রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

ইন্টারনেটের ব্যবহার দৈনন্দিন কাজগুলোকে সহজ করে দিয়েছে। পারস্পরিক যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, কেনাকাটার মতো কাজগুলো ইন্টারনেটের বদৌলতে আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, কেনাকাটা ও টাকা পয়সার লেনদেন এর মতো দৈনন্দিন কাজ গুলো যখন অনলাইনের হাতে চলে গেছে তখন অনলাইনে নিরাপদ থাকাটা এখন বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যাতে অনলাইনে নিরাপদ থাকতে পারেন সেজন্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে ব্যবহার করলে নিরাপদ থাকা যাবে, অন্যকে নিরাপদ থাকতে কীভাবে উৎসাহিত করা যাবে এসব বিষয়ে কৌশল শেখানো হবে প্রশিক্ষণে।

দেশে যত মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের বড় একটা অংশই এখনও প্রযুক্তি সম্পর্কে ততোটা জ্ঞান রাখে না। বিভিন্ন সময় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টির কারণে শাস্তির মুখেও পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় অন্যরা সেই সুযোগ নিয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে বিপদে ফেলছে। এসব সমস্যা দূর করতে অনলাইন নিরাপদ থাকার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় অনলাইনে বিশেষ করে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অস্থির হয়ে ওঠে। এই মাধ্যমকে কেন্দ্র করে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। জনগণকে উত্তেজিত করতে উসকানি দেওয়া ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এসব ঘটনা যেন আর না ঘটে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যাতে কেউ কারও অনিষ্ট করতে না পারে এই প্রশিক্ষণে সেসব বিষয়ে শেখানো হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অপব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্যও এই প্রশিক্ষণ বড় একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

প্রযুক্তি ও ফেসবুক ‘সাক্ষরতার’ এই বিষয়টিকে সময়ের চাহিদা হিসেবে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘মানুষ অনলাইন ব্যবহারে একদমই সচেতন নন। অনলাইনে কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়, অনলাইনকে কীভাবে জঞ্জালমুক্ত রাখা যায় এসব বিষয়ে একদমই সচেতন নন তারা। আমাদের কাজটি মূলত সচেতনতা তৈরির।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘শুধু সচেতন করলেই হবে না, তাদের প্রযুক্তিতে সাক্ষর করে তুলতে হবে। এজন্যই বই তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশনা মেনে চললে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র নিরাপদ থাকবে।’

সরকারের আইসিটি বিভাগে সব সময়ই কোন না কোন প্রশিক্ষণ চলছে। প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ, কল সেন্টার কর্মী ও উদ্যোক্তা তৈরির মতো অসংখ্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আইসিটি বিভাগ। এসব প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সেই সঙ্গে এর সতর্কতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিটি বিভাগ এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল হিসেবে একটি পুস্তিকা তৈরি করেছে। ওই পুস্তিকায় প্রশিক্ষণের যাবতীয় বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। অনলাইন ব্রাউজিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারের সময় যাতে কোনও ধরনের বিব্রতকর অবস্থা তৈরি না হয় সেজন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে এই বই গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের আইসিটি বিভাগে যেকোনও প্রশিক্ষণের সময়ও দেওয়া হবে বইটি।

ঈদে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরবে মানুষ

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ-উল-আযহা। ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সাজ সাজ রব। উৎসব মুখর আমেজ বিরাজ করছে দেশের আনাচে কানাচে। কোরবানির পশু সেই আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই ঈদে কোরবানির পশু থাকে মূল কেন্দ্র বিন্দুতে। বিভিন্ন এলাকার পশুর হাট থেকে ভেসে আসে মাইকিং।

