শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০১৯

ছেলের বিয়েতে যা করলেন চিত্রনায়ক রুবেল

এক সময়ের ঢাকাই সিনেমার সুপার হিট নায়ক রুবেল শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে প্রাণ খুলে নেচে চলেছেন তিনি। একা নয় তার সঙ্গে নাচছে আরও অনেকে। ভিডিওটির ক্যাপশনে রুবেল লিখেছেন ‘নিলয়ের বিয়েতে মাস্তি’।

নায়ক রুবেল ১৯৮৫ সালের ১০ মার্চ সুলতানা পারভেজ নীলার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ছেলে নীলয় পারভেজ নীলয়। ছেলের বিয়েতে উদ্দাম নাচে মেতেছেন রুবেল। এর আগে ছেলের গায়ে হলুদের ছবিও পোস্ট করেছিলেন রুবেল।

সম্প্রতি ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনের লেডিস ক্লাবে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রুবেলের বড় ভাই চিত্রনায়ক সোহেল রানা, জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী এস আই টুটুলসহ আত্মীয়-স্বজনরা।

নায়ক রুবেল অতিথিদের মনোরঞ্জন করতে কার্পণ্য করেননি একটুও, সবাইকে হাসি মুখে অভ্যর্থনা হতে শুরু করে খাবার তদারকি আবার স্টেজের অনুষ্ঠান পরিচালনাসহ নিজে পারফর্ম করা সব কিছুই ছিল তার আগত অতিথিদের আনন্দ দেওয়ার জন্য।

নুসরাতকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যকারী মামুনের এখন ভিন্ন সুর!

ফেনীর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মামুন বিল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ। আর শিক্ষার্থীর দাবি তার আইডি হ্যাক হয়েছে। অভিযুক্ত মামুন বিল্লাহ সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৭ সালে অনার্স কমপ্লিট করেছে। মাস্টার্স এখনও করেনি বলে জানা গেছে। এর আগে নুসরাতকে নিয়ে করা মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় শুরু হয়। তোপের মুখে এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে রেখেছেন। অনেকেই ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।



জানা যায়, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সেই মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে নিয়ে নিউজ করা হলে সেখানে রাবির ছাত্র মামুন বিল্লাহ একটি অশ্লীল কমেন্ট করেন। মামুনের এমন আপত্তিকর মন্তব্য অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে তার শাস্তির দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। মইনুল ইসলাম নামে এক ছাত্র তার ফেসবুকে লিখেছেন, এমন মানসিকতার একটি ছেলে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে? তাকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

মর্তুজা বশির নামে এক ছাত্র মামুন বিল্লাহকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক উল্লেখ করে লিখেন, আরেকটি অঘটন ঘটার আগেই সম্ভাব্য এই ধর্ষককে শাস্তি দেয়া হোক। ফুয়াদ নাসের লিখেছেন, মেনে নিতে কষ্ট হয়, এই ছেলেটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মামুন বিল্লাহ এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান।

এ বিষয়ে মামুন বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। এ নিয়ে তিনি একটি জিডি করেছেন। তবে কোন থানায় এবং কখন জিডি করেছেন সেই বিষয়েও কিছু জানাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়বার ফোন দিলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।



বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান জানান, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া রাফিকে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এমন মন্তব্য করে থাকে তাহলে ঘৃণিত জঘন্য অপরাধ করেছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনার তদন্তে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মাদরাসা প্রিন্সিপালের যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করায় সোনাগাজীতে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার সাড়ে নয় টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয় রাফির।

ঘাটাইলে নামমাত্র মূল্যে সরকারী দোকান বরাদ্দ

দীর্ঘদিন পাকুটিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সরকারি জায়গায় নামমাত্র মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে দখলে রেখে অবৈধভাবে ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ঘাটাইলের পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুকুর পাড়ের পূর্ব ও দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত দোকানঘর ১৯৯৭-০৩ অর্থবছরের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। ওই আদেশে নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নির্ধারণ করে দোকান হস্তান্তর করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরটি ঘাটাইল গোপালপুর ও মধুপুর থানার অনেকটাই কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এক ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র। এখানে দোকানের চাহিদা অনেক। ফলে এখানে কোনোমতে টিনের একটি দোকানঘরের ভাড়াও ৩-৫ হাজার টাকার কম নয়। অথচ পাকুটিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ২১টি দোকানের প্রতিটিতে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ টাকা থেকে ৩৪২ টাকার মধ্যে। এতে ২১টি দোকানের সবকটি থেকে প্রতি মাসে ভাড়া আদায় হচ্ছে ৩৪৫৯ টাকা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন ওই ২১টি দোকান থেকে বছরে কমপক্ষে ১০-১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নিয়ে যুগ যুগ ধরে দখলে রেখেছেন মহলটি। আর তারা অন্যের কাছে অধিক ভাড়া দিয়ে কালো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

