। অনুষ্ঠানে থাকছে ১৩টি একক ও ১৩টি সম্মেলক গান এবং ২টি আবৃত্তি। ছায়ানটের আহ্বান অনুযায়ী রবীন্দ্র রচনা থেকে বেছে নেয়া হয়েছে দুটি আবৃত্তি।

একই ধারায় গানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম, অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, লালন শাহ, মুকুন্দ দাস, অজয় ভট্টাচার্য, শাহ আবদুল করিম, কুটি মনসুর, সলিল চৌধুরী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা থেকে। জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানার আগে ছায়ানট সভাপতি শুভবোধ জাগরণের আহ্বান জানাবেন তার কথনে।

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এর এবারের প্রতিপাদ্য- ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। যার মধ্য দিয়ে অস্থির সময়ে প্রেরণার ডাক দেবেন চারুকলার শিক্ষর্থীরা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রয়েছে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ আয়োজনে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’। ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে শিশুপার্কের পাশে নারকেলবীথি চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান ‘জাগো নব আনন্দে’। অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গীতশিল্পী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনকে।

সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে এ অনুষ্ঠান। গানে গানে নতুন বছরকে বরণের এ আয়োজনে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে কণ্ঠশিল্পী তপন চৌধুরী এবং বাচিকশিল্পী ইশবাল খোরশেদ ও ঝর্ণা সরকারকে।

এছাড়া বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমি, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, বেণুকা ললিতকলা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।

রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁও, র‌্যাডিসন, ওয়েস্টিন, ঢাকা রিজেন্সি, খাজানাসহ হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর উদ্যোগেও উদযাপিত হবে নতুন বছরের উৎসব। পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবে ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবও।

তবে গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তাজনিত কারণে এবারও বিকাল ৫টার মধ্যে বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে পুরো জাতি মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর শোকে শোকাহত।

এদিকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, বর্ষবরণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর উৎসবস্থলগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে র‌্যাব।

তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানকে ঘিরে র‌্যাবের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খানসহ র‌্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পহেলা বৈশাখ ঘিরে কোনো ধরনের হুমকি আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোনো হুমকি নেই। রাজধানীতে র‌্যাবের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের অধিকাংশ কর্মকর্তাই নববর্ষের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

তিনি বলেন, রমনা বটমূলসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ভেন্যুতে ডগ স্কোয়াডসহ বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট সুইপিং করবে। এছাড়া টহল টিম, মোটরসাইকেল পেট্রোল ও অবজারভেশন পোস্ট থাকবে।

বড় ভেন্যুগুলো মনিটরিং করার জন্য আমরা নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করেছি। বড় ভেন্যুতে মোবাইল কোর্টসহ মেডিকেল টিম থাকবে, যাতে দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে নববর্ষ উদযাপন করতে পারে।

শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

ঘাটাইল সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার প্রাণকেন্দ্র্রে অবস্থিত স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘাটাইল সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিকী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) উক্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

স্কুলের স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট ও স্কাউট দলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া স্কুলের সাংস্কৃতিক দল দেশাত্মবোধক ও মনোমুগ্ধকর গান এবং নাটিকা, কৌতুক পরিবেশন করে অনুষ্ঠানস্থলকে মাতিয়ে রাখেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. খলিলুর রহমানের উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৩২ টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান।

অনুষ্ঠান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম শামসুল হক।

অনুুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবক সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এসময় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথীবৃন্দ।

ঐতিহ্যবাহী ঘাটাইল সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনামকে ধরে রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের আহবান জানান অতিথি বৃন্দ। বক্তরা আরো বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষকদের যেমন দায়িত্ববোধ রয়েছে, পাশাপাশি সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য অভিভাবকদের আরো সচেনত হওয়ার আহবান জানান বক্তরা।

টাঙ্গাইলে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ, আটক ৫

 টাঙ্গাইলে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনা পাঁচজনকে আটকও করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে। কালিহাতী উপজেলায় ধর্ষিতার বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি সখিপুর উপজেলায়। বর্তমানে ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ধর্ষিতা ওই নারী জানান, গতরাতে তার স্বামীকে নিয়ে টাঙ্গাইল পৌরশহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসলে কয়েকজন যুবক তাদের ধরে নিয়ে ডিসি লেকে নিয়ে যায়। পরে স্বামীর সামনে তিনজন যুবক ওই নারীকে ধর্ষণ করে।

পরে তার স্বামী ছুটে গিয়ে ডিসি লেকের অদূরে সদর পুলিশ ফাড়ির কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে জানালে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে ।

টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন, রাতে সংবাদ পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন ধর্ষক ও ধর্ষণের কাজে সহযোগিতা করায় আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্তাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ভোর ৫ টায় ওই ভিকটিমকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাওয়ার সম্ভবনা আছে।