প্রতি বছরের মতো এবারও দূরে থাকা প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য রাজধানী ছেড়ে নিজের শিকড়ের কাছে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। সাধারণ মানুষের ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে ছাড়া হয়েছে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকেট। কাজের জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষ গুলো নাড়ির টানে ছুটে যায় বিশেষ দিনটি আরও স্মরণীয় করে রাখার জন্য। যাপিত জীবনের সকল সমস্যা উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে তারা কুন্ঠা বোধ করেনা। কারণ প্রিয়জনের হাসির মূল্য যে এর থেকে অনেক বেশি মূল্যবান। বাস ট্রেনের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহে ভোগান্তি কমাতে অনলাইনেও টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

টিকেট সংগ্রহ শেষে এবার তাড়া থাকে বাড়ি ফেরার। কর্মচঞ্চল ঢাকাকে অলস করে নাড়ির টানে ছুটে যায় সকল মানুষ। এই যাত্রাকে আরো নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত মহাসড়কের ট্রাফিক পুলিশ। সাধারণত কোরবানি ঈদে সড়কের উপর চাপ একটু বেশি থাকে। কারণ বাড়ি ফেরা মানুষের সাথে যোগ হয় পশু আনা নেয়ার গাড়ি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সড়ক ও নৌ পথে কোরবানির পশু আনা নেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকে বেপারী ও খামারিরা। সেজন্য মহাসড়কে গাড়ির সংখ্যা বেশি থাকবে কিন্তু কোনো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ। যাত্রীদের ঈদের সময় দীর্ঘক্ষণ যানজটে যেন বসে থাকতে না হয় এই জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাইওয়েকে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে যানজট নিরসনে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে চার লেন হাইওয়ে।

ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছে নিরাপত্তা বাহিনী, সড়ক ও পরিবহন অধিদফতর। ঠিক সময়ে বাড়ি গিয়ে ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করবে সকলে। এটি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮

ঘাটাইলের কৃষক আনিসুরের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমানের বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, কুতুবপুর গ্রামের ওমর আলী মাস্টারের ৫ একর জমি দুই বছর মেয়াদে লীজ নিয়ে ঘাটাইল উপজেলার ফুলমালির চালা গ্রামের আনিসুর রহমান ৬ হাজার অমৃতসাগর জাতের কলার চাষ করেন। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ওইসব কলাগাছে কলার ছড়ি ধরবে (ফলন হবে)।

শুক্রবার রাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কুতুবপুর গ্রামের শাজাহান মিয়া (৫০), তার ছেলে লিটন মিয়া (২৮), মেয়ের জামাতা মজনু মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের ফজলু মিয়া (৪০) মিলে ওই বাগানের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলে।

বাগানে কর্মরত শ্রমিক মরিয়ম বেগম (৪৫) জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা বাগান পরিচর্যা করে বাড়ি চলে যাই। পরদিন শনিবার সকালে এসেই গাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।

কলাবাগান মালিক আনিসুর রহমান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ধারদেনা করে অন্যের জমি লীজ নিয়ে কলার বাগান করেছি । শাজাহান ও তার লোকজন মিলে রাতের আধারে আমার কলাগাছগুলো কেটে ফেলেছে।

ঘাটাইলে প্রতিবন্ধীদের মাঝে ইউএনও’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউএনও’র ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ১০জন প্রতিবন্ধীর মাঝে সেমাই, চিনি, তৈল ও লুডুস বিতরণ করেন। তিনি বিকেলে প্রতিবন্ধীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন।
এসময় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মেছের আলী, মহিলা কাউন্সিলর রাশেদা বেগম ও আনন্দ টিভি ও দৈনিক আমার সংবাদ প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইল পৌরসভার ভিজিএফ এর চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে ঘাটাইল পৌরসভার উদ্যোগে দুঃস্থ্য, অসহায় ও হতদরিদ্র ৪ হাজার ৬শত ৩২ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০ টায় পৌরসভা প্রাঙ্গণে ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান ভিপি শহীদ এ চাল বিরতণের উদ্বোধন করেন।

চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল পৌর সভার প্যানেল মেয়র লিটন সরকার, কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম, মহিলা কাউন্সিলর মোসা. রাশিদা বেগম প্রমুখ।