পক্ষান্তরে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব থেকে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান  বলেন, এ বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। এটা সিভিল সার্জন অফিস থেকে করা হয়। সেখান থেকেই টেন্ডার প্রক্রিয়া করে থাকে। বিষয়টি পাকুটিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকেও আমাকে জানানো হয়েছে। আমি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী টেন্ডার ব্যবস্থা কিভাবে করা যায় তার ব্যবস্থা নেব।

তথ্যসূত্র : যুগান্তর।

নুসরাতকে নিয়ে রাবি ছাত্রের বিকৃত মন্তব্যে তোলপাড়!

মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে বিকৃত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মামুন বিল্লাহ। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ঝড় শুরু হয়েছে।

তোপের মুখে ওই ছাত্র তার ফেইসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে রেখেছেন। অনেকেই ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।

জানা গেছে, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সেই মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে নিয়ে নিউজ করা হলে সেখানে রাবি ছাত্র মামুন বিল্লাহ কমেন্ট করেন- ‘মেয়েটা কিন্ত জোস ছিল, মালটা ধর্ষণ করার মতোই ছিল’

রাবি ছাত্রের এমন বিকৃত মন্তব্যে অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক হিসেবে চিহ্নি করে পোস্ট দিচ্ছেন। এমন মানসিকতার জন্য তাকে রীতিমতো তুলোধনা করা হচ্ছে।

মইনুল ইসলাম নামে এক ছাত্র তার ফেইসবুকে লিখেছেন, এমন মানসিকতার একটি ছেলে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে? তাকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

মর্তুজা বশির নামে এক ছাত্র মামুন বিল্লাহকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক উল্লেখ করে লিখেন, আরেকটি অঘটন ঘটার আগেই সম্ভাব্য এই ধর্ষককে শাস্তি দেয়া হোক! ফুয়াদ নাসের লিখেছেন, মেনে নিতে কষ্ট হয় এই ছেলেটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে!

ইফতেখার হোসেন লিখেছেন, লজ্জা লাগছে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এমন নিচু মনমানসিকতা কি করে হয়!

এমন নানা কমেন্টে রাবি ছাত্র মামুনকে তুলোধনা করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

নুর উদ্দিন গ্রেফতার

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দেয়া সন্দেহভাজন মুখোশধারী নুর উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে নুসরাত জাহান রাফির দেহে আগুন দেয়া মুখোশধারীদের মধ্যে নুর উদ্দিন নামে একজন ছিলেন বলে সন্দেহের কথা জানান এলাকাবাসী। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা মুক্তি পরিষদের নেতৃত্ব দেয়া এই যুবক, স্থানীয়দের কাছে কেরোসিন তেলের বোতল ও ম্যাচ বাক্স উদ্ধারের দাবি করেছিলেন।

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, ‘নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করলাম তুই তো আছিলিস ওখানে। নুর উদ্দিন বলছে আমি ছিলাম। কেরাসিন আর ম্যাচ ছাদ থেকে আনছি’।

প্রসঙ্গত, মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন নুসরাতের মা। এ মামলায় গত ২৭ মার্চ গ্রেফতার হয় অধ্যক্ষ সিরাজ। পরদিনই নুর উদ্দিন নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় সিরাজ উদ দৌলা মুক্তি পরিষদ। একই দিন দুপুরে করা হয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। সেখানে নুসরাতের পক্ষে অবস্থান নেয়াদের হুমকি দিয়েছিলেন নুর।

নুসরাতের ভাইয়ের দাবি, নুর উদ্দিনই তার বোনের প্রধান হত্যাকারী।

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১১, ২০১৯

‘নুসরাত তুমি নও, বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে’

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশেই শায়িত হলো অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের বিচার চেয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নামাজের জানাজা। জানাজা পড়ান নুসরাতের বাবা মাওলানা মুসা।


জানাজাতে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। লাশ পৌঁছানোর পরে নুসরাতের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। এদিন শোক স্তব্ধ ছিল নুসরাতের বাড়ির উঠানটি। উপস্থিত মানুষের চোখে-মুখে ছিল শোকের ছায়া।