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওজন করে কোরবানির পশুর বেচাকেনা

দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওজন মেপে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। হাটের ঝক্কিঝামেলা এড়াতে এবং স্টেরয়েড বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশনমুক্ত অর্গানিক পশু কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন ওজনে বিক্রি হচ্ছে এমন গরুর ফার্মে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ওজন করে পশু বেচাকেনায় কোনও বিধিনিষেধ নেই বলে জানিয়েছেন আলেমরা।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও দেলপাড়াসহ শহরের বেশ কয়েকটি গরুর খামারে ওজনে বেচাকেনা হচ্ছে কোরবানির পশু। গত বছর দুই-তিনটি ফার্মে এই পদ্ধতিতে গরু বেচাকেনা হয়েছিল। 

এ বছর আরও বেশ কয়েকটি ফার্মে এ পদ্ধতিতে গরু বেচাকেনা হচ্ছে। ৩৩০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বেচাকেনা হচ্ছে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু। আবার বড় গরু বেচাকেনা হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে। বিক্রেতাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে মোট ওজনের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ গরুর মাংস পাওয়া যাবে। তারা জানান, প্রতিদিনই এসব গরুর খামারগুলোতে আগ্রহী ক্রেতারা তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসছেন এবং ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন। গরু পছন্দ হলে ওজন স্কেলে উঠিয়ে পরিমাণ দেখে বায়না করে খামারেই গরু রেখে যাচ্ছেন। ঈদুল আজহার একদিন বা দুইদিন আগে গরু নিয়ে যাবেন।

দেলপাড়া দেশি অ্যাগ্রো গরুর ফার্মে কথা হয় দিল আহসান গালিব নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি জানান, ‘হাট থেকে গরু কিনতে গেলে ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ, দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরুকে স্টয়েরেড বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কিনা এটা গরু দেখে বোঝার উপায় নেই। গত বছর হাট থেকে ইনজেশন পুশ করা গরু কিনে ধরা খেয়েছি। গরু জবাই করে মাংস ফ্রিজে রাখার পর তা পচে গিয়েছিল।’

নগরীর চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, ‘তিন বছর আগে হাট থেকে গরু নিয়ে কোরবানি দিয়েছিলাম। তিনটি গরুর মধ্যে একটি গরু ইনকেশন দেওয়া বা স্টেরয়েড খাওয়ানো ছিল। ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রিজে রাখা সব মাংস পচে দুর্গন্ধ বের হয়ে যায়। এরপর গত বছর থেকে দেশীয় ফার্মের অর্গানিক গরু কোরবানি দেওয়া শুরু করেছি। দেশি অ্যাগ্রো থেকে গত বছর দুটি গরু ওজনে কিনে নিয়ে কোরবানি দিয়েছি। মাংস খুবই ভালো হয়েছে। তাই এবারও একই ফার্ম থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য তিনটি গরু নিয়েছি। ওজন স্কেলে গরু বেচাকেনা হওয়ায় সুবিধা আছে। আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুখিদের মধ্যে বিলানোর জন্য যে পরিমাণ মাংস প্রয়োজন তা বুঝে গরু নিয়েছি। এতে ঝুঁকি কম । মাংস ভালো পড়বে এটাও নিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, কোরবানির প্রথম শর্ত হচ্ছে সুস্থ-সবল পশু কোরবানি করা।’

পুরান বন্দরের সিকান্দার অ্যাগ্রো ফার্মে কথা হয় ক্রেতা আবু জাফরের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘ওজন স্কেলে গরু মেপে বেচাকেনার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ঠকে যাওয়ার চিন্তা বা হারজিতের ভয়ের কোনও স্থান নেই। বেচাকেনায় দরদাম নিয়ে চেঁচামেচি করতে হচ্ছে না। আবার কোরবানিদাতা তার বাজেট অনুযায়ী সুস্থ-সবল পশু কিনতে পারছেন বলে তারাও খুশি। একজন ক্রেতা প্রয়োজন অনুযায়ী তার পছন্দের গরুটি কিনতে পারছেন।’

নারায়ণগঞ্জ পুরান বন্দর সিকান্দার অ্যাগ্রো’র স্বত্বাধিকারী সিকান্দার হোসেন জানান, ‘স্টেরয়েড ও মোটাতাজাকরণ ইনজেকশনমুক্ত পশু খামার থেকে খুব সহজে কিনতে পারছেন ক্রেতারা। গত বছর বন্দরের আমাদের এখান থেকে ওজনে ৯৫টি গরু বিক্রি করেছি। এবার আমার খামারে কোরবানির ঈদের জন্য ৪৮টি গুরু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সাড়া বেশি পড়েছে। আমি মনে করি সুস্থ-সবল পশু কোরবানি করার জন্য অর্গানিক গরু সবচেয়ে উত্তম। তাই ক্রেতারা ফার্ম থেকে গরু নিচ্ছেন। এখানে ক্রেতা বিক্রেতাদের ঠকার কোনও চান্স নেই। কারণ, আমরা ধরেই নেই তাজা গরু ওজন স্কেলে ওঠানোর পর যা ওজন হবে, কোরবানি দেওয়ার পর সেখান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মাইনাস যাবে। ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ মাংস পাওয়া যাবে। এই হিসাব করেই এখানে গরু বেচাকেনা হচ্ছে।’


ফতুল্লার দেলপাড়া মিছির আলী কলেজের পাশে চার বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন দেশি অ্যাগ্রো। এই খামারের অংশীদার আহসান হাবিব জানান, ‘গত বছর আমাদের ফার্ম থেকে ১৪টি গরু ওজনে বিক্রি করা হয়েছে। এবার ঈদে ২৮টি গরু প্রস্তুত করেছি। এরই মধ্যে বেশিরভাগ গরু ক্রেতারা কিনে নিয়েছেন। বাকি গরুও খামার থেকেই বেচাকেনা হবে বলে আমরা আশা করছি। এ বছর ওজনে গরু বেচাকেনায় ক্রেতাদের বেশ সাড়া পাচ্ছি। একসময় এই পদ্ধতিতে গরু বেচাকেনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। কারণ, বর্তমানে ক্রেতারা ঝক্কিঝামেলা মুক্ত এবং ফ্রেশ জিনিস চায়। এতে দুই-এক হাজার টাকা বেশি খরচ করতেও ক্রেতাদের বাধে না।’


নারায়ণগঞ্জের ফকিরটোলা মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মুফতি সিরাজুল ইসলাম মনির জানান, ‘ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ওজন স্কেলে গরু মেপে বেচাকেনায় কোনও বিধিনিষেধ নেই। কারণ, হাট-বাজার থেকে মুরগি, মাছ, গরুর মাংস ওজনে মেপেই কেনাবেচা হচ্ছে। ২০ বছর আগে বাংলাদেশের কোনও হাট-বাজারে হাঁস, মুরগি, মাছ কেজি দরে বেচাকেনা হয়নি। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার কারণে এখন এসব কেজি দরে বেচাকেনা হচ্ছে। গরু ওজন করে বেচাকেনায় কেন বিধিনিষেধ হবে? ইসলামের শরিয়তে বলা আছে, কোরবানির পশু হতে হবে সুস্থ-সবল। মোটাতাজাকরণ ই‌নজেকশন পুশ করা স্টেরয়েডযুক্ত অসুস্থ পশু কোরবানি করলে তা ঠিক হবে না। এজন্য কোরবানিদাতাকে পশুর হাট বা খামার যেখান থেকেই কোরবানির পশু কেনা হোক না কেন, সেটি যেন সুস্থ-সবল হয় সেটি দেখে কেনা উচিত।’

বাস লঞ্চ ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের স্রোত

শুক্রবার ঈদযাত্রার প্রথমদিনই ঘরমুখী মানুষের ভিড় ছিল উল্লেখ করার মতো। বাস ও রেল স্টেশনগুলোতে ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মঙ্গলবার থেকে মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করলেও শুক্রবার স্টেশনে স্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