এদিকে টানা কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থেকে নুসরাতের মৃত্যুর পর আজ সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তারানা হালিম নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়ে সমাজের কিছু মানুষের অমানবিকতার রূপ তুলে ধরেছেন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া নুসরোতের পায়ের ‍অংশের একটি ছবি দিয়ে ‘নুসরাত তুমি নও, বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে’- শিরোনামে ফেসবুকে লিখেছেন তারানা হালিম।


তিনি লিখেছেন, নুসরাত, তোমার অগ্নিদগ্ধ শরীর, অসীম সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, ব্যান্ডেজে বাঁধা শরীরের মাঝে বেরিয়ে থাকা ফুটফুটে সুন্দর মুখ আর পা-জোড়া, তোমার ‘ডায়িং ডিক্লারেশন’- এর দৃপ্ত উচ্চারণ- ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’- আবারও এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করলো যে, সমাজের বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে, তুমি নও। তুমি বরং লাইফ সাপোর্ট থেকে এই অচল সমাজের অমানবিকতাকে প্রতিবাদ করতে বলে শান্তির জগতে চলে গেছো।

‘নারী-শিশু ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনা এখন সড়ক দুর্ঘটনার মতোই কেবল সংখ্যা হয়ে যাচ্ছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির প্রচেষ্টার অভিযোগ করার জন্য তোমার ভাষ্যমতে, মিথ্যা কথা বলে কয়েকজন নারী তোমাকে ছাদে নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিলে, তুমি তাতে রাজি না হয়ে ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’ বললে, তোমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তুমি তাদের ‘নারী কন্ঠে’র কথা বলেছো।’

তারানা হালিম বলেছেন, দুঃখ এটাই, কাকের মাঝে ‘নারী কাক’ বা ‘পুরুষ কাক’- এমন লিঙ্গ বিভাজন করি না আমরা, কিন্তু মানুষ বিভাজিত হয়ে যায় নারী ও পুরুষে। একটি কাক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে, মারা গেলে অনেক কাক কোথা থেকে যে এসে জড়ো হয়! তাড়স্বরে আওয়াজ করে। ওরা কী চিৎকার করে, না কাঁদে, জানি না। কিন্তু কিছু একটা করে। আর আমরা? যখন তোমার ডায়িং ডিক্লারেশনে, কয়েকজন নারী তোমার গায়ে আগুন দিয়েছে বলো, তখন মনে হয় মানুষ কি কাকের মতো হতে পারে না? মানুষ না-ই হোক। কারণ আমরা মানুষতো নই-ই, কাকও নই। তুমি যখন তোমার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে, তখন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা তোমার পক্ষে লড়ে গেলে, তুমি শক্তি পেতে। কিন্তু তা হয়নি। যখন ফায়ার সার্ভিসের লড়াকু সোহেল জীবন বাঁচাতে জীবন দেয়, জসিম নামে মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ছেলেটি চারতলার গ্রিল বেয়ে উঠে আগুন থেকে নারীর জীবন বাঁচায়, তখনই একদল মানুষ আরেক নারীর গায়ে আগুন দেয়। এতো ছোট একটি জীবন কেবল মানুষের ভালো করার জন্যই বড় সংক্ষিপ্ত- সেই জীবনে এতো হিংসা, এতো লোভ, এতো প্রতিহিংসা, এতো অমানবিকতা, এতো পাষণ্ডতা!

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতির পরিচয় দিয়ে অ্যাডভোকেট তারানা হালিম আরও লিখেছেন, নুসরাত, তুমি বলেছো- প্রতিবাদ করে যাবে, তোমার কাজ তুমি করেছো। তোমার কাছ থেকে শিখে এবার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের প্রতিবাদ করার পালা। শেষ থেকে শুরু হোক, নতুন করে পুরানো প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদে তোমার সহযাত্রী হবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

অবৈধ অধ্যক্ষ: আটকে যাচ্ছ জিবিজি কলেজের পদসৃজন

চাকরির মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সদ্য সরকারিকৃত জি.বি.জি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলম।  দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়,শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কয়েকদফা চিঠি  দেয়া হলেও তিনি তা আমলে নেননি। তাই আটকে যাচ্ছে পদসৃজনের কাজ 

অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলমের বয়স এমপিও ডাটাবেজ অনুযায়ী, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনবল কাঠামো-২১০৮ এর ১১.৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘‘বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবার সহকারী প্রধান,শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনা অবস্থাতেই পুন:নিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবে না।’’ জনবল কাঠামো অনুযায়ী,  মো. শামছুল আলমের  বয়স ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় অধ্যক্ষ পদে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।