রাজধানীর কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ, মহাখালী, গাবতলী, সায়দাবাদ, শ্যামলী, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড ও সদরঘাট লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের যেন ছিল স্রোত। ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ভিড় থাকবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

শুক্রবার সকাল থেকেই পরিবার- পরিজন নিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কাউকে কাউকে আবার টিকিটের খোঁজও করতে দেখা গেছে। লঞ্চ, বাস ও ট্রেনের ছাদে চড়েও যেতে দেখা গেছে যাত্রীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিটি ট্রেনই আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। শুক্রবার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীদের প্রথম যাত্রা ছিল। এ দিন মধ্যরাত পর্যন্ত ৩৩টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ ৯৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে যায়। প্রতিটি ট্রেনই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন ও দরজায় ঝুলে যেতে দেখা যায় যাত্রীদের। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি। সূত্র বলছিল, যত সংখ্যক যাত্রীর টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করার কথা শুক্রবার থেকেই তার দ্বিগুণ যাত্রী ট্রেনে চড়ে বসেছে।

কথা হয় মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেসের যাত্রী শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভাই ১৯ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৪টি টিকিট কেটেছিলাম। এবার যাত্রা করার পালা। ভালো লাগছে। একই ট্রেনের যাত্রী শামীম জানান, তারা ৫-৬ জন বন্ধু মিলে স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট কাটতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে বিনা টিকিটে গ্রামের পথে ছুটতে হচ্ছে।

কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্ত্তী জানান, ঈদযাত্রার প্রথমদিন অধিকাংশ ট্রেনই সঠিক সময়ে কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে। তবে একতা, দ্রুত যান ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট থেকে সোয়া এক ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। ভিড়ের কারণে কিছু ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছাড়ছে। একেকটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছামাত্রই হুড়মুড় করে যাত্রী ট্রেনে উঠে পড়ছেন। ট্রেনটি পরিষ্কার করারও সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, যাত্রার দিন শুধু যাত্রীদের অনুরোধের ভিক্তিতে ১০-১৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত হলেও সবাই টিকিট কাটছেন না।

তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে আমরা মাইকিং করছি যাতে কোনো অবস্থায়ই ট্রেনের ছাদে না ওঠেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা, ট্রেনের ছাদেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৪৭ হাজার টিকিটধারী যাত্রী কমলাপুর ছাড়ছেন। কিন্তু এর বিপরীতে প্রায় ৮০-৯০ হাজার যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। আসনবিহীন টিকিট কাটার একটা বিষয় থাকলেও ঈদের সময় অনেকেই বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছেন।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াছিন ফারুকী জানান, ট্রেনের ছাদে ওঠা রোধ করা যাচ্ছে না। যাত্রীরা ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিনেও উঠে বসছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এক ট্রেনযাত্রী বলছিলেন, টিকিট নিয়ে ট্রেনে উঠতে পারলেও সিট পাইনি। ট্রেন স্টেশনে আসার পরপরই চলন্ত অবস্থায়ই অনেকে উঠে সিট দখল করে বসে যাচ্ছেন। এ নিয়ে রেল পুলিশের বক্তব্য- এত ভিড়ে আসলে কিছু করারও দেখছি না।

রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও ছিল ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। টিকিট পাওয়া, যানজট, গরম সব মিলিয়ে নানা ঝক্কি ও কষ্ট থাকলেও ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে অনেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

অনেক যাত্রী বলছিলেন, ঈদের ছুটির সঙ্গে রবি ও সোমবারের বাড়তি ছুটি মিলিয়ে বেশ লম্বা ছুটিই পাওয়া গেছে এবার। রোজার ঈদে যেতে পারিনি। কিন্তু কোরবানির ঈদ গ্রামের বাড়িতে না করলে হয় না। আমরা খুবই আনন্দিত। সড়কের অবস্থা ভালো নেই, শতকষ্টেও বাড়ি যাচ্ছি। বাড়ি পৌঁছতেই সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে বলে জানান বাসযাত্রীদের অনেকে।

রংপুরের যাত্রী বিল্লাল হোসেন জানান, ৭ বন্ধু মিলে গ্রামে যাচ্ছি। রাস্তায় অনেক ঝামেলা হবে এটা স্বীকার করেই যাত্রা করেছি।

শ্যামলী পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক জীবন চক্রবর্তী জানান, উত্তরবঙ্গে এবার তেমন কষ্ট নেই। শুধু বঙ্গবন্ধু সেতুর পরে বগুড়া পর্যন্ত সড়ক খারাপ হওয়ায় ওই অংশে বাস ধীরগতিতে চলছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে ঘাটে প্রচণ্ড জট। স্রোত ও নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচলের সমস্যা হওয়ায় এ দুর্ভোগ।

এ ছাড়া আমিন বাজারে গরুর হাট বসায় দু-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে ঢাকায় ঢুকতে। একই কারণে ঢাকা থেকে বাসগুলো ছেড়ে হাট এলাকা পার হতে বেশ সময় লাগছে। সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গিয়েও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেল। একের পর এক বাস ছেড়ে যাচ্ছে।

বাস মালিক সমিতির সদস্য জয়নাল আবেদিন জানান, এবার আগে থেকেই বাসে করে যাত্রীরা ঘরমুখী হচ্ছেন। শুক্রবার যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে ভিড় বাড়বে। তিনি বলেন, যাত্রীরা ছাদে চড়ছেন। যাত্রীদের অনুরোধেই এমনটা করতে হচ্ছে।

ঢাকা-বগুড়া-নওগাঁ রুটে চলাচলকারী একতা পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা আওয়াল জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সব বাস সঠিক সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। যাত্রীরাও সময়মতো আসছেন। অন্যবারের চেয়ে এবার টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো।

ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চলাচলকারী তিতাস পরিবহনের যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রোকেয়া আক্তার বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার বাস ছাড়বে। গ্রামে বাবা-মা অপেক্ষা করছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার অনুভূতিই আলাদা। সময়মতোই বাস ছাড়বে বলে আশা করছি।

লঞ্চঘাটেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। সকাল থেকেই সদরঘাট থেকে লঞ্চগুলো সময় মেনে ছেড়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

কথা হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবির জানান, এবারও আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। কোনো অবস্থায়ই লঞ্চের ছাদে লোক উঠতে দেয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবার ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সেই প্রতিবন্ধী সাইফুলের পাশে ঘাটাইলের ইউএনও দিলরুবা আহম্মেদ

আমার সংবাদ ডেস্ক:  অবশেষে শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুলকে ভাতা কার্ড করে দিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ।

সেই সাথে সাইফুলের থাকার জন্য ঘর ও তার চিকিৎসার আশ্বাস দেন ইউএনও। ২০ বছর ধরে শিকলে বন্দি সাইফুল শিরোনামে আমাদের ঘাটাইল ডটকম সহ কয়েকটি পিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গত ১৪ আগস্ট একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি ইউএনও’র নজরে আসে। পরে ইউএনও দিলরুবা আহম্মেদ উপজেলা সামাজ সেবা অফিসার সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর মোসা.রাশিদা বেগম সাইফুলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সাইফুলকে শিকলে বন্দি অবস্থায় দেখতে পান। পরে ইউএনও তাৎক্ষণিক সাইফুলকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করেন। সেই সাথে সাইফুলের থাকার জন্য ঘর ও তার চিকিৎসার আশ্বাস দেন ইউএনও।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধারিয়াল গ্রামের মৃত বহর আলী মন্ডলের ছোট ছেলে সাইফুল শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাকে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। মা রহিমা বেগম তার দেখাশোনা করে। গত ৩০ বছর আগে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই সাইফুলের জন্ম হয়। বয়স বারার সাথে সাথে সাইফুলের পাগলামী বেড়ে যায়। 