জনবল কাঠামো-২০১৮ অনুযায়ী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের পারস্পারিক জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা তাদের সংশ্লিষ্ট পদে প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে কার্যকর করা হবে। তবে এমপিওভুক্তি একই তারিখ হলে  জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যোগদানের তারিখ বিবেচনা করা হবে। তবে  কোনো শিক্ষকের নিয়মিতকরণ হলে নিয়মতকরণের তারিখ থেকে  যোগদানের তারিখ হিসেবে গণ্য হবে। যোগদানের তারিখ একই হলে জন্মতারিখের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ হবে।

শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গতবছরের ১২ ডিসেম্বর অধ্যক্ষের দায়িত্বভার উপাধ্যক্ষ বা জেষ্ঠ্য কোনো শিক্ষকের কাছে হস্তান্তরের জন্য মো. শামছুল আলমকে চিঠি দেয়া হয়। অদ্যবধি তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

 ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গত ১৩ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলমকে কারণ দর্শানো নেটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সঠিক ব্যাখাসহ বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়। ওই সময়ের মধ্যে শোকজের জবাব না দেয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়,কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না পাওয়ায় কেন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির অনুমোদন বাতিল করা হবে না তার সঠিক ব্যাখাসহ ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে পুন:নিয়োগ দিয়োগ দিয়েছে। অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছিল ঢাকা বোর্ড থেকে। সেটির জবাবও দিয়েছি।

তথ্যসূত্র : দৈনিক শিক্ষা।

বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯

ঘাটাইলে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: ‘ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজ নিজেই করব, দালাল ও প্রতারক হতে দুরে থাকব’-এ শ্লোগনকে সামনে রেখে ভূমি ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি এবং গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে আজ বুধবার (১০ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে  ঘাটাইল উপজেলা ভূমি অফিস বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সকালে উপজেলা চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সহকারী কমিশনার ভুমি মোসা: নুর নাহার বেগম, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শামছুল হক। এ সময় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সহ সরকারী বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারী,মুক্তিযোদ্ধা,শিক্ষক, সাংবাদিক অন্যান্য পেশাজীবীগণ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তা গণ ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, বৈধ ভূমি ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান, অবৈধ ভূমি দখলদারদের উচ্ছেদসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তারেক ইস্যুতে ব্রিটেনের সঙ্গে চুক্তি করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার অনেকদিন ধরেই বলছে যে তারা বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে চান।

কিন্তু বাংলাদেশের এই উদ্যোগের ব্যাপারে সম্প্রতি ব্রিটেনের এক মন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে যা বললেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনুরোধে যথেষ্ট সাড়া মেলেনি। ব্রিটেনের ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের একজন মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড দুদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার কথা এক্ষেত্রে উল্লেখ করেছিলেন। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য এখন বলছে, প্রয়োজনে এরকম চুক্তি করতেও তারা প্রস্তুত।

তারেক রহমান গত প্রায় ১১ বছরের বেশি সময় ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে আছেন। ২০০৭ সালে যখন বাংলাদেশে একটি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন তার বিরুদ্ধে অনেক কটি দুর্নীতির মামলা রুজু হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুরোনো মামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয় ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলাসহ আরও কিছু মামলা।

এর মধ্যে তিনি তিনটি মামলায় দণ্ড পেয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের আদালতে এসব মামলার বিচারে তার সাজা হয়। এখন বাংলাদেশে ফিরলে তাকে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে হবে।

ব্রিটেনকে কী অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তরফ থেকে তারেক রহমানের ব্যাপারে ব্রিটেনকে যে চিঠি দেয়া হয়, তাতে কী অনুরোধ করা হয়েছিল?

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, তারেক রহমান যে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, সেই মামলার বিষয়গুলো তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের কাছে আবেদন করা হয়।

"আমরা ব্রিটিশ সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের যে সব তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। আদালতের রায়ে তার ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এবং তার অপরাধের ব্যাপ্তি ও প্রভাবের ব্যাপারে যেসব পর্যবেক্ষণ এসেছে, সেগুলো জানিয়ে আমরা তারেক রহমানকে সোজা বাংলায় ফেরত চেয়েছি।"

"আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে।"

ঢাকায় এসে কী বলেছিলেন ব্রিটিশ মন্ত্রী

তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানিয়েছে, সে বিষয়ে ব্রিটেনের দিক থেকে কোন নিশ্চিত খবর প্রথম জানা যায় ব্রিটেনের ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের মন্ত্রী মার্ক ফিল্ডের ঢাকা সফরের সময়।

ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাতের সময় মিস্টার ফিল্ডকে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ইমিগ্রেশন বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কেসের ব্যাপারে তারা কথা বলেন না। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে বাংলাদেশের দিক থেকে তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর একটি অনুরোধ তারা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের দুটি কথা বলেছিলেন। প্রথমত: বিষয়টি ব্রিটেনের হোম অফিস এবং আদালতের ব্যাপার, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আইন অনুযায়ীই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দ্বিতীয়ত তিনি বাংলাদেশ এবং ব্রিটেনের মধ্যে যে কোন বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

ব্রিটেনের এই বক্তব্যের পর এখন কী বলছে বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, দুদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়টি তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর পথে বাধা হতে পারে না। "যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন বলছে যে এটা হোম অফিসের বিষয় এবং এটা তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত, তখন আমাদের কথা হচ্ছে যে এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আরেকটু ভাল সহযোগিতা আশা করি । কারণ এটা বলে দায়িত্ব এড়ানোর এখানে কোন সুযোগ নেই।"

মি: আলম সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় ব্রিটেনকে সহযোগিতা করার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "আমরা বিভিন্ন সময় অনেক ব্রিটিশ নাগরিকের নানা অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে তাদের কনস্যুলার সেবা নেয়ার সুযোগ দিয়েছি, আইনগত সব সুযোগ দিয়েছি। এই বন্ধুত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।"

আর দুই দেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার যে প্রশ্ন এসেছে, সে ব্যাপারে শাহরিয়ার আলম বলেছেন, "এক দেশ থেকে আরেক দেশে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ফেরত নিতে চুক্তি না থাকাটা কোন বাধা হয় না। এর আগে আমরা একাধিক দেশের নাগরিককে ফেরত দিয়েছি, এরকম নজির আছে। আর চুক্তির কথা বললে, আমরা সেটা করার জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।"

বিএনপি কিভাবে দেখছে

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজা নিয়ে জেলে যাওযার পর ব্রিটেনে থাকা তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। মি: রহমান দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আওয়ামী লীগ সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।তাদের যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিএনপি বা এর নেতৃত্বের ওপর এবং জিয়া পরিবারের সদস্যদের ওপর, সেটাকে চরিতার্থ করার জন্যই তারা দীর্ঘদিন ধরে এধরণের কার্যকলাপ করে যাচ্ছে। তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসার জন্য আছেন। আমরা জানি যে, নিয়মিত তাকে থেরাপি নিতে হয়। সেক্ষেত্রে তাঁকে ফেরত নিয়ে আসার চেষ্টা অমানবিক।""আর আইনি বিষয় হলে আমরা আইনগত ভাবেই দেখব।"

মি: আলমগির এটাও বলেছেন যে, ব্রিটেন থেকে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে তারা বিশ্বাস করেন।

এদিকে লন্ডন থেকে অভিবাসন সম্পর্কিত একজন আইনজীবী সৈয়দ ইকবাল বলছিলেন,বিষয়টি যুক্তরাজ্য সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এটি আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রাথমিকে শিক্ষক হতে নারীদেরও স্নাতক যোগ্যতা

এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে নারী প্রার্থীদেরও শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক হতে হবে। আগে পুরুষদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক থাকা লাগলেও নারীরা এইচএসসি পাসের সনদ দিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষক হতে পারতেন।

আগের বিধিমালা সংশোধন করে মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা- ২০১৯ জারি করেছে।

বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই সরাসরি এবং পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন জানান, শিক্ষক নিয়োগে এখন নারী-পুরুষ সবার যোগ্যতাই স্নাতক করা হয়েছে। প্রাথমিকের শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা উন্নীত হওয়ায় তাদের বেতন গ্রেডও উন্নীতকরণে কাজ চলছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পান।

নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।

এতদিন সব প্রধান শিক্ষক ও পুরুষ সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে এই শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল।

আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য ২৫ থেকে ৩৫ বছর এবং সহকারী শিক্ষক পদের জন্য ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করা যেত।

এখন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর।

বিধিামালায় বলা হয়েছে, সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৬০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী, ২০ শতাংশ পোষ্য প্রার্থী এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে।

এছাড়া শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত নিয়োগের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং যথাযথ এজেন্সির তদন্তে চাকরিতে নিযুক্তির অনুপযুক্ত নন এমন প্রত্যয়নও পেতে হবে।