একাধিকবার সে হারিয়েও যায়। এর পর ১০ বছর বয়সে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে তার শিকলে বন্দি জীবন। এই ৩০ বছরে প্রতিবন্ধী সাইফুলের কপালে জোটেনি কোনও সরকারি ভাতা। সাইফুলের মা রহিমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ, টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারিনি। চিকিৎসা করতে পারলে হয়তো আমার ছেলে ভালো হতো। তার ছেলের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেয়ায় এবং সাইফুলের চিকিৎসার আশ্বাসে তিনি অত্যন্ত খুশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহম্মেদ বলেন, পত্রিকায় সংবাদ পড়ে বিষয়টি জানতে পেরে সাইফুলের জন্য ভাতা কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তার থাকার জন্য একটি ঘর ও তার চিকিৎসার ব্যাপারেও প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮

সড়কে আইন মানাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী উঠানামা করা যাবে না। স্টপেজ ছাড়া অন্যত্র বাসের দরজা বন্ধ থাকবে। বাসের দুটি দৃশ্যমান স্থানে চালক ও কার সহকারীর ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স নম্বর ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।

গণপরিবহন বিশেষ করে বাসের চালক, মোটরসাইকেল আরোহীর পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে চলাচলকারী পথচারীকেও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী ২০ আগস্ট থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু করে।

গত ২৯ জুলাই ঢাকারর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দু্ই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়, তাতে নগরীতে চলাচলের ক্ষেত্রে যেসব নৈরাজ্য আছে, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি জানিয়েছে, সরকার সেগুলোর আলোকে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। পরিবহন মালিকরাও এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নগরীতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তিতে বাস চালানোর বদলে নির্ধারিত বেতনে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছে। এরই মধ্যে এটি কার্যকর হয়েছে আর এতে যাত্রীর জন্য হাকডাকও কিছুটা কমে এসেছে।



তবে রাজধানীতে চলাচলে বিশৃঙ্খলার আরও নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে আছে যেখানে যেখানে যাত্রী উঠানামা, পথচারীদের বিশৃঙ্খল চলাচলও এর পেছনে দায়ী।

সদ্য সমাপ্ত ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া হতাশা ভরা কণ্ঠে বলেন, নগরের ৯০ শতাংশ অধিবাসী ট্রাফিক আইন মানতে চায় না।

এর মধ্যে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন’ বিষয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২০ আগস্ট থেকে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দুজন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট পরা এবং সিগন্যালসহ সব ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করতে হবে।

মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসে চালক এবং যাত্রীর সিট বেল্ট ব্যবহার করতে হবে। ঢাকায় যেসব স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস আছে সেসব স্থানে উভয় পাশে ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

ঢাকার সব জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা, ফুটপাথ হকারমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগনাল ব্যবস্থা চালু করে তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বুঝিয়ে দিতে হবে। একই সময়ের মধ্যে ঢাকায় রিমোট কন্ট্রোলের অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং চালু করতে হবে।

সড়ক ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে উপর বা নিচ দিয়ে চলাচল করা না যায়। মহাখালী ফ্লাইওভারের পর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ন্যূনতম দুটি স্থানে স্থায়ী মোবাইল কোর্ট/আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে যানবাহন ও ফিটনেসের লাইসেন্স পরীক্ষা করা হবে।

ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী, স্কাউট এবং বিএনসিসির সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তর এসব সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে কার্যকর করবে বলে সভায় বলা হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৮ আগস্টের মধ্যে ঢাকা শহরের সড়কের যেসব স্থানে ফুটওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস রয়েছে সেসব জায়গার ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

২০ আগস্ট এরমধ্যে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডার পাসে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি লাইট, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

৩০ আগস্টের মধ্যে আন্ডারপাসের বাইরে আয়নার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ এসব ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল যারা তাদেরকে ‘প্রশংসাসূচক’ সম্বোধনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে যেসব কার্যক্রম চলেছিল সেগুলো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহৃত রাখতে হবে।

অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং গাড়ির ফিটনেস দেয়ার সময় অবশ্যই পরিবহন দেখে তারপর ফিটনেস দিতে হবে। রুট পারমিট বা ফিটনেস বিহীন যানবাহন দ্রুত ধ্বংস করার সম্ভাবতা যাচাই করতে হবে।

শিক্ষানবিশ লাইসেন্স দেয়ার সময় তিনি গাড়ি চালাতে যানেন কি না, সেই পরীক্ষা নিতে হবে এবং উত্তীর্ণদের দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স দিতে হবে। এসব কাজের জন্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ঘাটতি থাকলে যথাযথ কর্তপক্ষের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘এখনও নতুন নির্দেশনার বিষয় আমাদের কাছে আসেনি। বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে আমাদের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা ছিলেন। নির্দেশনা পেলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬, ২০১৮

খালেদার স্বীকারোক্তি: ১৫ আগস্ট জন্মদিন না

কারান্তরীণ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন কারা চিকিৎসকরা। আজ বুধবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি মোটামুটি সুস্থ ও ভালো আছেন। মাঝে মাঝে তাঁর শরীরে সামান্য ব্যথা অনুভূত হয়। চিকিৎসকরা বেগম জিয়াকে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ দেন। প্যারাসিটামল ছাড়া আপাতত তাঁর আর কোনো ওষুধ দরকার নেই বলেই জানান চিকিৎসকরা। এসময় একজন কারা কর্মকর্তা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান, আজ তো আপনার জন্মদিন, জন্মদিন উপলক্ষে আপনার জন্য বিশেষ কিছুর আয়োজন করবো? উত্তরে খালেদা জিয়া স্পষ্ট ভাবে বলেন, ‘আজ আমার জন্মদিন না। আমার জন্মদিন সেপ্টেম্বর মাসে।’
১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করে আসছেন। একাধিক সূত্রে বেগম জিয়ার বেশ কয়েকটি জন্মদিনের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরীক্ষার মার্ক-শিট অনুসারে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। বিয়ের কাবিননামা অনুসারে তাঁর জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৯ আগস্ট। পাসপোর্ট অনুসারে তাঁর জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। কোথাও ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন বলা হয়নি। এরপরও বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই শোক দিবসে জন্মদিন পালন করেছেন। জাতীয় শোক দিবসের মহিমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও কটাক্ষ করতে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে তিনি এই নকল জন্মদিন পালন করেন।
অতিসম্প্রতি বেগম জিয়ার পৈশাচিক নকল জন্মদিন আয়োজনে ভাটা পড়েছে। গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক কারণেই বেগম জিয়া শোক দিবসে নকল জন্মদিন পালন করছেন না। আর এবার তো কারাগারে তাই ঘটনা করে জন্মদিন পালনের কোনো উপায়ই নেই।
১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার নকল জন্মদিন পালন নিয়ে অনেক বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা গেছে। তবে বর্তমানে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া তাঁর প্রকৃত জন্মদিনের কথা বলে, সত্য কথা স্বীকার করে নিলেন।
কথায় আছে, বিপদে পড়লে মানুষ সত্য কথা বলে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ খালেদা জিয়া। গত ছয়মাস ধরে কারাগারে থেকে ঘোর বিপদে তাঁর মুখ খুলেছে। আর এবার ওই খোলা মুখ থেকে কিছু সত্যও পাওয়া যাচ্ছে, যা কিছুটা বিরলই বলে মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে স্বীকারোক্তির পর দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে বঙ্গবন্ধুর জন্যই খালেদা জিয়ার সংসার টিকেছিল, তাঁর মৃত্যু দিবসকেই হেয় করতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কেউ পৈশাচিক আনন্দ কেউ করতে পারে। যদি এমন কাজ কেউ করে, তাহলে সে কেমন মানুষ?